শহীদ আবরার ও বুয়েট

শরীফুল ইসলাম শরীফ

বিনোদন ডেস্ক: 

—শহীদ আবরার ও বুয়েট—
–শরীফুল ইসলাম শরীফ–

মাগো তোমায় ছেড়ে এসে লাগছে নাকো ভালো,
সত্যিই মা পড়ার টেবিলে দেখছি যা সব কালো।
অংক গুলো ভষ্মী হয়ে উড়ে উড়ে যায়,
খাতা-বইয়ে তুমি,বাবা ছোটনকে দেখা যায়।

ছুটি শেষে আসার সময় পিছু পিছু হেঁটে,
চোখ দু’টি মা মুছে ছিলে শাড়ীর আঁচল দিয়ে।
বুকটি আমার হা-হা করে কাঁদতে নাহি পারি,
কষ্ট বুকে জুমিয়ে আমি মেঠো পথটি ধরি।

পড়া শোনা করিস বাজান অনেক বড় হতে ;
লক্ষি সোনা ভালো থাকিস সব ভাইদের সাথে।
বার বার তুমি ফুঁফিয়ে কেঁদে বলেছিলে শেষে,
নাড়ু গুলো সবাইকে দিস মা’য়ের কথা বলে।
দু’চোখ আমার ঝাঁপিয়ে গেলো বারেক ফিরে না চাই,
এই দেখা মা শেষ দেখা হবে ভাবতে নাহি তাই।

স্বপ্ন আমার আকাশ ছোঁয়া স্বদেশ ভূমির পক্ষে,
সব নেকড়ে যুক্তি করে খাবলে খাচ্ছে তাঁকে।
স্বাধীনতার লাল সূর্য ছিনিয়ে আনতে বলে,
বাপে-মা’য়ে যুদ্ধ করে বুয়েট পাঠিয়ে ছিলে।
দেশের সেরা বিদ্যাপীঠেও হায়নাদের বসবাস,
তোমরা কিছুই দেখো নাই মা আমি দেখেছি সব!
কেমন করে মানুষ মারে এই মানুষের জাত,
সাপ পিটানো মার দিয়েছে সারা শরীরে আমার।

স্বাধীনতা মানচিত্র আর ভূ-খণ্ডটি তোমার,
সাম্রাজ্যবাদ আর আধিপাত্যের,
বিরুদ্ধে লড়াই করবে সবাই।
এই কথাটি বক্ষে চেপে লেখেছি ক’টি লাইন,
তাঁতেই তাদের মা এতো জ্বালা ভষ্ম করে স্বদেশ?

গভীর রাতে ধরে নিল বুয়েট ২০১১ রুমে,
যেখানে ওরা সবাই মিলে মদ উল্লাসে মাতে।
মুখটা আমার বাঁধলো সবাই কতো গালি দিয়ে,
জানতো কে মা শেষ স্বপ্নটার অপমৃত্যু হবে।
অনিক যখন একাই মারে ১২৭ বারি,
২২ জনের কথা কি আর সব বলতে পারি?
বুকের পাঁজর ফেটে যায় মা তোমায় ডেকে মরি,
কোথাও কেউ নাই;
আমার জন্য একটু খানি লড়ি!
আল্লাহকে যে কতো ডেকেছি এই নিদানে পড়ে,
কেউ শোনেনি আমার কথা পানি দেয়নি মুখে!

ভোরের আজান শুনতে শুনতে,
প্রান পাখিটা যাবে!
খাতা-কলম বই পুস্তক কাঁদছে সবাই বসে।
দেশ মা তোমার বাসলে ভালো মরতে হবে এসে!
ওমা এমন করে কেউ কি তোমায়,
ভালো বেসেছে শেষে?

—(উৎস্বর্গ শহীদ আবরারের মা-বাবাকে)।

আরো পড়ুন