যশোরে মৈত্রী ভলান্টিয়ার্সদের দুঃসাহসী মানবিক অভিযান

স্বীকৃতি বিশ্বাস,যশোরঃ

বৈশ্বিক মহামারী করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের আঘাতে সারাবিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশও আজ ক্ষতবিক্ষত। বিশেষ করে ভারতের সীমান্তবর্তী জেলা যশোরের অবস্থা দেশের অন্য জেলার থেকে একটু বেশি শোচনীয় ।আর তাই যশোর জেনারেল হাসপাতালে করোনা রোগী ধারণের সক্ষমতা না থাকায় হাসপাতালের বারান্দায়,পথের ধারে,অ্যাম্বুলেন্সে বা ভ্যানের পরে করে করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা সেবা নিতে দেখা গেছে।ফলে হাসপাতালের করোনা ডেডিকেটেড ইউনিটে একটি শয্যা পাওয়া রীতিমত সোনার হরিণের মতো হয়ে দাঁড়ায়।
একদিকে হাসপাতালের স্বল্প সংখ্যক ডাক্তার, নার্সসহ চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিতদের অসহায়ের মতো আত্মসমার্পণ অন্যদিকে করোনার চিকিৎসার জন্য অতি প্রয়োজনীয় অক্সিজেনের সরবরাহ ও আইসিইউ এর ব্যবস্থা না থাকায় রীতিমত চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল সমগ্র যশোরবাসীর জন্য।
তাই অনেক সচ্ছল, অসচ্ছল ও পিছিয়ে পড়া হতদরিদ্র করোনা আক্রান্ত রোগীকে বাধ্য হয়েই নিজের বাসায় থেকে চিকিৎসা নিতে হয়েছে।

চিকিৎসা ব্যবস্থার এমনই লাজুক পরিস্থিতিতে চারিদিকে শুধু করোনায় আক্রান্ত রোগীদের মৃত্যুর বিশাল মিছিল আর অক্সিজেনের অভাবজনিত কারণে করোনার রোগীদের অক্সিজেন স্বল্পতার কারণে বেঁচে থাকার যে আপ্রাণ চেষ্টা লক্ষ করা যায় তাতে জনজীবনে দুর্বিসহ শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

করোনা আক্রান্ত রোগী ও স্বজনদের দীর্ঘশ্বাসে সমগ্র যশোরের আকাশ-বাতাস প্রকম্পিত।সরকারি – বেসরকারি বড় বড় হাসপাতাল ও প্রতিষ্ঠান করোনার এই ক্রান্তিলগ্নে চিকিৎসা সেবা দিতে অনেকাংশেই ব্যর্থ। ঠিক জাতির এমনই একটি দুঃসময়ে যশোরের আপামর জনগণের ত্রাতা হয়ে হাজির হয়েছে মৈত্রী ভলেন্টিয়ার্সদের ২০/২৫ জন স্বেচ্ছাসেবক ।

২৭ জুন থেকে শুরু করে অদ্যাবধি তারা করোনা আক্রান্ত রোগী ও তাদের পরিবারের পাশে আছে।তাদের যাত্রাটা শুরু হয়েছিল শূণ্যহাতে।শূন্যহাতে যাত্রা শুরু করে আজ তারা যশোরবাসীর আস্থার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।যশোর শহরের ভিতর যদি কারো অক্সিজেন প্রয়োজন হয় তাহলে সর্বপ্রথমেই মানুষ স্মরণ করছে মৈত্রী ভলান্টিয়ার্সদের।একইভাবে খাদ্য সংকটে অথবা করোনা আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা সংকটে পড়ে ডাক্তারের পরামর্শের প্রয়োজন হলে টেলিমেডিসিনের মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছে তাদের সমমনা কিছু অভিজ্ঞ ডাক্তারবৃন্দ নিকট থেকে । আর এই বিশাল কর্মযোগ্য সম্ভব হয়েছে অসংখ্য মানুষের ভালবাসা ও মৈত্রী ভলেন্টিয়ার্সদের ঐকান্তিক চেষ্টা, শ্রম,মেধা এবং সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার জন্য।

গতবছর করোনা শুরু থেকে আজ পর্যন্ত মৈত্রী ভলেন্টিয়ার্সরা স্বাস্থ্যসেবা, খাদ্য ও পোশাক সহায়তা,মাস্ক বিতরণ, করোনা টীকা গ্রহনের জন্য রেজিষ্ট্রেশনসহ অক্সিজেন সেবা দিয়ে যাচ্ছে। তাদের কাছে অক্সিজেন সিলিন্ডার আছে ১১২ টি।এই সিলিন্ডারের মাধ্যমে ৩৩৮ জনকে ৯৯৭ বার অক্সিজেন সেবা দিয়েছেন। সেবা দেওয়া ৩৩৮ জনের মধ্যে ২৯ জনকে একাধিকবার অক্সিজেন সেবা দিলেও করোনার হাত থেকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।বাকি ৩০৯ জন সুস্থতার দিকে।

মৈত্রী ভলেন্টিয়ার্সদের মহা কর্মযোগ্যে ১৬৭০ জন দেশ-বিদেশের মানবিক বন্ধু সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে তাদের কার্যক্রমকে গতিশীল করেছেন। তাদের এই মানবিক কার্যক্রমকে চলমান রাখার জন্য সমাজের বিত্তবানসহ সকলের সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন।সহযোগিতার হাত বাড়াতে চাইলে Moitry Volunteers, AC/NO- 01411200021525, First Security Islami Bank Ltd. Jashore Branch পাঠাতে পারেন অথবা 01713078267 বিকাশ নম্বরে আর্থিক সহায়তা পাঠাতে পারেন।

উল্লেখ্য যতদিন করোনার প্রার্দুভাব থাকবে ততোদিন মৈত্রী ভলেন্টিয়ার্সদের এই সামাজিক স্বেচ্ছাসেবকমূলক কাজগুলো চলমান থাকবে।আর তাই সকলের সহযোগিতা একান্ত কাম্য।

আরো পড়ুন