আমিরাতে ইয়াকুব সুনিক, জুলফিকার ওসমান ,হারুনুর রশিদের ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ

এস এ সাদিক

দীর্ঘদিন লকডাউনে থাকার কারণে নিঃস্ব হওয়া মানুষগুলো হাজার মাইল দূরে ফেলে আসা প্রিয়জনদের কাছে ফোন করবে। কিন্তু সে টাকা নেই। চুল দাড়ি কাটার সামর্থ্য নেই। একটি বাস কার্ড কেনার টাকা নেই। জরুরী কোন মেডিসিন কিনবে সে উপায়ও নেই। চায়ের দোকান থেকে চা কিনে সামান্য গলা ভেজাবে সে অবস্থাও নেই।

এইসব নিঃস্ব প্রবাসীদের কথা চিন্তা করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের মানবতাবাদী তিন কমিউনিটি নেতা ইয়াকুব সুনিক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ইয়াকুব সুনিক, বাংলাদেশ বিজনেস এসোসিয়েশন আবিরের সভাপতি জুলফিকার ওসমান, বাংলাদেশ বিজনেস অ্যাসোসিয়েশন আবিরের সহ-সভাপতি হারুনুর রশিদ প্রবাসী বাংলাদেশীদের কাছে নগদ অর্থ বন্টন করলেন। সোমবার ও মঙ্গলবার তারা যৌথভাবে এই অর্থ বন্টন করেছেন ।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজার বি এম ডব্লিউ, আবু সাগরা, দুবাইয়ের আল মতিনা , আল নাখিল, সোনাপুর ,ইন্টারন্যাশনাল সিটি এবং আলকুজ এলাকায় প্রায় তিন শতাধিক নিঃস্ব প্রবাসীদের নিকট এই হৃদয় বান তিন ব্যবসায়ী নেতা ৫০ হাজার দিরহাম নগদ অর্থ বন্টন করেছেন।

কোভিট ১৯ প্রাদুর্ভাবে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে নিঃস্ব হয়ে পড়া প্রবাসী বাংলাদেশীদের খাদ্য সংকট নিরসনে এই তিন ব্যবসায়ী বন্ধু ইয়াকুব সুনিক জুলফিকার ওসমান, হারুন-অর-রশিদ শুরু থেকে পৃথক পৃথক ভাবে ভুমিকা রেখে আসছিল ।

কখনো সম্মিলিতভাবে কখনো ব্যক্তিগতভাবে এরা সংকটাপন্ন প্রবাসীদের পাশে দাঁড়িয়ে ইতিমধ্যে মানবিকতার উত্তম পর্যায়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে মহানুভবতার পরিচয় দিয়েছেন এই তিন ব্যবসায়ী নেতা। যে অবদান সংকটাপন্ন প্রবাসীরা আজীবন মনে রাখবে অথলে অন্তরে।

ইতিমধ্যে আমরা জেনেছি বাংলাদেশ বিজনেস অ্যাসোসিয়েশন দুবাই আল আবির শাখার জেনারেল সেক্রেটারি ও ইয়াকুব সুনিক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ইয়াকুব সুনিক সংযুক্ত আরব আমিরাতের খাদ্য সঙ্কটে পড়া অসংখ প্রবাসী বাংলাদেশী ও বাংলাদেশে তার নিজ এলাকা চট্টগ্রামের চান্দগাঁও থানায় করো’নার প্রাদুর্ভাবে নিঃস্ব হয়ে পড়া ৫০০ জনসাধারণের নিকট খাদ্যদ্রব্য বন্টন করেছেন।

পাশাপাশি বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল দুবাই, ও বাংলাদেশ বিজনেস এসোসিয়েশন দুবাই আল আবিরের পক্ষ থেকে দুবাই বাংলাদেশ কনস্যুলেট দ্বারা পরিচালিত ত্রাণ তৎপরতায় অংশগ্রহণ করেন এই ব্যবসায়ী। তাছাড়া তুমি ধারাবাহিক ভাবে দেশে-বিদেশে অসংখ্য গরীব দুঃখী মানুষের মাঝে নিরবে দান করে যাচ্ছেন । বর্তমান পরিস্থিতিতে তার ব্যবসায়িক নানা সংকট থাকা সত্ত্বেও প্রবাসীদের দুর্দশায় নিরবে বসে থাকেনি তিনি। এই দানবীর যখন যেভাবে পেরেছেন মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন ।

