২১ ফেব্রুয়ারী শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে

বেনাপোল সীমান্তে হলো দুই বাংলার মিলন মেলা -

স্বীকৃতি বিশ্বাস,যশোর থেকে:

গতবছর মার্চ মাস থেকে বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস বাংলাদেশেও ছড়িয়ে পড়ে।বিশ্বের অনেক উন্নত দেশের ন্যায় ব্যাপকতা ছড়াতে না পারলেও আতংকিত করেছিল সমগ্র জাতিকে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বাংলাদেশে করোনা মহামারী যেভাবে ছড়াবে বলে ধারণা করেছিল তার সন্নিকটেও ছিল না। এটা সম্ভব হয়েছিল শুধুমাত্র বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঠিক দিকনির্দেশনার জন্য।
করোনার টীকা আসার পরও পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যবিধি মানার দিক নির্দেশনা এখন বর্তমান।

আর তাই মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে বেনাপোল- পেট্রাপোল সীমান্তের নোম্যান্সল্যান্ডে সীমিত পরিসরে হয়েছে দুই বাংলার মিলন মেলা।

প্রতিবছরের ন্যায় জাঁকজমকপূর্ণ ভাবে জিরোপয়েন্টে মেলা না বসলেও দুই বাংলার একই ভাষায় কথাবলা, সাহিত্য চর্চাসহ যাবতীয় কার্যাদি করা দুই বাংলার বঙ্গভাষা প্রেমিরা ২১ ফেব্রুয়ারী-২০২১ রোজ রবিবার সকাল ১০ ঘটিকায় নোম্যান্সল্যান্ডে তৈরি অস্থায়ী শহীদ বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষার জন্য শহীদ হওয়া সালাম,জব্বার, শফিক, রফিকসহ অজানা অচেনা নাম বা জানা শহীদের স্মরণ করেছেন।

২০০২ সাল থেকে বেনাপোল চেকপোস্টের জিরো পয়েন্টে ২১ ফেব্রুয়ারী শহীদ দিবস উপলক্ষে গেইট খুলে দেওয়ার প্রথা চালু হয়ে অদ্যাবধি চলমান আছে।ভারতের পশ্চিম বঙ্গের খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ও যশোর-১ আসনের সাংসদ শেখ আফিল উদ্দিন ও বেনাপোল পৌর মেয়র আশরাফুল আলম লিটনের উদ্যোগে গঙ্গা – পদ্মা মৈত্রী সমিতি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পড়ে করে আসছে।


প্রতিবছর ২১ ফেব্রুয়ারীকে কেন্দ্র করে বেনাপোল নোম্যান্সল্যান্ড সাজে রংবেরঙের বর্ণিল সাজে। নির্মাণ করা হয় অস্থায়ী শহীদ মিনার এবং সকাল থেকে দুদেশের হাজার হাজার মানুষ পূর্স্পাঘ্য অর্পণ করেন শহীদ বেদীতে ও ভুল যায় কাঁটাতারের সীমান্ত বাঁধের কথা। কিন্তু এবার করোনা মহামারীর কারণে নোম্যান্সল্যান্ডে সাজসজ্জার কোন আতিশয্য লক্ষ করা যায়নি।

এবার ওপারে স্বল্প পরিসরে একটি অনুষ্ঠান হয়েছে যেখানে স্থানীয় সাংসদসহ ১০০ জন আমন্ত্রিত অতিথি অংশ গ্রহন করেন। এপার বাংলার পক্ষে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন জনাব স্বপন ভট্টাচার্য – এমপি,মাননীয় প্রতিমন্ত্রী,স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সাংসদ শেখ আফিল উদ্দিন – এমপি, যশোর -১, বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার আজিজুর রহমান, জনাব তমিজুল ইসলাম খান, জেলা প্রশাসক,যশোর অধিনায়ক ৪৯ বিজলি যশোর লেঃ কর্ণেল সেলিম রেজা, জবাব প্রলয় কুমার জোয়ারদার পুলিশ সুপার যশোর সহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ।

ওপার বাংলার পক্ষে প্রধান অতিথি ছিলেন শ্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক – মাননীয় মন্ত্রী পশ্চিম বঙ্গ সরকার, ভারত। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন শ্রী গোপাল শেঠ- প্রাক্তন বিধায়ক ও মেন্টর, উত্তর চব্বিশ পরগণা জেনারেল পরিষদ, শ্রী শঙ্কর আঢ্য- প্রশাসক বনগাঁ পৌরসভা, শ্রীমতী মমতা বালা ঠাকুর প্রাক্তন সাংসদ বনগাঁ লোকসভা, দুই বাংলা মৈত্রী সমিতির সদস্যসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ।

আরো পড়ুন