সুবর্ণচরে তুচ্ছ ঘটনায় ব্যবসায়ীকে মারধর, আটক-১

মোঃ ইমাম উদ্দিন সুমন, নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ  নোয়াখালী সুবর্ণচরে দোকানের সামনে হোন্ডা রাখাকে কেন্দ্র করে এক পল্লী চিকিৎসক ও ফার্মেসী ব্যবসায়ীকে মারধর করেছে স্থানীয়  যুবলীগ নেতা আলমগীর ও  রাজন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে চরজব্বার থানা পুলিশ,  সেই সাথে অভিযুক্ত আলমগীরকে আটক করেছে চরজব্বার থানা পুলিশ।
ঘটনাটি ঘটে ২৯ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার)  বিকেল ৫টা সুবর্ণচর উপজেলার ২নং চরবাটা ইউনিয়নের খাসেরহাট বাজারে।
মারধরের ২টি ভিডিও ফুটেজ সোস্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক ভাইরাল হয়।  ভিডিওতে দেখা যায় ২ জন উৎপলকে তার দোকান থেকে টেনে হিছড়ে বের করে বাহিরে এনে একজন ধরে রাখে দুইজন উৎপলকে কিল,ঘুষি  মারতে থাকে।
আহত ব্যবসায়ী ২নং চরবাটা ইউনিয়নের মধ্যম চরবাটা গ্রামের নিখিল মজুমদারের পুত্র উৎপল মজুমদার (৩৩) সে খাসেরহাট বাজারের চৈতী ফার্মেসীর স্বত্বাধিকারী ও স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক।
অভিযুক্ত  আলমগীর হোসেন একই গ্রামের কালু হাজীর পুত্র এবং রাজন একই ইউনিয়নের হুকু মুহুরীর ছেলে।
আহত উৎপলকে প্রথমে সুবর্ণচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে তার অবস্থার অবনতি দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। রড, চেয়ার দিয়ে এলোপাতাড়ি পেটানোর ফলে  উৎপলের মাথা পেটে যায় এবং শরীরের ভিবিন্ন স্থানে মারাত্মক জখম হয়। বর্তমানে তার অবস্থা আশংকা জনক বলে জানিয়ছেন তার স্ত্রী রিংকু মজুমদার।
আহত উৎপলের স্ত্রী রিংকু মজুমদারের দাবী  “খাসেরহাট বাজারে ব্যবসা করতে হলে আলমগীর এবং রাজনকে  চাঁদা দিতে এই  মর্মে উৎপলকে সময় বেঁধে দেয়া হয়। ঘটনার দিন ২৯ এপ্রিল বৃহস্পতিবার উৎপল মজুমদার পারিবারিক জায়গাজমি বিক্রির ৬ লাখ টাকা দোকানে রাখে এ খবর জানতে পারে আলমগীর, রাজন তখন তারা তার দোকানে এসে পূনরায় চাঁদার টাকা দাবী করে এতে উৎপল দিতে অস্বিকৃতি জানালে আলমগীর, রাজন উৎপলকে মারধর করে মাথা ফাটিয়ে দেয় এক পর্যায়ে জ্ঞান হারিয়ে পেলে। আমরা খবর পেয়ে উৎপলকে অচেতন অবস্থায়  হাসপাতাল নিয়ে আসি এখনো তার জ্ঞান ফিরেনি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দোকানের সামনে হোন্ডা রাখাকে কেন্দ্র করে কালু হাজি এবং উৎপলের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয় এসময় উৎপল অকত্যভাষায় কিছু গালমন্ধ করে, বাবাকে হালমন্ধ করছে শুনে ছেলে আলমগীর এসে উৎপলকে চড়থাপ্পড় মারে। পরে উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা কামরুল এসে দুজনকে থামিয়ে দেয়।
অভিযুক্ত আলমগীর বলেন,  আমার বাবা কালু হাজী উৎপলের দোকানের সামনে মোটরসাইকেল রেখে মসজিদে গেলে উৎপল তার গাড়িটি পেলে দেয় তিনি মসজিদ থেকে এসে গাড়ী পড়ে থাকতে দেখে উৎপলকে জিজ্ঞেস করলে উৎপল গালমন্ধ করে এতে দুজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা বেঁধে যায়। খবর পেয়ে আমি এবং  রাজন এসে উৎপলকে জিঞ্জেস করলে সে বিশ্রি ভাষায় আমার বাবাকে  গাললমন্ধ করে  করে। তখন মেজাজ ঠিক রাখতে না পেরে উৎপলকে চড় থাপ্পড় দেয়। পরে আমার বাগিনা টুটুল এসে আমাদের  উভয়কে থামিয়ে দেয়”।
মারধরের ঘটনা সত্যতা স্বিকার করে চরজব্বার থানার অফিসার ইনচার্জ জিয়াউল হক তরিক খন্দকার  বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে, খোঁজ নিয়ে জেনেছি মোটরসাইকেল রাখাকে কেন্দ্র করে উৎপলকে মারধর করা হয়েছে। অভিযুক্ত আলমগীরকে গ্রেফতার  করা হয়েছে। ভুক্তভোগির পরিবার এজাহার দায়ের করেছে, তদন্ত চলমান আছে। পরিবর্তিতে আইনানুগ ব্যাবস্থা নেয়া হবে।

 

 

আরো পড়ুন