সুবর্ণচরে শ্লীলতাহানির চেষ্টার প্রতিবাদ করায় গৃহবধূকে পিটিয়ে আহত, থানায় অভিযোগ

মোঃ ইমাম উদ্দিন সুমন, নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ

সুবর্ণচরে ভাসুর এবং দেবরের ধর্ষণ চেষ্টা ও শ্লিলতাহানির চেষ্টার প্রতিবাদ করায় এক গৃহবধূকে পিটিয়ে আহত করেছে শ্বশুর বাড়ীর লোকজন। এ ঘটনায় স্থানীয় চরজব্বার থানায় লিখিত অভিযোগ করেন নির্যাতিতা গৃহবধূ সুমি আক্তার। থানায় অভিযোগ করায় নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছে ঐ গৃহবধূ।

ঘটনাটি ঘটে ২৮ মে (শুক্রবার) সন্ধ্যায় সুবর্নচর উপজেলার ৫নং চরজুবিলী ইউনিয়নের মধ্যম বাগ্যা গ্রামে।

আহত গৃহবধূ লক্ষীপুর জেলার নাসিরগঞ্জ ইউনিয়নের চর মুসলিম গ্রামের মোঃ মোসলেহ উদ্দিনের কণ্যা।

আহত গৃহবধূ ২ সন্তানের জননী সুমি আক্তার (২৪) জানান, ২০১৫ সালে মধ্যম বাগ্যা গ্রামের নিজাম উদ্দিনের পুত্র আমির হোসেন(৩০) সাথে বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন যাবার পর থেকে স্বামী সিএনজি কিনে জীবিকা নির্বাহ করবে বলে শ্বশুর বাড়ীতে মোটা অংকের টাকা দাবী করে শ্বশুর মোসলেহ উদ্দিন মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে ৩০ হাজার টাকা আমির হোসেনের হাতে তুলে দেন। আমির হোসেন সেই টাকা দিয়ে একটি অটোরিক্সা কিনে কর্মে জড়িয়ে পড়েন। বিয়ের পর আমির হোসেনের বড় ভাই মোতালেবের কুদৃষ্টি পড়ে অসহায় সুমি আক্তারের ওপর। সব ভাই একই ঘরে থাকার সুবাধে আমির হোসেন অটোরিক্সা চালাতে বাড়ী থেকে বের হলে মোতালেব প্রায় গৃহবধূকে তার রুমে গিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে এনিয়ে প্রতিবাদ করলে শ্বশুর শাশুড়ি সহ দেবর রিয়াজ, সজিবসহ সবাই সুমিকে বেধড়ক মারধর করে।

কয়েক মাস পর একই কায়দায় দেবর রিয়াজ এবং সজিব সুমি আক্তারকে একা পেলে বিভিন্ন সময় অসামাজিক কাজের প্রস্তাব দেয়। আগের মতই গৃহবধূ তার স্বামী আমির হোসেনকে জানালে আবারো শুরু হয় অমানুষিক নির্যাতন।

গত ২৭ মে বৃহস্পতিবার রাতে স্বামী আমির হোসেন বাহিরে থাকায় গৃহবধূ সুমি আক্তার তার ঘরে একা ঘুমাচ্ছিলেন সে সুযোগে দেবর সুমি আক্তারের ঘরে প্রবেশ করে তার শরীর সম্পর্শ কাতর স্থানে হাত দেয় গৃহবধূ শৌরচিৎকার করলে শ্বশুর শাশুড়ি এগিয়ে এলে গৃহবধূ ঘটনার খুলে বলে। ঘটনাটি কাউকে না বলতে শ্বশুর শাশুড়ি সুমিকে চাপ প্রয়োগ করেন, পরদিন ২৮মে শুক্রবার আমির হোসেন বাড়িতে এলে সুমি ঘটনাটি বলে দেন। পরে অভিযুক্ত লম্পট দেবর রিয়াজ, সজিব, ভাসুর মোতালেব মিলে গৃহবধূকে দেশিয় অস্ত্রসস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে আহত করে, পরে গৃহবধূর বাবা মা বোন সেখান থেকে উদ্ধার করে সুবর্ণচর উপজেলা স্বাস্ব্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে সুমি আক্তার বাদী হয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চরজব্বার থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।

এলাকাবাসি বলেন, বিয়ের পর আমরা দেখে আসছি শ্বশুর বাড়ীতে সুমিকে প্রায় মারধর করে, একটাদিন তারা মহিলাকে শান্তিতে থাকতে দেয়না।

অভিযুক্ত মোতালেব মারধোরের ঘটনা স্বিকার করে বলেন, আমার ছোট ভাই সজিব আমার ভাবিকে মারধর করেছে, অন্যকোন ঘটনা ঘটেনি।
আমির হোসেন বলেন, আমি দুই বছর অসুস্থ্য কাজ কর্ম করতে পারিনা, আমার ছোট ভাইদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করেছে সেটা মিথ্যা।

চরজব্বার থানার এসআই রবিউল হোসেন বলেন, গৃহবধূর লিখিত অভিযোগ পেয়ে আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি, তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে”।

আরো পড়ুন