সাংবাদিকতা নিয়ে ভাবতে হবে

সাংবাদিক মনিরুজ্জামান খানঃ

সবক্ষেত্রে শিক্ষাগত ও পেশাগত যোগ্যতাকে প্রাধান্য দেয়া হলেও শুধু মাত্র এই সাংবাদিকতা পেশাকেই দিনে দিনে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। এখনেই ভাবতে হবে সাংবাদিকতা।কোন দিকে যাচ্ছে পেশা। কুলিষিত করছে এই পেশাকে।একটা পোর্টাল বা ইউটিউব চ্যানেল খুললেই হয়ে যায় সাংবাদিক। তাই ভাবতে হবে।সবচেয়ে বেশি ভয়ংকর হচ্ছে মাদক ব্যবসায়ীরা। এ-ই পেশা পুঁজি করে করছে মাদক সেবনসহ ব্যবসা আরও বেশকিছু অপরাধ। সবচেয়ে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে মাদক সেবনকারী,মাদক ব্যবসায়ী,গাড়ির ড্রাইভার, দালাল, নারী কেলেঙ্কারি, সুদ-ব্যবসায়ীসহ অন্তর্ভুক্ত তালিকায়। এর কারণও বিশিষ্ট লেখক গবেষকরা উল্লেখ করছেন একটাই কারণ তা হচ্ছে শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ না করার কারণে এই অবস্থা এই পেশা। ফটোকপি দোকানদার,ফলের দোকানদার এ-ই পেশায় তড়িতগতিতে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে।

সাংবাদিক নিয়োগ বাণিজ্য চলছে চলুক; কিন্তু ইয়াবাখোর, মাদক ব্যবসায়ী, চোর বাটপার, লুটেরা ও সাজাপ্রাপ্ত আসামীদেরকে টাকার বিনিময়ে প্রেস কার্ড দেয়াটা যেমন ভয়ঙ্কর তেমন সুশাসনের জন্য বিপদজ্জনক।

তাদেরকে কার্ড দিয়ে রাস্তায় ধান্ধা করার জন্য ছেড়ে দিয়ে এই পেশাকে শেষ করে দিয়েছে এক শ্রেণীর ব্যবসায়ী। কারণ আগে এই পেশা করত সুশীল বুদ্ধিজীবিরা আর এখন এই নিউজ মিডিয়া চালায় ব্যবসায়ীরা ও রাজনীতিবিদরা। যে ব্যবসায়ীরা সাংবাদিকদের ভয়ে দুনাম্বারী করতে পারত না আর এখনও সেই ব্যবসায়ীদের পা চাটতে হয় আর পেশাটাকেও চালাতে হয়। এখন এইভাবেই চলে আর চলবে। কারন এই মিডিয়া এখন তাদের দখলে। সাংবাদিক ও সাংবাদিকতা শুধু নামে মাত্র। দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানোর মতই।

এমনিতেই এই পেশার জৌলুস ও গৌরব মৃত। তার উপর ব্যবসায়ী সম্পাদকরা টাকার বিনিময়ে কার্ড বিক্রি করে পেশাটাকে ব্যবসায় পরিনত করেছে। এখন এই পেশায় আসতে হলে যোগ্যতা বা শিক্ষা কিছুই লাগেনা। লাগে শুধু টাকা। এই পেশার মান যতটুকুই আছে সেইটুকুকে অন্ততপক্ষে রক্ষা করা যায়। কথায় আছে ” আদা পচে গেলেও ঝাঁজ থাকে”।

এই সাংবাদিকতা পেশায় উচ্চশিক্ষা আবশ্যক। কারণ তাকে আইন, শিক্ষা, চিকিৎসা, প্রশাসন, বিজ্ঞান, তথ্য প্রযুক্তিসহ সব ধরনের জ্ঞান রাখতে হয়। তাই এই পেশায় আসতে হলে শিক্ষাগত যোগ্যতা কমপক্ষে মাস্টার্স ডিগ্রি করা হউক। কর্তৃপক্ষের কাছে বিনীত অনুরোধ রইল। নইলে এই পেশার ঐতিহ্য অচিরেই নষ্ট হয়ে যাবে।

আরো পড়ুন