আল্লামা কাযী মুহাম্মদ নুরুল ইসলাম হাশেমীর ইন্তেকালে ড. আবু রেজা নদভী এমপি’র শোক জ্ঞাপন

আব্দুল ওয়াহাব, লোহাগাড়া (চট্রগ্রাম)

 প্রথিতযশা আলেম, পীর আল্লামা কাযী মুহাম্মদ নুরুল ইসলাম হাশেমী সাহেবের ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করে এক বিবৃতি প্রদান করেছেন চট্টগ্রাম-১৫ সাতকানিয়া লোহাগাড়া আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য প্রফেসর আল্লামা ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী।

ড. নদভী বলেন, আল্লামা হাশেমী ছিলেন দেশের আলেম সমাজের মাঝে সর্বজন শ্রদ্ধেয় একজন ব্যক্তিত্ব এবং সমকালীন ধর্মীয়, সামাজিক ও রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের সাক্ষী। তিনি ১৯৪৭ সালে উপমহাদেশ বিভক্তকালীন কলকাতা আলীয়া মাদ্রাসার স্বকীয়তা ও শিক্ষার পরিবেশ অক্ষুণ্ণ রাখা কঠিন হয়ে পড়লে তাঁর উস্তাদ মুফতি সৈয়দ আমিমুল এহসান মোজাদ্দেদী আল বারকাতী (রাহঃ), আল্লামা আব্দুর রহমান কাশগড়ী নদভী (রাহঃ) ও আল্লামা মমতাজ উদ্দিন (রাহঃ) প্রমুখ যুগশ্রেষ্ঠ ওলামা-মাশায়েখদের নেতৃত্বে কলকাতা আলীয়া থেকে অমূল্য কিতাবাদিসহ তল্পিতল্পাসহ জাহাজে করে বুড়িগঙ্গা নদী হয়ে ঢাকা বখশিবাজারে মাদ্রাসা ই আলীয়া ঢাকার যাত্রাকালীন স্বনামধন্য ছাত্র ছিলেন আল্লামা হাশেমী। তাঁর উস্তাজ মুফতি আল্লামা সৈয়দ আমিমুল এহসানের নির্দেশে কলকাতা আলীয়া থেকে আনীত কিতাবাদির যে তালিকা তা আল্লামা হাশেমী সাহেবের হাতের লেখা, যার পান্ডুলিপি এখনো ঢাকা আলীয়া মাদ্রাসা লাইব্রেরীতে সংরক্ষিত আছে।

উল্লেখ্য, আল্লামা হাশেমীর উস্তাজ মুফতি সৈয়দ আমিমুল এহসান (রাহঃ) দীর্ঘদিন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব ছিলেন এবং বঙ্গবন্ধুর অত্যন্ত শ্রদ্ধাষ্পদ ছিলেন। ঢাকা আলীয়ায় অধ্যয়নের পাশাপাশি তিনি ঢাকা বিবিশ্ববিদ্যালয়ে উর্দু বিভাগের ছাত্র হিসেবে হাকিমুল উম্মাত আল্লামা আশরফ আলী থানভী (রাহঃ) এর ভাগিনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তদানীন্তন প্রফেসর জুফর আহমদ ওসমানীর মতো প্রখ্যাত শিক্ষকের স্বণামধন্য ছাত্র ছিলেন।

এসময় তিনি ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহনের পাশাপাশি মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশ এর সান্নিধ্যে আসার সুযোগ পান এবং আওয়ামী রাজনীতির প্রতি প্রভাবিত হন। শিক্ষা জীবন শেষে চট্টগ্রাম ওয়াজেদীয়া আলীয়া মাদ্রাসায় শিক্ষকতায় যোগদান দেন। আল্লামা হাশেমী সাহেব এবং বায়তুশ শরফের মরহুম পীর সাহেব আল্লামা আবদুল জব্বার (রাহঃ) এসময় স্বনামধন্য মুহাদ্দিস হিসেবে ওয়াজেদীয়া মাদ্রাসায় প্রচুর খ্যাতি অর্জন করেন।

ড. আবু রেজা নদভী এমপি বলেন, আল্লামা হাশেমী স্বাধীনতার স্বপক্ষীয় একজন বড়োমাপের আলেম হিসেবে সুপরিচিত ছিলেন। চট্টগ্রামের মুক্তিযোদ্ধারা তাঁকে বিশেষ সম্মানের চোখে দেখতেন। তিনি আওয়ামী ওলামালীগের প্রতিষ্ঠাতার একজন। ছিলেন একজন সুবক্তা। বায়েজীদ জালালাবাদ কূলগাঁও আহছানুল উলুম জামেয়া গাউছিয়া কামিল মাদ্রাসা ছাড়াও আরো অনেক মাদ্রাসা ও খানকা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন।

তাঁর ইন্তেকালে দেশের আলেম সমাজে বিরাট শূণ্যতার সৃষ্টি হলো। তিনি মরহুম আল্লামা নুরুল ইসলাম হাশেমী সাহেবের মাগফিরাত কামনার পাশাপাশি শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

আরো পড়ুন