সাতক্ষীরাসহ সমগ্র এলাকায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হোক-

স্বীকৃতি বিশ্বাসঃ
ঘূর্ণিঝড় ইয়াস চলে গিয়েছে বেশ কিছুদিন হতে চললো।আস্তে আস্তে মিডিয়া,জিও,এনজিওসহ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গুলো ইয়াসের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্থ উপকূলীয় এলাকার দুঃখ,ব্যাথা,বেদনা ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মানের দীর্ঘদিনের দাবিগুলো ভুলতে বসেছে।কিন্তু ইয়াসের প্রভাবে যারা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্থ তারা ভুলতে পারছে না।

সাতক্ষীরাসহ সমগ্র উপকূলীয় অঞ্চলের জনগণের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারেনি। তাদের ঘরের মধ্যে এখনও পানি।ঘরের ভিতর পানি থাকায় অনেকে পরিবারপরিজন নিয়ে নৌকায় বসবাস করছে।চারিদিকে লবণাক্ত পানি থাকায় জৈবিক কাজ করার মতো জায়গায় না থাকায় ভাসমান পানিতে করতে হচ্ছে। এছাড়াও রয়েছে খাবার পানির তীব্র সংকট ।খাবার পানি সংগ্রহের জন্য দূরদূরান্ত থেকে পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে অত্র এলাকার মা- বোনদের।সবচেয়ে বেশী বিপদে আছে শিশু- কিশোররা।চারিপাশে পানি থাকায় যেকোন সময় পানিতে পড়ে ছোট শিশুদের মৃত্যুর সম্ভাবনা রয়েছে।
ঘরে মানুষের খাবার নেই, প্রতিপালিত গরু- ছাগলের খাবারের কোন ব্যবস্থা,চাষাবাদের জমি নেই( পানিতে নিমজ্জিত), চিকিৎসার ব্যবস্থা নেই, জীবনের নিরাপত্তা নেই,এতো প্রতিকূলতার পরেও উপকূলীয় অঞ্চলের লোকজন ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য নারীপুরুষ সম্মিলিত ভাবে বেড়িবাঁধ সংস্কারের কাজে নেমে পড়েছে এবং অনেক জায়গা সংস্কারও করেছে।আবার নিজদের ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য,ভাঙা মন নিয়ে চৌদ্দ পুরুষের ভিটেমাটি আঁকড়ে ধরে বাঁচার আপ্রাণ চেষ্টা করছে।চেষ্টা করছে নবজীবন লাভের।

কিন্তু গত কয়েকদিন আগে সংগঠিত হওয়া অমাবস্যার প্রভাবে আবারও অরক্ষিত বেড়িবাঁধের বিভিন্ন জায়গায় ফাটল দেখা দিয়েছে। ফলে যেকোন সময় বেড়িবাঁধ ভেঙে নতুন করে জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

আর তাই অত্র এলাকার প্রাণের দাবী যতদ্রুত সম্ভব বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে স্থায়ীভাবে বেড়িবাঁধ গুলো নির্মাণ করা হোক।

আরো পড়ুন