সুবর্ণচরে মানবিক সহায়তা জিআর বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টারঃ  নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার ২নং চরবাটা ইউনিয়নে পবিত্র রমজান উপলক্ষে দরিদ্র ও দুস্থ পরিবারের মাঝে মানবিক সহায়তা জিআর ও পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে দুস্থ, অতিদরিদ্র দুর্যোগ আক্রান্ত, ভিক্ষুকসহ যোগ্য পরিবারের মাঝে ভিজিএফ কর্মসূচির আর্থিক সহায়তা নগদ অর্থ বিতরণ কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

 

 

 

জানাযায়, জেলার সুবর্নচর উপজেলার ২নং চরবাটা ইউনিয়নে দরিদ্র ও দুস্থ পরিবারের মাঝে মানবিক সহায়তা ৫০০ পরিবারে ৫০০ টাকা করে ২ লাখ ২৫ হাজার টাকা ও পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে দুস্থ, অতিদরিদ্র, দুর্যোগ আক্রান্ত, ভিক্ষুকসহ যোগ্য পরিবারের মাঝে ভিজিএফ কর্মসূচির আর্থিক সহায়তা ২ হাজার ১ শত ৭২ টি কার্ডের প্রতি পরিবারে ৪৫০ টাকা করে ৯ লাখ ৭৭ হাজার ৪০০ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এ বরাদ্দের নগদ টাকা বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে স্থানীয় পশ্চিম চরবাটান গ্রামের ফয়েজ আহমেদের পুত্র সাহাব উদ্দিন, জগেশ্বর এর পুত্র বিভিষণ মজুমদার, শচিন্দ্র কুমার দাস এর পুত্র নিমাই চন্দ্র দাস, রান্নাত মজুমদারের ছেলে তরণী মজুমদার, মধ্য চরবাটা গ্রামের মহিবুল হকের পুত্র আবুল বাসারসহ এশাধিক ভুক্তভোগি ও ইউপি সদস্যরা।

 

পরিষদের ১২ জন ইউপি সদস্য ২৫ টি করে জিআর কার্ড পাওয়ার কথা থাকলেও ১/২ জন ছাড়া কোন ইউপি সদস্যকে জিআর কার্ড দেয়া হয়নি, এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা। মে ৭ তারিখ থেকে শুরু হয় এই অর্থ বিতরণের কার্যক্রম। ১২ মে বুধবার সকাল ১০টায় বিতলন কাজ শেষ হয় বলে দাবী করেন ইউপি সচিব সোহেল।

চরবাটা ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ পারভেজ অভিযোগ করে বলেন, ৪নং ওয়ার্ডের দুস্থ, অতিদরিদ্র মানুষের জন্য তিনি টি ভিজিএফ এবং জিআর কার্ড পেয়েছিলাম ৭০টি কিন্তু ইউপি চেয়ারম্যান মোজাম্মেল তার জিআর কার্ড পাওয়া মানুষদের ৫০০ টাকার স্থলে ৪৫০ টাকা দিলে লোকজন আমাকে ফোন করে পরে আমি চেয়ারম্যানকে ফোন করে অনেক ঝগড়াঝাঁটি করার পর জিআর এর ৫০০ টাকা করে কয়েকজনকে দিয়েছে বাকি ৮/১০ জনের মত লোককে ৪৫০ টাকা করে দেয়া হয়েছে।

 

এছাড়া রেজুলেশন না করেই যাদরেকে টাকা দেয়ার হয়েছে তাদের কাছ থেকে সাক্ষর বা টিপসই না নিয়েই চেয়ারম্যানের ইন্ধনে সচিবের যোগসাজশে সিরাজ চকিদারের মাধ্যমে টাকা বিলি করা হয়েছে। টাকা বিলির সময় ট্যাগ অফিসার উপস্থিত থাকার কথা ছিলো কিন্তু সেখানে ট্যাগ অফিসার ছিলেন না, এরকম অনিয়ম চলছে আমাদের ইউনিয়ন পরিষদে।”

 

৯নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মিয়া সারেং বলেন, আমাকে ৭০ টি ভিজিএফ কার্ড দেয়া হয়েছে, জিআর কি সেটা আমি শুনিনি। আমাদের ৫০০ টাকার কোন কার্ডও দেয়নি।
৬ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য খাজা বলেন, আমাদেরকে সব ৪৫০ টাকার ভিজিএফ কার্ড পেয়েছি ৫০০ টাকার কোন জিআর কার্ড আমাদের দেয়া হয়নি।

