শার্শায় শ্রমিকের অভাবে মাঠেই পানিতে ভাসছে পাকা ধান: বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে শতশত বিঘা কৃষকের সোনালী স্বপ্ন।

শার্শা প্রতিনিধি : যশোরের শার্শায় তিন দিনের বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে শত শত বিঘা বরো ধান। সময় মত ঘরে তুলতে না পেরে ডুবে যাওয়া ধান নিয়ে গভীর ভাবে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন অনেক কৃষক।

ফলন ভালো হলেও আবহাওয়া পরিস্থিতি ও শ্রমিক সংকটের কারণে সঠিক সময়ে ধান কাটতে না পেরে বিপাকে পড়েছেন ওই সমস্ত কৃষক পরিবার গুলো।

ঈদের আগে থেকে কিছু কিছু এলাকায় ধান কাটা শুরু হলেও অনেকেই ধান বাড়িতে না এনে জমিতেই গাদা দিয়ে রেখে দেন কৃষকরা। কারো কারো ঈদ চলে যাওয়ার অপেক্ষা করতে থাকায় বৃষ্টিতে মলিন হয়ে গেছে তাদের মুখের হাসি। পানিতে তলিয়ে গেছে কৃষকের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন।

বাতাসে হেলে পড়েছে অনেকের দাড়িয়ে থাকা পাকা ধান গুলো। ফলে কাটা এবং গুছিয়ে ঘরে তোলাসহ শুকানো নিয়ে পড়ে গেছে বড় বেকায়দায়।
বৃষ্টি বিরতিতে নতুন করে কৃষকরা তাদের সোনার ফসল গুছাতে ব্যস্ত হয়ে পড়লেও অনেক কৃষকের পাকা ধান শ্রমিক সংকটে মাঠেই দন্ডায়মান রয়েছে।
বর্তমান আবহাওয়া পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকায় কৃষকরা কি করবেন সে ভাবনায় ভেঙে পড়েছেন ধান কাটতে না পারা কৃষকরা

সর্বশেষ আজ সোমবার (৯ই মে) সকাল ১১টা থেকে বৃষ্টি আরাম্ভ হয়। মুশুল ধারে বৃষ্টিতে পানির নিচে তলিয়ে গেছে কৃষকের শত শত বিঘা বরো ধান। সেই সাথে তলিয়ে গেছে কৃষকের সোনালী স্বপ্ন।

আবহওয়া অধিদপ্তরের হুশিয়ারি বার্তা অনুযায়ী বঙ্গোপসাগরে থাকা গভীর নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড় “অশনি”তে পরিণত হয়েছে। এটি আরও ঘনীভূত হয়ে উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে বলে জানা যায়।

কৃষক রহমত আলী বলেন প্রখর রোদ্রে রোজা রেখে ধান কাটতে পারিনি তাছাড়া ধান ও পাকিনি। তাই ঈদের দুই দিন পরে ধান কাঁটা শুরু করি। বাঁধার আগেই বৃষ্টি তে আমার ধানের জমিন তলিয়ে গেছে।

আমার পরিবারের চার সন্তান সহ স্ত্রী বিধবা মাকে নিয়ে কি করবো। আমি কৃষক আমার ফসলের উপর নির্ভর। আমি কি করে সংসার চালাবো। কৃষক সাহাজান আলী জানান,তিন বিঘা ধানের মধ্যে এক বিঘা ধান বাসায় নিয়ে আসতে পেরেছি। এক বিঘা বিচলী বাঁধা হয়েছে বাকী দুই বিঘা কেটে জমিতে ফেলে রাখা, এই বৃষ্টিতে আমার ধানের কি হবে? এই ফসলের উপর আমার নির্ভর।

সিরাজুল ইসলাম বলেন আমার দুই বিঘা ধান মাঠে। আমার চারটা গরু আছে বিচলী সব খাওয়ানো শেষ। এই বৃষ্টিতে ধান বাড়িতে না আনতে পারলে আমরা সহ গরু গুলো না খেয়ে থাকবে। কৃষক আমীর হোসেন জানান, প্রতি বছর দক্ষিনাঞ্চল থেকে আসা শ্রমিক দিয়ে ধান কাটতে হয় কিন্তু এবছর খুব কম শ্রমিক আসায় মাঠের পাকা ধান এখনো কাটা হয়নি।

শার্শা উপজেলা কৃষি অফিসার প্রতাপ মন্ডল বলেন, আবহাওয়া পরিস্থিতি কিছুটা খারাপ হলেও দুই দিনের বৃষ্টিতে ধানের তেমন কোন সমস্যা হবেনা। তবে আজকের বৃষ্টির আগে যারা এখনো ধান ঘরে তুলতে পারিনি তাদের ধানের কিছুটা ক্ষতি হতে পারে।

যত দ্রুত সম্ভব মাঠ থেকে পানি অপসারণ করে ধান সংগ্রহ করে বাড়িতে আনার চেষ্টা করতে হবে। চলতি মৌসুমে শার্শায় ২৩ হাজার ৬শ হেক্টর জমিতে ধানের আবাদের লক্ষমাত্রা নির্ধারন করা হলেও আরো ৬০ হেক্টর বেশি জমিতে ধান চাষ হয়েছে। যার উৎপাদন লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৯৪ হাজার ৫শ ৬০ মেট্রিক টন।

আরো পড়ুন