স্ত্রীর দায়ের করার যৌতুকের মামলায় স্বামী বিরুদ্ধে পুলিশের চার্জশীট

সরাইল প্রতিনিধি।। স্ত্রী দায়ের করার যৌতুকের মামলায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে কৃষি ব্যাংক কর্মকর্তা স্বামী আব্দুর রশিদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশীট দাখিল করেছে পুলিশ।

 

গত ১৫ ফেব্রুয়ারি এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সরাইল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কবির হোসেন; নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী/০৩)-এর ১১(গ) ধারার অপরাধে আব্দুর রশিদের বিরুদ্ধে চার্জশীট দাখিল করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালতে।

 

আব্দুর রশিদ বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক সরাইল সদর শাখায় ঋণ বিভাগে অফিসার হিসেবে কর্মরত। তিনি সরাইল উপজেলার অরুয়াইল গ্রামের হিম্মত আলীর ছেলে। বর্তমানে এ মামলায় তিনি উচ্চ আদালত থেকে আগাম জামিন নিয়ে ব্যাংকের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।  মামলার বাদী স্ত্রীর সাদিয়া খন্দকার ঢাকা তিতুমীর কলেজ থেকে সমাজ বিজ্ঞান বিভাগ হইতে অনার্স পাশ করে বর্তমানে মাস্টার্স পরীক্ষার্থী।

 

পুলিশের দাখিল করা চার্জশীটে উল্লেখ, সরাইল উপজেলার কালিকচ্ছ গ্রামের বাসিন্দা ছানা খন্দকারের বড় মেয়ে সাদিয়া খন্দকারকে বিগত ২০১৭ সালের ১৫ জুলাই চার লক্ষ টাকা দেনমোহরে বিয়ে করেন আব্দুর রশিদ। বিবাহের সময় আব্দুর রশিদের দাবি অনুযায়ী স্ত্রী সাদিয়ার বাবা উপহার বাবদ জামাইকে একসেট সোফা, একটি বক্স খাট, একটি ওয়াল সুকেস, একটি ড্রেসিং টেবিল, একটি ওয়ারড্রব, ড্রাইনিং টেবিল ও দুই ভরি ওজনের স্বর্ণালঙ্কার সহ মোট তিন লক্ষ টাকার মালামাল প্রদান করেন। দাম্পত্য জীবনে তাদের সংসারে তাজ (২০ মাস) নামে এক ছেলে সন্তান জন্মগ্রহণ করে।

 

এ সন্তান জন্মের পর থেকে আব্দুর রশিদ নানাভাবে স্ত্রী সাদিয়াকে অবহেলা ও নির্যাতন করে আসছে। এরমধ্যে সাদিয়ার গর্ভে তার দ্বিতীয় সন্তান আসে। অনুমান ৪মাস আগে আব্দুর রশিদ পাঁচ লক্ষ টাকা যৌতুক দাবি করে স্ত্রী সাদিয়ার ওপর অত্যাচার নির্যাতন চালায়। একপর্যায়ে যৌতুকের টাকার জন্য গর্ভবতী স্ত্রীকে শিশু সন্তান সহ শ্বশুরবাড়িতে পাঠিয়ে দেন আব্দুর রশিদ। বাবার বাড়িতে সাদিয়া; খুশবু নামে এক কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। গতবছরের ২৩ ডিসেম্বর স্ত্রী সাদিয়ার অনুরোধে আব্দুর রশিদ শ্বশুর বাড়িতে আসেন। এসময় সদ্য জন্ম নেয়া কন্যা সন্তানকে পিতা আব্দুর রশিদের কোলে দিয়ে স্ত্রী সাদিয়া স্বামীকে অনুরোধ জানান-‘দুই শিশু সন্তান সহ তাকে যেন স্বামীর ঘরে ফিরিয়ে নেন।’ কিন্তু আব্দুর রশিদ সাফ জানিয়ে দেন পাঁচ লক্ষ টাকা যৌতুক ছাড়া সাদিয়াকে তার ঘরে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। একথা বলার পর স্ত্রী সাদিয়া ও স্বামী আব্দুর রশিদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে আব্দুর রশিদ উত্তেজিত হয়ে স্ত্রীকে মারধোর শুরু করে এবং স্ত্রী সাদিয়ার গলাটিপে ধরেন। এতে কোলে থাকা নবজাতক কন্যা শিশু আহত হয়। এসময় মেয়েকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন পিতা ছানা খন্দকার; আব্দুর রশিদ তার শ্বশুরকেও মারধোর করেন। পরে সাদিয়া ও তার নবজাতক সন্তানকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হয় এবং ২৫ ডিসেম্বর বাদী হয়ে সাদিয়া সরাইল থানায় স্বামী আব্দুর রশিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

 

মামলার বাদী সাদিয়া খন্দকার জানান, আব্দুর রশিদ একজন অর্থ লোভী মানুষ। ব্যাংকে ঋণ বিভাগে চাকরির সুবাদে বিভিন্ন অনৈতিক কাজে লিপ্ত হয়ে আব্দুর রশিদ নানা অপকর্মে জড়িত। সরাইলের অনেক প্রভাবশালীকে অনৈতিক পন্থায় ব্যাংকের ঋণ পাইয়ে দিয়েছেন আব্দুর রশিদ। আমার বিষয়টি নিয়ে অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি আব্দুর রশিদের পক্ষ নিয়ে আমাকে ও আমার পরিবারকে নানাভাবে হয়রানি করেছেন। অবশেষে পুলিশ আমার পাশে দাঁড়ায় এবং আমাকে ন্যায় বিচার পাইয়ে দেয়ার আশ্বাস দেয়। পুলিশের কাজে আমি খুশি।

 

তবে এ বিষয়ে আব্দুর রশিদ দাবি করেন, সাদিয়ার আচার আচরণ একঘেয়েমি স্বভাবের। তাকে শায়েস্তা করতেই বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয়। কোন যৌতুক চাওয়া হয়নি। মামলা আমি আইনি প্রক্রিয়ায় মোকাবিলা করবো।

 

সরাইল থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) কবির হোসেন জানান, অভিযুক্ত আব্দুর রশিদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী/০৩)-এর ১১(গ) ধারার অপরাধ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে সুষ্ঠু বিচারের নিমিত্তে বিজ্ঞ আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশীট) দাখিল করেছি।

আরো পড়ুন