অপরদিকে বাংলাদেশ বিজনেস এসোসিয়েশন আল আবিরের সভাপতি জুলফিকার ওসমান, সহ-সভাপতি হারুন-অর-রশিদ সংগঠন ও ব্যক্তিগত ভাবে বাংলাদেশ কনস্যুলেট দ্বারা পরিচালিত খাদ্য সংকট মোকাবেলা কার্যক্রমে সহায়তা করে বিশাল অবদান রাখেছেন। মানুষের দুর্দশায় এই দুই কমিউনিটি নেতার সহযোগিতাোও অপরিসীম।

এই সংকটে অসহায় প্রবাসী বাংলাদেশীদের কথা চিন্তা করে নগদ অর্থ বণ্টনের বিষয়টি ছিল ব্যতিক্রমধর্মী একটি উদ্যোগ। হঠাৎ এ সহায়তা প্রবাসীদের এই সংকটে কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছে। এই উদ্যোগ প্রবাসের মাটিতে এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বলে প্রবাসীরা মনে করেন ।

প্রবাসীরা জানান করো’না ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রোধ কল্পে লকডাউনের কারণে আমরা কর্মহীন হয়ে ঘরে বসে ছিলাম। প্রচন্ড খাদ্য সঙ্কটে ভুগছিলাম । বাংলাদেশ কনস্যুলেট সহ কিছু সংগঠন ও প্রবাসী ব্যবসায়ীরা আমাদের খাদ্যদ্রব্য দিয়ে সহায়তা করেছেন। ফলে আমরা কিছুটা হলেও ক্ষুধা নিবারণের স্বস্তি পেয়েছি। দীর্ঘদিন কাজে না যাওয়ায় কোন টাকা-পয়সা পকেটে ছিলনা। ফোন রিচার্জ করা, চুল দাড়ি কাটা, প্রয়োজনীয় টুকটাক কাজে আমাদের খুব জরুরী নগদ অর্থের প্রয়োজন ছিল। এই টাকা জোগাড় করার জন্য আমাদের কারো কাছে হাত পাতার উপায় ছিল না। কেননা সবাই এই পরিস্থিতিতে নানান সংকটে দিনাতিপাত করছে। তাই হঠাৎ করে অর্থ পেয়ে আমরা অত্যন্ত খুশি। তারা উদার প্রাণ ব্যবসায়ী নেতাদের এই সহায়তার জন্য আন্তরিক দোয়া ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

এদিকে সচেতন প্রবাসীরা জানান অনেক বিত্তশালী প্রবাসীরা আছেন যাদের জন্য এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগটি অনুকরণীয় হয়ে থাকতে পারে। তারা বলেন দান করতে গেলে আসলে হৃদয় লাগে টাকা থাকলে হয় না। এই মহা সংকটে যেসব ব্যক্তিরা নিজেদের সমস্যা থাকা সত্ত্বেও প্রবাসীদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন তারা বাংলাদেশীদের কাছে আজ বীরের ভূমিকায় অবতীর্ণ। আর যারা লক্ষ কোটি টাকা হাতে রেখে কোন সহায়তা দানে এগিয়ে আসেনি তাদের টাকার মূল্য যেমন নাই , তেমনি তাদের প্রকৃত মানুষ হিসেবে পরিচয় দেয়াও লজ্জাকর। তারা বলেন এইসব ব্যক্তিরা আজ সমাজের কাছে চিহ্নিত । আগামীতে বাংলাদেশ কমিউনিটি গঠনে বাংলাদেশ দূতাবাস ও বাংলাদেশ কনস্যুলেট অত্যন্ত সচেতন হবেন এটাই সকলের প্রত্যাশা ।

আরো পড়ুন