সুবর্নচরে মসজিদের টাকার হিসেব চাওয়ায় আওয়ামিলীগ সভাপতির নেতৃত্বে ইউপি সদস্যকে মারধর

মোঃ মনসুর আহমেদ, নোয়াখালী: নোয়াখালী সুবর্ণচরে মসজিদের টাকার হিসেব চাওয়ায় এক ইউপি সদস্যকে মারধর করে রক্তাক্ত আহত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে, প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে এ ঘটনায় আহত ইউপি সদস্য বাদী হয়ে স্থানীয় চরজব্বার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। আহত আব্দুল মতিন দরবেশ ১ নং চরজব্বার ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য ও চরজব্বার গ্রামের মৃত ছায়েদল হকের পুত্র।
২৩ এপ্রিল (শুক্রবার) বেলা ২ টায় ঘটনাটি ঘটে সুবর্ণচর উপজেলার ১ নং চরজব্বার ইউনিয়নের পরিস্কার বাজারে।

 

 

থানায় লিখিত অভিযোগ ও ভুক্তভোগির মৌখিক অভিযোগে বলেন, ২০০৪ সালে ১ নং চরজব্বার ইউনিয়ন আওয়ামিলীগের সভাপতি নুর ইসলাম মানিক স্থানীয় পরিস্কার বাজার জামে মসজিদের সভাপতির দায়ীত্ব দেয়া হয়। দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে ২০২১ সাল (দির্ঘ ১৫ বছর) ধরে মসজিদের আয় ব্যায়ের কোন হিসেব দেননি, এবং মসজিদের পুকুর এবং পাশের দোকান ভিটি তার নামে অবৈধ রেকর্ড করে দখল করে নেয়।
সম্প্রতি এলাবাসী মসজিদের পূনরায় নতুন কমিটি করার জন্য জোর দাবী তুলেন এবং ১৫ বছরে মনজিদের আয় ব্যায়ের হিসেব চান এতে সে দির্ঘদিন গড়িমসি করে আসছে। আজ শুক্রবার জুম্মার নামাজ আদায় শেষে সকল মুসল্লীগণ এক হয়ে নুর ইসলাম মানিকের কাছ থেকে মসজিদের আয় ব্যায়ের হিসেব চান। এতে আব্দুল মতিন দরবেশ ও স্থানীয় মেম্বার হওয়ার ফলে মুসল্লিদের যুক্তিকদাবী এবং আয় ব্যায়ের হিসেব দিতে বলেন, এতে নুর ইসলাম মানিক ক্ষিপ্ত হয়ে মসজিদ থেকে বের হয়ে তার পুত্র মোহাম্মদ সাদ্দাম (২৫), আজাদ(৪০), একই গ্রামের নুর মোহাম্মদের পুত্র ইউছুপ নবী (৪৫)সহ ৪/৫ জনের অজ্ঞাত সন্ত্রাসী দেশীয় লাঠি সোটা দিয়ে মারধর করে রক্তাক্ত আহত করে। এতে প্রতিবাদ করলে কয়েকজন মুসল্লীকেও মারধর করা হয়। খবর পেয়ে আবদুল মতিন দরবেশের ছেলের মাসুদ এগিয়ে আসলে তাকেও মারধর করা হয়। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে সুবর্ণচর উপজেলা স্বাস্ব্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে, প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে চরজব্বার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
আহত ইউপি সদস্য দরবেশ মেস্বার আরো বলেন, নুর ইসলাম মানিক এক সময় বিএনপির রাজনিতীর সাথে জড়িত ছিলো আওয়ামি লীগে যোগদান করে চরজব্বার ইউনিয়নের ত্রাসের রাজ্য কায়েম করছে, সে বহু মানুষের ঘরবাড়ি, দখলের সাথো জড়িত, তার ভয়ে এলাকায় কেউ মুখ খুলেনা। তিনি ঘটনার সুষ্ঠ তদন্দ পূর্বক দোষীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জন্য মাননীয় সংসদসদস্য একরামুল করিম চৌধুরী, জেলা প্রশাসক, এবং স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
অভিযুক্ত নুর ইসলাম মানিকের সাথে মুঠোফোনে ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দরবেশ মেম্বারের সাথে হাতাহাতি হয়েছে, আর কিছুই হয়নি পরে তিনি সংযোগ কেটে দিয়ে ফোন বন্ধ করে দেন।
চরজব্বার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জিয়াউল হক তরিক খন্দকার বলেন “উভয় পক্ষ পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দিয়েছেন, তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

 

আরো পড়ুন