সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে ছন্দপতন ঘটিয়ে মানবিক কার্যক্রমে ইয়ুথ বাংলা কালচারাল ফোরাম

নিজস্ব প্রতিনিধি

সুর আর সঙ্গীতে নয়, সাহিত্য আড্ডা বা কবিতা আবৃতিতে নয় অথবা ঋতু পার্বনে কোন বিনোদন বিলাসে নয়। এই এক নতুন অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করল ইয়ুথ বাংলা কালচারাল ফোরাম ইউ এ ই । আর সে অভিজ্ঞতা হল সৃষ্টির সেরা জীব মানুষের জন্য মানবিক হয়ে উঠা।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে সংগঠনটি যাত্রা শুরু হয়েছিল বিগত বছরের ১৩ ই অক্টোবর। আজমান প্যালেস হোটেলে একটি সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে এ সংগঠনটি আত্মপ্রকাশ করে।

মূলত এখানে সংগঠনটি বাংলাদেশের ইয়ুথ বাংলা কালচারাল ফোরামের প্রতিনিধিত্ব করছে । এই সংগঠন লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রকৃত ইতিহাস, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বর্ণাঢ্য জীবন ধারা ও বাংলা সাহিত্য সংস্কৃতিকে প্রবাসের মাটিতে তুলে ধরা বা সমৃদ্ধশালী করা । সেই লক্ষ্যে সংগঠনটির যাবতীয় কার্যক্রম এগিয়ে চললেও চলমান কোভিট ১৯ পরিস্থিতি ইয়ুথ ফোরামের কার্যক্রমে ছন্দপতন ঘটিয়েছে।

এই পরিস্থিতি ইয়ুথ বাংলার প্রতিটি সদস্যের মাঝে অনুভূতি জাগ্রত করেছে মানবিক হওয়ার জন্য। যার যা কিছু আছে তা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পর, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের এই শ্লোগানে বলিয়ান ইয়ুথ বাংলা কালচারাল ফোরাম ইউ এ ই’র সদস্যদের তৎপরতা বৃদ্ধি পেল চলমান পরিস্থিতিতে বিপাকে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ানো তাগিদে।

করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকানোর লক্ষ্যে আমিরাত যখন কার্যকরী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল। তখন দেখা যায় মানুষ কর্মহীন হয়ে আবদ্ধ হয়ে পড়ছে ঘরে। দেখা দে মানুষের মাঝে খাদ্য ও অর্থসংকট।

প্রবাসী বাংলাদেশীদের অবস্থা নাজুক হতে দেখে সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা শেখ ফরিদ, প্রেসিডেন্ট লেফটেন্যান্ট কাজী গুলশান আরা ,সাধারণ সম্পাদক আহমেদ ইখতেয়ার পাবেল , সাংগঠনিক সম্পাদক সদরুদ্দিন জামাল উচ্ছ্বাস মিলে তাৎক্ষণিক সংগঠনের পক্ষ থেকে জরুরী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
এই চারজনের পরিকল্পনায় শুরু হয় মানবিক হওয়ার যৌথ প্রয়াস। সোশ্যাল মিডিয়া সংযোগ এবং সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে খুঁজে বের করা হয় করোনার প্রাদুর্ভাবে বিপাকে পড়া মানুষগুলোকে। অর্থ জোগাড় করা হয় সংগঠনের উপদেষ্টা, কর্মকর্তা এবং সদস্যদের কাছ থেকে। এই ক্ষেত্রে বিশেষভাবে এগিয়ে আসেন সংগঠনের অন্যতম নারী উপদেষ্টা মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম বাংলাদেশী মালিকানাধীন পারফিউম কোম্পানি আল-হারামাইন গ্রুপের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মাহতাবুর রহমান নাসিরের স্ত্রী বাইজানু এন চৌধুরী। তাছাড়া ইন্ডিয়া , শ্রীলংকা ও ফিলিপাইনের কিছু শিল্প প্রতিষ্ঠান,অামিরাতে অবস্থানরত ইন্জিনিয়ার্স কমিউনিটি, ফটোগ্রাফার’স কমিউনিটি এবংকিছু ব্যক্তিবিশেষ ইয়ুথ বাংলা কালচারাল ফোরামের ভিন্নধর্মী এই মানবিক যুদ্ধে সহায়তার হাত বাড়িয়ে এগিয়ে এসেছেন।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশ দূতাবাস বাংলাদেশ কনস্যুলেট সহ-যেসব সংগঠন এবং ব্যক্তি বিশেষের উদ্যোগে যেভাবে খাদ্যদ্রব্য বন্টন করা হয়েছে তার চেয়ে একটু ব্যতিক্রম ছিল এই সংগঠনের ত্রাণ তৎপরতা। বিশেষ করে জরুরি ভিত্তিতে বিপাকে পড়া প্রতিটি মানুষের জন্য তিন বেলার পর্যাপ্ত খাবার বিতরণ করার উদ্যোগ নেন ইয়ুথ বাংলা কালচারাল ফোরাম ইউ এ ই।

মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে এই পর্যন্ত ১২৫০০ বিপাকে পড়া প্রবাসী বাংলাদেশীকে তিন বেলা খাবারের পণ্য বিতরণ করেছেন বলে সংগঠনের প্রেসিডেন্ট কাজী গুলশান আরা জানান।

তিনি বলেন যখন দেখলাম লকডাউনের কারণে হঠাৎ করে হাজার হাজার প্রবাসী বাংলাদেশী কর্মহীন হয়ে খাদ্য সংকটে পড়েছেন তখন দুবাই উত্তর আমিরাতের বাংলাদেশী মালিকানাধীন দুটি প্রসিদ্ধ হোটেল হুদায়বিয়া রেস্টুরেন্ট ও ফুড ভিলেজ রেস্টুরেন্ট মালিকের সাথে যোগাযোগ করি। তারা সম্মতি দেন সহায়তা করার জন্য। এগিয়ে আসেন ইঞ্জিনিয়ার্স কমিউনিটি এবং ফটোগ্রাফার’স কমিউনিটি। সর্বপ্রথম তাদের সহায়তায় আমরা মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য মাঠে নেমে পড়ি। তারপর শুরু হয় অবিরাম যুদ্ধ । যে ময়দানে এখনো ঠাই দাঁড়িয়ে আছি ।

সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা শেখ ফরিদ বলেন ইয়ুথ বাংলা কালচারাল ফোরাম ইউ এ ইর প্রেসিডেন্ট কাজী গুলশান আরা, সাধারণ সম্পাদক আহমেদ ইখতিয়ার পাবেল ও সাংগঠনিক সম্পাদক সদরুদ্দিন জামাল উচ্ছ্বাসের অক্লান্ত পরিশ্রম ও মানবিক হয়ে ওঠার বিষয়টি আগামীতে ইতিহাস হয়ে থাকবে।ইয়ুথ বাংলা সংগঠনটি আজ কালচারাল সংগঠন নয় এক মানবিক ও সামাজিক সংগঠনে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন আমারও ইচ্ছে ছিল সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মধ্যে সংগঠনটির সদস্যরা নিজেদের সীমাবদ্ধ না রেখে সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে নিজেদের তুলে ধরুক। তাই আজ মানবিক কর্মকান্ডের মাধ্যমে এই সংগঠনটি আমিরাতের বুকে সুন্দর আগামীর জন্য এক ইতিহাস রচনা করে রাখল।

ইয়ুথ বাংলা কালচারাল ফোরামের সাধারণ সম্পাদক আহমেদ ইখতেয়ার পাভেল বলেন আমাদের সংগঠনের যার যত সামর্থ্য আছে তা নিয়ে এগিয়ে এসেছি ।পাশাপাশি দু একটি বিদেশি প্রতিষ্ঠান আমাদের সহায়তা করেছে ।আমাদের সামর্থ্যের চেয়ে আমাদের মনোবল ছিল তুঙ্গে । গত দেড় মাস যাবত আমরা বিপাকে পড়ে মানুষগুলোকে খাদ্য সঙ্কট থেকে বাঁচানোর লক্ষ্যে অবিরাম কাজ করে যাচ্ছি। এই মুহূর্তে সকল মানুষেই বিপাকে আছে । পরিস্থিতি আমাদের অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে ধাবিত করছে। জানিনা আমরা আগামীতে আর কত দূর এগুতে পারবো।

সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক সদরুদ্দিন জামাল উচ্ছ্বাস বলেন সহায়তার পরিধি থেকে চাহিদার পরিধি অনেক বড়। সংকট কাল এতো দীর্ঘস্থায়ী হবে তা আমাদের কল্পনায ছিল না। তাই এইসব কার্যক্রমে চেয়ে না থেকে প্রবাসী বিত্তবানদের এগিয়ে আসা উচিত। তিনি সংকটকাল মুহূর্তে সংস্কৃতিমনা সংগঠনের সদস্যদের মহৎ হৃদয় নিয়ে মানবিক কাজে এগিয়ে আসার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান ।

আরো পড়ুন