১,২,৩ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য চাপা আক্তার বলেন, আমাকে ২৫ টি জিআর কার্ড এবং ৫০ টি ভিজিএফ কার্ড দেয়া হয়েছে, তবে জিআর কার্ডে ৫০০ টাকা লিখা ছিলো কিন্তু কত দিয়েছে সেটা জানিনা, কাউ না পেলেতো আমি জানতাম। আমাদের প্রতিটি মেম্বারের জন্য ৪৫ টি ভিজিএফ কার্ড এবং ২৫ টি জিআর কার্ড বরাদ্ধ দিয়েছে চেয়ারম্যান কে অনুরোধ করে ৫টি ভিজিএফ কার্ড চেয়ে নিয়েছি।

৩ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য গোলাম হোসেন রাসেল বলেন, আামকে ৭০ টি ভিজিএফ কার্ড দেয়া হয়েছে সব ছিলো ৪৫০ টাকার কিন্তু আমাদের জন্য ২৫ টি জিআর কার্ড বরাদ্ধ থাকলেও তা আমাদের দেয়া হয়নি। এ বিষয়ে ইউপি সচিবের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন সেটা অন্য জায়গায় দিয়ে দিছে। এর বাহিরে আমি কিছুই জানিনা।

 

 

১ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শুক্কুর মেম্বার বলেন, আমাকে ৭০ টা কার্ড দিয়েছে সব ৪৫০ টাকার ভিজিএফ কার্য আমাকে কোন জিআর কার্ড দেয়া হয়নি। এসব অনিয়ম নিয়ে ৭ বছর পর্যন্ত মানমালিন্য, আর কত বলবো, যার মন যেমন চায় করতেছে আমার কি করবো। সচিব যদি বলে আমাদেরকে জিআর কার্ড দিয়েছে সেটা মিথ্যা।

 

এ ব্যপারে ২নংচরবাটা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হোসেন মোজামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন’ দূর মিয়া কিসের বিতরণ কার্ড” এই বলে ফোনের সংযোগ কেটে দেন। পরে একাধিকবার মুঠো ফোনে কল দিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।

 

এ বিষয়ে ২নং চরবাটা ইউনিয়ন সচিব গোলাম কিবরিয়া সোহেল বলেন, টাকা বিতরণে কোন অনিয়ম করা হয়নি, ট্যাগ অফিসারকে ও চেয়ারম্যান সহ টাকা বিতরণ করা হয়েছে, কেউ অভিযোগ করলে সেটা ভিত্তিহীন। কেউ বিতরণের দিন না আসায় চৌকিদার সিরাজকে বিরতণের দায়ীত্ব দেয়া হয়েছে, ইউপি সদস্যরা কেন ২৫ টি করে জিআর কার্ড পায়নি জানতে চাইলে তিনি বলেন, সকল ইউপি সদস্যদের কে ২৫ টি জিআর কার্ড এবং ৪৫ টি ভিজিএফ কার্ড প্রদান করা হয়েছে, তারা না পেয়ে থাকলে তখন আমাদের কাছে অভিযোগ করার দরকার ছিলো, এখন টাকা বিলি শেষ এখন বলে লাভ কি? ট্যাগ অফিসার উপস্থিত ছিলো বলে সচিব সোহেল দাবী করলেও সুবর্ণচর উপজেলা মৎস কর্তকর্তা (ট্যাগ অফিসার) খোরশেদ আলম বলেন, আমি উপস্থিত ছিলাম না, সচিব আমাকে একদিন ফোন করেছে, পরে আমি আমার একজন প্রতিনিধি পাঠিয়েছে, ৫০০ টাকার স্থলে ৪৫০ টাকা পেয়েছে বা কোন দূর্ণীতি হয়েছে এমন অভিযোগ আমাকে কেউ করেনি।

 

সুবর্ণচর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইবনুল হাসান ইভেন বলেন, “কোন অনিয়ম হয়েছে কিনা এ বিষয়ে কোন ভুক্তভোগি বা মেম্বার কেউ আমাকে জানাইনি।”

 

আরো পড়ুন