ইলিশ শিকার বন্ধ থাকছে ২২ দিন

মোঃশরিফুল আলম সোয়েব,চরফ্যাশন:
ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্নে গত ৮ অক্টোবর মধ্যরাত থেকে ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে ২২ দিনের জন্য ইলিশ শিকারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার।এ সময় ইলিশ শিকার, পরিবহন, মজুত, বাজারজাত ও ক্রয়-বিক্রয়ও নিষিদ্ধ থাকবে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক সময়ের কন্ঠকে জানিয়েছেন ইলিশের প্রজনন   মৌসুম হওয়ায় ২২ দিনের জন্য ভোলার নদীতে মাছ ধরার ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কেউ এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে জেল ও জরিমানার বিধান রয়েছে। জেলেরা যাতে এই নিষেধাজ্ঞা সঠিকভাবে পালন করে এজন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এ সময় জেলেদের সংসার চালাতে যাতে কষ্ট না হয় সেজন্য তাদের মাঝে সরকারিভাবে চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এছাড়াও এ সময় ঋণগ্রস্ত জেলেদের কাছ থেকে যাতে ঋণের কিস্তি আদায় না করে সে জন্য সব এনজিও এবং ব্যাংককে চিঠি দেয়া হয়েছে। কোনো ব্যাংক ও এনজিও যদি এই নির্দেশ না মানে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আজ সকালে ভোলা সদরের বিভিন্ন মৎস্যঘাট ঘুরে দেখা গেছে, সরকারি নিষেধাজ্ঞাকে স্বাগত জানিয়ে অনেক জেলে নৌকা ও ট্রলার নদী থেকে উঠিয়ে নিচ্ছেন। আবার কেউ কেউ ট্রলার থেকে ইঞ্জিন খুলে ও মাছ ধরার জাল বস্তায় ভরে বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছেন।
চরফ্যাশন শামরাজ মৎস ঘাট  এলাকার জেলে মো রুহুল আমিন ও ঈসমাইল জানান, সরকার আমাদের ভালোর জন্য ২২ দিন নদীতে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। আমরা তা সঠিকভাবে পালনের জন্য নৌকা ও ট্রলার উপরে উঠিয়ে নিচ্ছি। এই ২২ দিন নদীতে মাছ শিকারে যাব না।
 কারণ মাছ ধরা বন্ধের আগে আমরা চাল পেয়েছি এবং সমিতির কিস্তির জন্য ব্যাংক ও এনজিওর অফিসাররা আমাদের তাড়া দেবে না। আমরা সরকারের এমন পদক্ষেপকে স্বাগত জানাই। এ বছর আমরা সঠিকভাবে সরকারের নিষেধাজ্ঞা মেনে চলব।!
ভোলা সদর উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান সময়ের কন্ঠকে জানান, ইলিশের প্রজনন মৌসুম হওয়ায় মঙ্গলবার রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে ৩০ অক্টোবর রাত ১২টা ১ মিনিট পর্যন্ত মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে সব ধরনের মাছ শিকারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এজন্য আমরা জেলেদের নিয়ে বিভিন্ন ধরনের সতেচনামূলক সভা করেছি। আশাকরি এ বছর জেলেরা এ নিষেধাজ্ঞা সঠিকভাবে পালন করবেন।
আরো পড়ুন