রেড ভলেন্টিয়ার্স-

স্বীকৃতি বিশ্বাস
যশোর:
ভারতের পশ্চিম বঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হয় ২ মে।ফলাফলে দেখা যায় ধর্মীয় মেরুকরণের রাজনীতি থেকে পশ্চিম বঙ্গকে রক্ষা করার জন্য গঠিত বামদল, কংগ্রেস, ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট সমার্থিত সংযুক্ত মোর্চা একটি আসন পেয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ ৩৪ বছর শাসন ক্ষমতায় থাকা বাম সংগঠন পেয়েছে শূন্য আসন যা ছিল কল্পনাতীত। দল একটি আসনও পাইনি তারপরওবিজয়ীদল তৃণমূল কংগ্রেস তাদের নেতাকর্মী,সমার্থকদের বাড়িঘর,ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভাংচুর করছে,শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করছে ও পার্টির অফিস ভেঙে চুরমার করছে।সরকার দলীয় সংগঠনের এধররণের অমানবিক আচারণ দেখে মনে হয়েছে বিজেপি তাদের প্রতিপক্ষ নয় বামসংগঠনই যেন তাদের প্রতিপক্ষ।বাম সংগঠনগুলোর অবস্থা যখন করোনা রোগীর মতো দিনকে দিন অক্সিজেন লেবেল কমতে কমতে মৃত্যু পথযাত্রী,বাঁচার আশা বা রাজনৈতিক অঙ্গনে টিকে থাকার কোন সমূহ সম্ভাবনা নেই বললেও ভুল হবে না, এমনকি বামদলের সকল রাজনৈতিক নেতাকর্মী যখন শোকের অথৈই সাগরে ভাসছে তখনো কিছু কর্মী সমার্থক গতবছর করোনাকালীন সময়ে প্রতিষ্ঠিত শ্রমজীবি ক্যান্টিনে খাবার রান্না করে গরীব অসহায় ও করোনা রোগীদের বাড়ি পৌঁছে দিচ্ছে, রাত বিরাতে অক্সিজেন পৌঁছে দিচ্ছে, অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে ভর্তি, আইসিইউ এর ব্যবস্থা,ওষুধের ব্যবস্থা করে দিচ্ছে,এমনি কি কোন রোগী মারা গেলে দাফন-কাফনের ব্যবস্থা করে দিচ্ছে। সেখানে না আছে কোন জাতি- ধর্ম- বর্ণ, না আছে কোন রাজনৈতিক পরিচয় । তাদের এই সেবা বিদেশে অবস্থানরত লোকজন তাদের বাড়ির মা- বাবাদের চিকিৎসা, ওষুধসহ সার্বিক সহযোগিতার জন্য নিচ্ছে এবং তারাও নির্দ্বিধায় ছুটে যাচ্ছে সহযোগিতার জন্য। দিনরাত ছুটে চলা এই যুবদের নাম রেড ভলেন্টিয়ার।

গত বছর ভারতে করোনার প্রার্দুভাব শুরু হলে স্বল্প পরিসরে বিভিন্ন জেলায় শুরু হলেও এবার সমগ্র পশ্চিম বঙ্গের শহর থেকে গ্রামে বিস্তৃত হয়েছে এই রেড ভলেন্টিয়ারদের সেবার পরিধি।গতবছর যে রেড ভলেন্টিয়ার ছিল কয়েক হাজার এবছর এই রেড ভলেন্টিয়ারদের সংখ্যা গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৮৩ হাজারের মতো। তারা তাদের মোবাইল নম্বর ওয়ার্ডে ওয়ার্ডেদেওয়ালে লিখে টানিয়েছে,ফেসবুক ও বিভিন্ন গ্রুপে দিয়ে দিয়েছে এবং তারা একটা ফেসবুক পেজও খুলেছে যেখানে রেডভলেন্টিয়ারদের নাম,মোবাইল নম্বরসহ যাবতীয় তথ্য দেওয়া আছে।যদি কারো কোন সেবার প্রয়োজন হয় তাহলে মোবাইলে কল করার সাথে সাথে রকেটের গতিতে গিয়ে উপস্থিত হয়ে প্রয়োজনীয় সেবা প্রদান করছে।
যখন সমগ্র বিশ্ব জাতি-ধর্ম- বর্ণ,সম্প্রদায়িক গোষ্ঠী দ্বদ্ধে দিশেহারা, পৃথিবীর অপরূপ সুন্দর নীল আকাশ যখন রকেট লাউঞ্জের কালো ধোঁয়ায় ঢেকে ফেলেছে তখন সেই কালো ও বিষাক্ত ধোঁয়ার বুক চিরে সূর্যের রক্তিম আভা হয়ে গ্রাম থেকে শহর, শহর থেকে দূরে, বহুদূরে,সেই বিদেশ বিভুইয়ে অবস্থানরত রেমিট্যান্স যোদ্ধার হৃদয় পর্যন্ত স্পর্শ করা অগ্নিগিরির অগ্নিগর্ভ থেকে বের হয়ে আসা ভালবাসার নাম রেড ভলেন্টিয়ার।
করোনার এই বৈশ্বিক সুনামির আঘাতে সমগ্র মানব সভ্যতা যখন দিশেহারা হয়ে দ্বিকবিদিক ছুটছে টীকা,অক্সিজেন, হাসপাতাল- ক্লিনিকের বেড ও আইসিইউ- এর জন্য,এমনই এক ক্রান্তিকালে সীমিত সাধ্যের মধ্যে বৃহৎ সেবা দেওয়ার মনমানসিকতা নিয়ে এগিয়ে যাবার মতো লোক ক’জনই বা আছে?আজ যেখানে ঘরেঘরে, পাড়ায়পাড়ায় গোষ্ঠীদ্বদ্বে দিশেহারা, ব্যক্তি স্বার্থের কাছে সামগ্রিক স্বার্থ যেখানে তুচ্ছ তেমনিই এক সংকটকালীন সময়ে যারা নিজেদের মৃত্যু ভয় উপেক্ষা করে মানুষকে বাঁচিয়ে তোলার আপ্রাণ প্রচেষ্টা চালাচ্ছে- সেখানে না আছে জাতি, ধর্ম,বর্ণ, না আছে কোনো রাজনৈতিক রং। তাদের পরিচয় রেড ভলেন্টিয়ার।

এই স্বেচ্ছাসেবকরা তোমার আমার মতো কতশত বাবা- মা- সন্তানের প্রাণ বাঁচিয়ে তুলছে অসীমমায়া মমতা ও ভালবাসা দিয়ে।তাদের একটাই পরিচয় তারা মানুষ।তাদের দেখানো পথ অনুসরন করে যদি আমাদের বাংলাদেশের প্রতিটি পাড়ায়,মহলায় এই ধরনের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গড়ে তোলা যায় তবে ইদের পরে হতে যাওয়া করোনার তৃতীয় সুনামি থেকে অনেকটাই নিজেদের রক্ষা করার পথ প্রশস্থ হবে।

আরো পড়ুন