যশোরে বিকেএসপির দুই শিক্ষার্থীর মানবিক সহায়তা

স্বীকৃতি বিশ্বাস,
যশোর:

বৈশ্বিক মহামারী করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের আঘাতে সীমান্তবর্তী যশোর জেলার সাধারণ জনগণ হতবিহ্বল। চারিদিকে করোনা আক্রান্ত রোগীর অক্সিজেনের স্বল্পতা, অন্যদিকে প্রতিদিন যশোরের প্রতিটি পাড়া,মহলায় এক দুইজনের মৃত্যুতে সাধারণ জনগণের মধ্যে মৃত্যুভীতি কাজ করছে।তারপরও থেমে নেই জীবন চলা।

যশোরসহ সমগ্র দেশে দীর্ঘদিন যাবত লকডাউন চলমান। লকডাউনের কারণে সব ধরণের হোটেল, রেস্টুরেন্টেসহ যেকোনো ধরনের খাবারের দোকান দীর্ঘদিন যাবত বন্ধ আছে। অনেক সময় দেখা যায় ঐ সকল হোটেল বা রেস্টুরেন্টের উচ্ছিষ্ট খাবার খেয়ে শহরের ছিন্নমূল, অভাবী মানুষ নূন্যতম বেঁচে থাকার চেষ্টা করে।শুধু মানুষই নয় অনেক পশুপাখিরও খাবারের সম্বল ছিল ঐ উচ্ছিষ্ট খাবার। কিন্তু এই সব খাবারের হোটেল দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় ছিন্নমূল,অভাবী মানুষ ও বেওয়ারিশ কুকুরের খাবার যোগাড় করা সত্যিই দুরূহ হয়ে গেছে। আর তাই ছিন্নমূল মানুষ ও বেয়ারিশ পশুপাখি দীর্ঘদিন অনাহারে দিনাতিপাত করছে।

এই সকল মানবিক বিষয় চিন্তা করে বিশাল বড় মনের পরিচয় দিয়েছেন যশোরের বিকেএসপির দুই শিক্ষার্থী-সুমাইয়া শিকদার ইলা ও তার ছোট বোন সুরাইয়া শিকদার এশা।তারা দুইজনই বিকেএসপির জুডো ও জিমনাস্টিক বিভাগের ছাত্রী।

করোনার এই ক্রান্তিকালে স্বউদ্যোগে পারিবারিকভাবে খাবার রান্না করে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এই সকল ছিন্নমূল মানুষ ও বেয়ারিশ পশুপাখির জন্য বিতরণ করছেন।আর এই অসাধারণ কাজে সহযোগিতা করছেন ও অন্যন্য কাজের সহযোদ্ধা হিসাবে আছেন সুযোগ্য পিতা খবির শিকদার ও মাতা ফিরোজা খাতুন,দূর্জয় সাহা, শফিকুল ইসলাম, দেলোয়ার হোসেন, সানোয়ার আলম সানু,সুনাইরা শিকদারসহ নিকট আত্মীয়গণ।

এক সপ্তাহব্যাপী এই মহৎ কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন । সোমবার যশোর চৌরাস্তা, আর এন রোড ও মনিহার চত্তরে রাস্তায় ঘুরে ঘুরে তারা ৩০ কুকুর ও ৭০ জন অসহায় মানুষকে খাবার দেন। সপ্তাহব্যাপী এই কর্মকাণ্ড চালবে বলে জানায় যশোরের এই দুই শিক্ষার্থী।

তাদের কোলমমতি হৃদয়ে জীবের প্রতি ভালবাসার কারণে এই ধরনের মহতী উদ্যোগ গ্রহন করা সম্ভব হয়েছে। মানুষসহ সকল প্রাণীর প্রতি যে ভালবাসার বর্হিঃপ্রকাশ লক্ষ্য করা যায় তা অন্যন্য হয়ে থাকবে।

আরো পড়ুন