সাতক্ষীরার ইয়াস কবলিত এলাকায় পানিতে দাঁড়িয়ে জানাযা ও ইটের তৈরি কবরে দাফন সম্পন্ন

স্বীকৃতি বিশ্বাসঃ

ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর,কালীগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জসহ উপকূলীয় অধিকাংশ এলাকা বেড়িবাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়ে ঘরবাড়ি,ফসলের মাঠ,মাছের ঘের,গৃহপালিত গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি সবই কোন না কোনভাবেই ক্ষতিগ্রস্থ হয়।এমন কি নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য ও কাপড় চোপড়েরও সমস্যা দেখা যাচ্ছে নিম্ন আয়ের অধিকাংশ পরিবারে।

অর্ধাহারে অনাহারে থাকা লোকগুলো এতো সমস্যার পরে ও ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছে। সহায় সম্বল হারানো লোকগুলো নিজেদেরকে পরিবেশের সাথে অভিযোজিত করার জন্য ধনী-গরীব, জাতি ভেদাভেদ ভুলে স্ব উদ্যোগে বেড়িবাঁধ নির্মাণে নারীপুরুষ কিশোর- কিশোরী হাতে হাত রেখে কাজ করছেন এবং অনেকাংশেই সফল হয়েছেন। কিন্তু নতুন করে কাল হয়ে দেখা দিয়েছে আষাঢ়ের মুষলধারের বৃষ্টি। অতি বৃষ্টির ফলে আবারও নতুন করে প্লাবিত হচ্ছে সাতক্ষীরা র সমূদ্র তীরবর্তী এলাকাগুলো।
ইয়াসের ফলে জমে থাকা পানির সাথে বৃষ্টির পানি যুক্ত হয়ে সাতক্ষীরার প্রতাপ নগর ইউনিয়নের কয়েক শতাধিক গ্রাম আজ প্লাবিত। মানুষ মারা গেলে শেষ দাফনের পূর্বের কাজগুলো করার মতো কোন পরিবেশ যেমন নেই তেমনি নেই কবর দেওয়ার মতো সামান্য উঁচু জায়গায়ও।আর তাই এক এলাকা থেকে পার্শ্ববতী দূরে কোন উঁচু জায়গায় তার কবরের ব্যবস্থা করতে হচ্ছে। কিন্তু সেটাও যখন সম্ভব হচ্ছে না তখন পানির ভিতর ইট দিয়ে গেঁথে কবর তৈরি করে ও পানির ভিতর দাঁড়িয়ে জানাযা শেষ দাফন ও কাফনের কাজ শেষ করতে হচ্ছে।
আজ ১৮ জুন-২০২১ রোজ শুক্রবার সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি থানার প্রতাপ নগর ইউনিয়নে এভাবেই পানির ভিতর দাঁড়িয়ে অতিকষ্টে মৃতের জানাযা শেষে ইটের তৈরি কবরে দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।
কিন্তু কিছুক্ষণ পরে যেহেতু ভাঙা বেড়িবাঁধ অতিক্রম করে প্রবল বেগে জোয়ারের পানি আসবে তখনও আবার মৃতের স্বজনদের পাহারা দিতে হবে ঘন্টার পর ঘন্টা যাতে করে স্রোতের বেগে কবর ভেঙে লাশ ভেসে চলে না যায়।আর এভাবেই চলছে সমূদ্র উপকূলীয় মানুষের জীবনের হার মানা না বাস্তবধর্মী জীবনমূখী জনজীবন।

দেশের সকল জনগণ যখন বৈশ্বিক মহামারী করোনার সাথে বেঁচে থাকার লড়াই করছে তখন উপকূলীয় অঞ্চলের জনগণ করোনাকে নয় মৃত্যুর পর শেষ ঠিকানা কবরের ব্যবস্থা করা ও প্রিয়জনের কবর রক্ষা করাই লড়াই করছে। যা দেখার কেউ নেই।

ইয়াসের পর থেকে অত্র এলাকার জনগণ-১.ত্রাণ নয় পরিত্রাণ ,২. বেড়িবাঁধ মেরামত নয়, টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ ,৩. উপকূলীয় মানুষের সুরক্ষা,৪. সাইক্লোন সেন্টার নয়, নিরাপদ আশ্রয়, ৫. সুপেয় পানীয় জলের ব্যবস্থা ,৬. সুন্দরবনের সুরক্ষা ও৭. সেনাবাহিনী দ্বারা নদ- নদীর খনন ও রক্ষণাবেক্ষণের দাবি সমূহ জানিয়ে আসছেন।কিন্তু সাধারণ জনগণের কথা গুলো বলা ও শুনার লোক খুঁজে পাচ্ছে না।

আর তাই উপকূলীয় অঞ্চলের জনগণের আক্ষেপ, আমরা উপকূলীয় লোকগুলি সত্যি হতভাগা আমাদের দেখার জন্য না আছে জনপ্রতিনিধি না আছে সরকার।সারাদেশ করোনা মহামারীর বিরুদ্ধে বেঁচে থাকার লড়াই করছে আর আমরা করছি মৃত্যুর পরে শেষ ঠিকানা পাওয়া জন্য পানির ভিতর কবর তৈরি করে জোয়ারের হাত থেকে সেই কবর রক্ষা করার লড়াই!

আরো পড়ুন