যশোর শহরে জীবনের ত্রাতা হিসাবে অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে উপস্থিত হচ্ছে ৩টি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন

স্বীকৃতি বিশ্বাস, যশোরঃ

বৈশ্বিক মহামারী করোনার দ্বিতীয় সুনামি বাংলাদেশকে বিষাক্ত সাপের ন্যায় গ্রাস করেছে। প্রতিদিনই গাণিতিক হারে বাড়ছে করোনার সংক্রমণ ও মৃতের সংখ্যা। করোনার সংক্রমণের হটস্পট হিসাবে এবার অর্বিভাব হয়েছে দেশের সীমান্তবর্তী জেলাসমূহ। সীমান্তবর্তী যশোর জেলার সদর উপজেলায় করোনার সংক্রমণ সুপার পাওয়ার নিয়ে অবতীর্ণ হয়েছে। ফলে একমাত্র মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ডেডিকেটেড ইউনিটে আসন সংখ্যার দ্বিগুণেরও বেশী রোগী অবস্থান করছে হাসপাতালটিতে।ফলে মেঝেতে অবস্থান করছেন অর্ধেকেরও বেশি রোগী। হাসপাতালে রোগীর চাপ খুবদ্রুত বেড়ে যাওয়ায় চিকিৎসা সেবা দিতে হিমসিম খাচ্ছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।এছাড়াও রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় করোনা রোগীর প্রাণ সঞ্জীবনী অক্সিজেনের চাহিদাও বেড়ে গেছে কয়েকগুণ। যা সরবরাহ ও যোগান দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না হাসপাতাল থেকে।

যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ডেডিকেটেড ইউনিটের বর্তমানে রোগীর চাপ বেশি হওয়ায় যশোর শহরের আশেপাশেরঅধিকাংশ করোনা রোগী এখন হাসপাতালে না গিয়ে বাড়িতে চিকিৎসা নেওয়ায় স্বচ্ছন্দ বোধ করছেন।কিন্তু যে সকল রোগীর হঠাৎ করে অক্সিজেন লেভেল কম হয়ে যাচ্ছে তাদের কৃত্রিম উপায়ে অক্সিজেনের সরবরাহ করার প্রয়োজন হচ্ছে।ফলে অক্সিজেন সিলিন্ডারের প্রয়োজন পড়ছে। কিন্তু অক্সিজেন সিলিন্ডার ক্রয় করা সবার পক্ষে সম্ভব নয়। তাই তখন করোনা আক্রান্ত রোগীদের পরিবারের লোকজনের এখন পর্যন্ত একমাত্র ভরসাস্থল প্রাক্তন ছাত্র মৈত্রীদের মানবিক সহায়ক কমিটির স্বেচ্ছাসেবকরা ও তাদের সরবরাহকৃত অক্সিজেন, যশোর জেলার দীর্ঘদিন পরিচালিত বিবর্তন নাট্যগোষ্ঠীর স্বেচ্ছাসেবকদের অক্সিজেন সিলিন্ডার ও যশোর আরএনরোডের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সিলিন্ডার।
৪ জুলাই -২০২১ রোজ রবিবার সকাল থেকে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত মৈত্রী মানবিক সহায়ক কমিটির স্বেচ্ছাসেবকগণ যশোর শহরের বেজপাড়া বনানী রোড,হুশতলা,আরএন রোড, বেজপাড়া ছায়াবীথি রোড়, ঘোপ,মোল্লাপাড়া ও ষষ্ঠীতলাপাড়া নিজেরা অক্সিজেন সিলিন্ডার পৌঁছে দিয়ে এসেছেন এবং জীবনের ঝুঁকি নিয়ে করোনা রোগীর শরীরে অক্সিজেন সরবরাহের ব্যবস্থা করেছেন।এছাড়া শহরের সন্নিকটে ও অদূরে অবস্থিত চুড়িপট্টি, বেজপাড়া রূপদিয়া নরেন্দ্রপুর ও ষষ্ঠীতলাপাড়ার অনেকেই তাদের অফিস থেকে সংগ্রহ করেছেন।
এসময় মৈত্রী ভলেন্টিয়ার্সরা ১২ জন রোগীর জন্য অক্সিজেন সিলিন্ডার সরবরাহ করেছেন।এর ভিতর ৮ টি অক্সিজেন সিলিন্ডার ভলান্টিয়ার্স টীম রোগীদের বাড়ি পৌঁছে দিয়েছে এবং বাকি ৪ টি সিলিন্ডার রোগীর স্বজনরা তাদের অফিস থেকে সংগ্রহ করেছেন।
হঠাৎ করে অক্সিজেন সিলিন্ডারের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় যশোরের বিবর্তন নাট্যগোষ্ঠীর নিকট থেকে ৩ টি সিলিন্ডার সংগ্রহ করে রোগীদের দেওয়া হয়েছে।
ঠিক একইভাবে বির্বতন নাট্যগোষ্ঠীর স্বেচ্ছাসেবকও আরএনরোডের স্বেচ্ছাসেবকরা দিনরাত কাজ করছে করোনা রোগীদের জীবনদায়ী অক্সিজেন পৌঁছে দেওয়ার জন্য।
দিন যত যাচ্ছে ততোই অক্সিজেন সিলিন্ডারের চাহিদা বেড়ে যাচ্ছে। ফলে সীমিত সিলিন্ডার দিয়ে এই সেবা কার্যক্রম চালিয়ে নিতে হিমসিম খেতে হচ্ছে। তাই এই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো সমাজের সকল বিত্তবান লোকদের সহযোগীতা কামনা করছেন।

আরো পড়ুন