সুবর্ণচরে ঔষধের বিষক্রিয়ায় শিশুর মৃত্যু, বাবা হাজতে

মোঃ ইমাম উদ্দিন সুমন, নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ নোয়াখালী সুবর্ণচরে দেড় বছরের অসুস্থ্য শিশুকে অসাবধানতা বশত দীর্ঘদিন ঘরে পড়ে থাকা (মেয়াদোত্তীর্ণ) খোলা ঔষধ কিটোফ সিরাপ সেবন করায় এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

 

১৬ এপ্রিল শনিবার সকাল ৭ টায় ঘটনাটি ঘটে সুবর্নচর উপজেলার ৫নং চরজুবলী ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের চর জিয়া উদ্দিন গ্রামে। এ ঘটনায় শিশুর পিতা আব্দুর রহমানকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করে জব্বর থানা।

মামলার এজাহার, নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানাযায়, লক্ষপুর জেলার চর আলগী ইউনিয়ন, চর আলগী গ্রামের মাঈন উদ্দিনের পুত্র মোঃ আব্দুর রহমান ৮ বছর আগে সুবর্ণচর উপজেলার চরজিয়া উদ্দিন গ্রামে বাড়ী করে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন। বিগত ৩ বছর আগে চরজিয়া উদ্দিন গ্রামের ইউছুপের কণ্যা শারমীন আক্তার (২১) কে বিয়ে করেন। বিগত ১ বছর ধরে আব্দুর রহমান ও শারমীনের মাঝে পারিবারিক কলহ চলে আসছি। রমজানের ১ দিন আগে পারিবারিক কলহের জের ধরে শারমিন তার সন্তন আয়েশা আক্তার লামিয়া (১ বছর ৬ মাস) কে নিয়ে নানার বাড়ী জাহাঙ্গীর ঘোপালের চলে যান, শারমীনের বাবার বাড়ী আর আব্দুর রহমানের বাড়ী পাশাপাশি ছিলো সে সুবাধে আব্দর রহমান শিশু আয়েশা আক্তার লামিয়ার খোঁজ খবর নিতো।

 

১৭ এপ্রিল শনিবার আব্দুর রহমান প্রকাশ হুদয় মেয়ে আয়েশার অসুস্থতার কথা শুনে সকাল ৭ টার সময় তার নিজ বাড়ীতে নিয়ে যান, দীর্ঘদিন ঘরে পড়ে থাকা মেয়াদ উত্তীর্ণ এন্টিবাওটিক ঔষধ খাওয়ানোর কিছুক্ষণ পর বিষক্রিয়া শুরু হয়। পরে স্থানীয় পল্লী চিকিৎসককে দেখানো হলে তিনি সুবর্ণচর উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নেয়ার পরামর্শ দেন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করে।

 

খবর পেয়ে পু্লশি ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করে। এবং বাবা আব্দুর রহমানকে আটক করে। ময়নাতদন্ত শেষে এলাকার স্থানীয় মসজিদে যানাজা শেষে শিশুটিকে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় শারমিন বাদী হয়ে স্বামী আব্দুর রহমানের বিরুদ্ধে চরজব্বর থানায় একটি মামলা দাযের করে, মামলা নং ০৮/১৭/০৪/২২।

 

নিহতের মা শারমিনের অভিযোগ করে বলেন আব্দুর রহমান প্রায় আমাকে মারধর করে, ১৬ দিন আগে আমি আমার মেয়েকে নিয়ে নানার বাড়ীতে চলে আসি। ঘটনারদিন আমারন মেয়েকে আব্দুর রহমান তার বাড়িতে নিয়ে গেলে তার পর মেয়েকে অসুস্থ অবস্থায় আমার কাছে দিয়ে দ্রত চলে যায়। পরে শুনলাম মেয়েকে মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ খায়ানো হয়েছে। ততক্ষণে আমার মেয়ে বেঁচে নেই। আমার ধারনা আমার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে।

 

অভিযুক্ত আব্দুর রহমান হৃদয়ের বাবা মাঈন উদ্দিন, বোন এবং মা বলেন, শারমিন প্রায় হৃদয়ের সাথে ঝগড়াঝাঁটি করে বাবার বাড়িতে চলে যায়। রোজার ১ দিন আগে আয়েশাকে নিয়ে আবারও শারমিন তার নানার বাড়ী চলে যায়। কয়েকদিন ধরে আমরা শুনেছি লামিয়া অসুস্থ। খবর পেয়ে ঘটনারদিন আব্দুর রহমান মেয়েকে বাড়িতে আনে, শিশু আয়েশার জন্য পূর্বের কেনা জ্বর, সর্দিকাশির ঔষধ কিটোফ সিরাপ থেকে ১/২ চামচ খাওয়ানো হলে কিছুক্ষন পর শিশু আয়েশা ছটপট করে পরে তিনি শিশুটিকে তার মায়ের কাছে দিয়ে আসে। শিশু লামিয়া বুমি ও পায়খানা করে অচেতন হয়ে গেলে স্থানীয় পল্লী চিকিৎসককের কাছে নিয়ে যান, পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সুবর্ণচর স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে আনা হলে ডাক্তার শিশুকে মৃত ঘোষনা করেন। তিনি আরো বলেন ঔষধের ঘায়ে মেয়াদ ২০২৩ সাল পর্যন্ত মেয়াদ থাকলেও দীর্ঘদিন খোলা পড়ে থানায় ঔষধটি বিষক্রিয়া হয়ে যায় সেটা আব্দুর রহমান জানতো না।

 

চরজব্বর থানার এসআই মিদন মিয়া বলেন, অভিযুক্ত আব্দুর রহমান ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে স্বিকার করে তার মেয়েকে ঔষধ খাওয়ানো হয়েছে। পরে তার ঘর থেকে ঔধষধের বোতল উদ্ধার করা হয়েছে, আসামিকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। পোস্টমর্টেম রিপোর্ট পেলে বিস্তারিত জানা যাবে।

 

আরো পড়ুন