স্কুল কলেজ দীর্ঘ দিন বন্ধের সুযোগে মণিরামপুরে মোবাইলে ফ্রি-ফায়ার-পাবজি গেমে আসক্ত হয়ে বেপরোয়া শিশু -কিশোররা!

মণিরামপুর(যশোর)প্রতিনিধি:
সন্তানদের নিয়ন্ত্রণে অভিভাবকদের অসচেতনতার পাশাপাশি চলমান লকডাউনের অজুহাতে যশোরের
মণিরামপুরে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ পরিবারের শিশু-কিশোররা নামী-দামী ভিডিও মোবাইলে ফ্রি-ফায়ার ও পাবজি গেমসহ নানা বিষয়ে চরমভাবে আসক্ত হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ। পরিবারের পক্ষ থেকে আসক্তদের উক্ত গেম খেলায় বঁাধা দিলে বাড়ির দামী আসবাবপত্র ভাংচুরসহ অনেক কিশোর আত্মহত্যার হুমকী দিচ্ছে। ভয়াবহ আসক্তের তালিকায় বিত্তবানদের পাশাপাশি ভ্যান চালক ও দিনমজুর পরিবারের সন্তানরা যুক্ত হয়েছে। সচেতন মহলের মন্তব্য এই মুহুর্তে প্রশাসনের আইনী প্রয়োগসহ ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের অভিভাবকরা কঠোর
না হলে আসক্তরা কিশোর গ্যাং-এ পরিণত হয়ে যে কোন সময় নানা অঘটন ঘটাতে পারে।
পরিবারসহ নিজের আত্মসম্মান রক্ষায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলার ভোজগাতী ইউনিয়নের
কন্দোপপুর গ্রামের এক অভিভাবক জানান, তার ছেলেটি সপ্তম শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়ায় ভাল ফলাফল করলেও মহামারী করোনায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের এক বছর আগে সে অষ্টম শ্রেণীর পরীক্ষায় দু’টি বিষয়ে ফেল করে। এ ঘটনায় তিনি হতবাক হলেও জানতে পারেন এলাকার আরো ২৫/৩০ জন ছেলের সাথে তার সন্তান মোবাইলে ফ্রি-ফায়ার গেমে আসক্ত হয়ে পড়েছে। এক পর্যায় তার নিকট থেকে মোবাইল কেঁড়ে নিলে সে তিনতলা থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যার হুমকী দেয়। ফলে বাধ্য হয়ে পুনরায় তার হাতে মোবাইল তুলে দিতে হয়। বর্তমানে তিনি তার সন্তানকে ফ্রি-ফায়ার গেম আসক্ত থেকে ফেরাতে পারেননি। তিনি দাবী করেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দিলে হয়তবা তার শিশু সন্তানকে রক্ষা করতে পারবেন। উপজেলার হোগলাডাঙ্গা ঋষি পল্লীর এক ভ্যান চালক বলেন, ভ্যান চালানো কষ্টের টাকা দিয়ে গেম খেলার জন্য প্রতিনিয়ত তার সন্তানকে মোবাইলের নেট কিনে দিতে হয়। খাওয়া-ঘুম হারাম করে উক্ত খেলার জন্য আমার সন্তান চরম অসুস্থ্য হয়ে পড়েছে। শুধু তিনি নয়, উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার ভুক্তভোগী একাধিক অভিভাবকের সাথে কথা বলে জানাযায়, ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ পরিবারে চরম অশান্তি বিরাজ করছে ফ্রি-ফায়ার ও পাবজি গেমের পাশাপাশি ভিডিও মোবাইলে নানা বিষয়ে আসক্ত সন্তানদের নিয়ে। শুধু দিনের বেলায় নয়, রাতে খাবার শেষে অভিভাবকরা ঘুমিয়ে
পড়লে গভীর রাতে আসক্ত শিশু-কিশোররা ঘর থেকে বেরিয়ে বিভিন্ন স্থানে দলবদ্ধ হয়ে মোবাইলে তাদের ভয়াবহ কারবার শুরু করে। এছাড়া, অনেকে আবার জড়িয়ে পড়েছে মাদকাসক্তের পাশাপাশি নানা অপরাধে। নানা আশংকায় পরিচয় গোপন রাখার শর্তে হাট-বাজার আর মহল্লায় মহল্লায় দলবদ্ধ শিশু কিশোরদের এমন ভয়াবহতার বিষয় নিশ্চিত করেছেন পৌর এলাকাসহ উপজেলার ইউনিয়ন পর্যায় অনেক জনপ্রতিনিধি। এদিকে, প্রত্যক্ষদর্শী পথচারীরা বলেন, লকডাউনের মধ্যে পৌর শহরের অলি-গলি আর মোড়ে মোড়ে কিশোর গ্যাং সৃষ্টির ন্যায় মাতোয়ারা হয়ে তারা ঝঁাকে ঝঁাকে মোবাইলে কি যেন খেলেই যাচ্ছে। সকালে যাদেরকে একস্থানে দেখা যাচ্ছে সন্ধ্যার পরেও একই স্থানে তাদেরকে দেখা মিলছে। এ ঘটনায় পিতাতুল্য ব্যক্তিরা তাদেরকে কিছু বলার চেষ্টা করলে দলবদ্ধ ওই কিশোররা তাদের উপর এক প্রকার মারমুখি চড়াও হয়ে নানা বাজে মন্তব্য শুরু করে।
ফ্রি-ফায়ার গেম নেশা সম্পর্কে অবগত এক চা দোকানীসহ অপর এক ইজিবাইক চালক জানান, উক্ত খেলায়
কিছু কিছু মুহুর্ত আছে আসক্ত ব্যক্তিকে যদি কেউ গলা কাটতে হুমকী দেয় তার পরেও সে ওই খেলা চালিয়ে
যাবে। চরম ভয়াবহতার এ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহকালে ভুক্তভোগী অভিভাবক থেকে শুরু করে শিক্ষকসহ বিভিন্ন ব্যক্তি পর্যায় তাদের প্রতিক্রিয়ায় দাবী করেন সরকার যদি উক্ত মরণ নেশা গেম আর মোবাইলে অন্যান্য খারপ দিকগুলি বন্ধের ব্যবস্থা করেন তা হলে শিশু-কিশোররা রক্ষা পেতে পারে। এর ফলে শুধু মণিরামপুর উপজেলা নয়, দেশের অন্যান্য এলাকায় মহামারী করোনায় মৃত্যু এবং সংক্রমণের হার কমতেও পারে। কারণ কাক-ডাকা সকাল থেকে
গভীর রাত পর্যন্ত বিশেষ করে কিশোর-যুবকরা বিভিন্ন এলাকায় দলবদ্ধ হয়ে মোবাইলে গেমসহ অন্যান্য
বিষয়ে আসক্ত শেষ করে বাড়ি ফেরার পর পরিবারে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি হতে পারে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মণিরামপুর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) শিকদার মতিয়ার রহমান বলেন, প্রথম থেকেই অভিভাবকদের অসচেতনতার কারণে তাদের সন্তানরা বিভিন্ন ঘটনায় আসক্ত হয়ে পড়েছে। তারা নানা অঘটন ঘটিয়ে সমাজের চোখে আসার পর ওই সমস্ত অভিভাবকদের টনক নড়ে। আইনের চোখে কেউ অপরাধ করলে সে যেই হোক ছাড় পাবেনা। তার পরেও যদি কোন অভিভাবক তাদের সন্তানদের খারাপ পথ থেকে ফেরাতে প্রশাসনের সহযোগিতা চান তাহলে আইনী প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরো পড়ুন