আইসোলেশনে সাংসদ এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী, রাউজান ও চট্টগ্রামবাসী উৎকণ্ঠায়

নিজস্ব প্রতিনিধি

বিশ্বব্যাপী মহামারী কোভিড-১৯ এর প্রাদুর্ভাবে যখন জনজীবনে নেমে এসেছে হাহাকার। এই কঠিন পরিস্থিতিতে নিজ সংসদীয় আসনে সাধারণ মানুষের নিকট মানবতার ফেরিওয়ালা হয়ে যিনি দিনরাত সেবা দিয়ে গেছেন। 

আজ তিনিই আক্রান্ত, করোনা উপসর্গ দেখা দেওয়ায় আইসোলেশনে আছেন (চট্টগ্রাম-৬) রাউজান আসনের সংসদ সদস্য ও রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এ.বি.এম ফজলে করিম চৌধুরী।

অপরদিকে, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ.কে.এম এহেছানুল হায়দর চৌধুরী বাবুল।

মঙ্গলবার (১৯ মে) চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটে অবস্থিত বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেসে (বিআইটিআইডি) প্রকাশিত ফলাফলে এ তথ্য নিশ্চিত করে সিভিল সার্জন শেখ ফজলে রাব্বি।

জানা যায়, করোনা সংকট শুরু হওয়ার প্রথম থেকেই রাউজানে ব্যাপক কর্মযজ্ঞের মাধ্যমে মানুষের পাশে ছিলেন সাংসদ ফজলে করিম। রাউজানের রাস্তাঘাটে নিজেই ব্লিচিং পাউডার মিশ্রিত জীবাণুনাশক পানি প্রয়োগ, প্রায় ৩ কোটি টাকার ত্রাণ তহবিল গঠন করে ৬৫ হাজার মানুষের কাছে নিজে গিয়ে ঘরে ঘরে খাদ্যদ্রব্য পৌঁছে দেওয়া সহ নিজের মাসিক সম্মানীর ১৫ লক্ষ টাকা ত্রাণ তহবিলে প্রদান করেছেন এ সাংসদ।

ধারণা করা হচ্ছে, করোনা সংকটের শুরু থেকে এ পর্যন্ত মানুষের ঘরে ঘরে ত্রাণ পৌঁছে দিতে গিয়ে এমন পরিস্থিতির শিকার হতে হয়েছে সাংসদকে।

বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় অনেক জন প্রতিনিধিরা যখন নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করছে, ত্রাণ বিতরণে অব্যবস্থাপনার ব্যাপারে যেখানে অসংখ্য অভিযোগ উঠছে, সেখানে সাংসদ ফজলে করিমের এমন কর্মকাণ্ড মানবিক এক দৃষ্টান্ত হতে পারে বলে মনে করছেন অনেকেই।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত জানা গেছে, সাংসদ ফজলে করিমের উপসর্গ থাকায় করোনা টেস্টের জন্য সার্বিক প্রক্রিয়া করা হচ্ছে। দ্রুত তার নমুনা পরীক্ষা সংগ্রহের মাধ্যমে প্রকৃত অবস্থা জানা যাবে।

এ প্রসঙ্গে জানতে সাংসদকে ফোন করা হলে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া গেছে।

করোনা উপসর্গ ও আইসোলেশনে থাকার ব্যাপারে রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এ.বি.এম ফজলে করিম চৌধুরী এমপির জ্যেষ্ঠ সন্তান ফারাজ করিম চৌধুরী বলেন, “দায়িত্ব পালনের ব্যাপারে আমার বাবা সবসময় সচেষ্ট ছিলেন। ত্রাণ বিতরণসহ করোনার বিভিন্ন কার্যক্রমে তিনি সরাসরি মাঠে থেকে কাজ করেছেন। বাবার বর্তমান শারীরিক অবস্থা ভালো। করোনার উপসর্গের মিল থাকায় তাকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। তার নমুনা পরীক্ষা সংগ্রহের ব্যাপারে প্রস্তুতি চলছে। আমরা সকলের কাছে দোয়াপ্রার্থী।’

এদিকে রাউজানবাসী কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা যায় রাউজানের এমপি ফজলে করিম চৌধুরী ও উপজেলা চেয়ারম্যান এহসানুল হায়দর চৌধুরী বাবুল এর জন্য প্রতিটি ঘরে ঘরে দোয়া প্রার্থনা চলছে। সকলে এই দুই জনপ্রিয় নেতা যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে আবার মানুষের মাঝে ফিরে আসে সেই প্রার্থনাই করছে।

আরো পড়ুন