সুবর্ণচরে মুক্তিযোদ্ধাদের নামে বরাদ্ধকৃত জায়গা দখল করে মার্কেট নির্মাণ

 নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ

নোয়াখালী সুবর্ণচরে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বরাদ্ধকৃত জায়গা দখল করে মার্কেট নির্মাণ, চলাচলের রাস্তা কেটে পুকুর থেকে মাছ ধরে নিয়ে যাওয়া এবং পুকুর থেকে বালি উত্তোলনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটে সুবর্ণচর উপজেলার ২ নং চরবাটা ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ চরমজিদ গ্রামে। ঘটনার বিষয়ে মুক্তিযোদ্ধাগণ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানিয়ে এবং মামলা করেও কোন প্রতিকার না পাওয়ায় হতাশ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার গুলো। ভুক্তভোগি মুক্তিযোদ্ধাগণ সম্প্রতি ডাকের মাধ্যমে উপরোক্ত বিষয়ে নোয়াখালী জেলা প্রশাসক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেন। একাধিক মুক্তিযোদ্ধা অভিযোগ করে বলেন, ১৯৮৮ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার চরমজিদ গ্রামের চরমজিদ ৩০৩ মৌজার ১ নং খাস খতিয়ানের ২১৩০দাগে ১৯৬ জন মুক্তিযোদ্ধার জন্য ৪০০ একর জমি বরাদ্ধ দেন এর মধ্যে ৩৩ শতাংশ জমি মুক্তিযোদ্ধাদের অফিসে জন্য বরাদ্ধ দেয়া হয়। ১৯৮৯ সালে ততকালিন নোয়াখালী জেলা প্রশাসক এমএ কামাল সাহেব নিজেই চরমজিদ এসে মুক্তিযোদ্ধাদের অফিস উদ্ধোধন করেন।

এই থেকে এলাকাটি মুক্তি যোদ্ধা কলনী নামে রুপান্তরিত হয়। ১৯৮৯ সাল থেকে ৯৬টি মুক্তিযোদ্ধা পরিবার এখানে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। ২০১৪ সালে ভূয়া বন্দবস্ত দেখিয়ে স্থানীয় বেলাল উদ্দিনের স্ত্রী সাবেক ইউপি সদস্য আলেয়া বেগম (৪৫) তার সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের অফিস ভেঙ্গে সকল মালামাল নিয়ে যায় এবং সেখানে ঘর নির্মাণ করে একাধিক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে দেন।

এ বিষয়ে মুক্তিযোদ্ধাগণ বাদী হয়ে নোয়াখালী এডিএম কোর্টে একটি মামলা দায়ের করেন মামলা নং ২৮৪/১৪ ইং। রিনবন্ড সৃস্টি করে সোনালী ব্যাংকের ১৭ লাখ ৯৫ হাজার টাকা অর্থ আত্নসাতের মামলার ২ নং আসামি আলেয়া বেগম মামলা নং ১/২০২০ এছাড়াও জোর পূর্বক ভূমিদখল, নির্যাতনসহ একাধিক মামলা রয়েছে আলেয়া বেগমের বিরুদ্ধে। গত ১৩ জুন ২০২০ তারিখে অভিযুক্ত আলেয়া বেগম তার বর্তমান স্বামী বেলাল উদ্দিন, ছেলে রিয়াজ(২০), সাবেক স্বামী দক্ষিণ চরমজিদ গ্রামের জামাল উদ্দিনের পুত্র সোহেল, সাবেক স্বামী শাজাহানের পুত্র স্বাধীন, একই গ্রামের মৃত সামছুল হকের পুত্র বধু মাঝিসহ ১০-১৫ জনের একদল ভাটিয়া সন্ত্রাসী প্রকাশ্য দিবালোকে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বরাদ্ধকৃত পুকুর থেকে প্রায় ৩ লক্ষ টাকার মাছ ধরে নিয়ে যায় এবং দুই পুকুরের মাঝখানে এক মাত্র চলাচলের রাস্তা কেটে পুকুর থেকে বালি উত্তোলন করে, ভুক্তভোগিরা ঘটনাটি সুবর্ণচর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভুমি) আরিফুর রহমান এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইবনুল হাসান এবং চরজব্বার থানাকে জানালে প্রশাসন বালি উত্তোলন বন্ধ করে দেয়।

প্রশাসনের কর্মকর্তাগণ ঘটনাস্থল ত্যাগ করলে পূনরায় আবারো বালি উত্তোলন করে নিয়ে যায়। ভুক্তভোগী মুক্তিযোদ্ধা মোঃ হানিফ, বাদশা মিয়াসহ একাধিক মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা বলেন, আলেয়া বেগম নিরিহ মানুষের উপর অন্যায় ভাবে জোর পূর্বক জমি দখল, বালি উত্তোলনসহ নানা অসামাজিক কার্যকলাপের সাথে জড়িত, এ পর্যন্ত তার ৪ টি বিয়ে হয়েছে, তার এমন অসামাজিক আচোরনের কারনে আগের স্বামীরা তালাক দিয়ে দেয় এবং সকল সন্তানদের তার কাছে রেখে এসব জবরদখল করে যাচ্ছে, একটি প্রভাবশালী মহলের ইন্ধন দেয়ার কারনে তার ভয়ে কেউ মুখ খুলেনা। অভিযুক্ত আলেয়া বেগমের সাথে মুঠোফোনে আলাপকালে তিনি বলেন, আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা থেকে জায়গাটি কিনেছি এবং ঘর তুলে বিক্রি করছে আমি এখনো ঐ ঘরের ছাঁদ ঢালাই করিনি কিছুদিন পর করবো, পুকুরে আমি ৩ লক্ষ টাকার মাছ পেলেছি সেই মাছ ধরেছি, মাছ ধরার সময় পুকুরের পাড় ভেঙ্গে গেছে।

মুক্তিযোদ্ধাদের অফিস ভেঙ্গে জায়গা দখল, পুকুরের মাছ বিক্রি, বালু উত্তোলনের বিষয়ে জানতে সুবর্ণচর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইবনুল হাসানকে ফোন করা হলে তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। সুবর্ণচর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) আরিফুর রহমানের সাথে মুঠোফোনে আলাপকালে তিনি বলেন, বালু উত্তোলনের বিষয়ে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি এবং কাজ বন্ধ করে দেই, সরকারি জায়গা ছাড়া কারো ব্যক্তিগত জায়গা সম্পত্তির বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা আমার এখতিয়ার নেই ওসব বিষয় আদালত বুঝবে। চরজব্বার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাহেদ উদ্দিন বলেন, বালি উত্তোলনের বিষয়ে আমি শুনেছি তবে কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি, লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। মুক্তিযোদ্ধাদের অফিস দখল করে ঘর নির্মাণের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছু শুনিনি জায়গাজমি সংক্রান্ত বিষয়টি এসিল্যান্ড এবং আদালত বুঝবে তবুও কেউ যদি আমাদের অভিযোগ দেয় বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখবো।

আরো পড়ুন