যশোরে গত ২৪ ঘন্টায় করোনা ও উপসর্গে মৃত্যু ১৭, সনাক্ত ১৯৫

স্বীকৃতি বিশ্বাস, যশোর :-
দেশের সীমান্তবর্তী জেলা যশোরে করোনায় দ্বিতীয় ঢেউ কিছুতেই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হচ্ছে না। প্রতিদিনই করোনায় আক্রান্ত ও করোনার উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর মিছিলে যুক্ত হওয়ার সংখ্যা বেড়েই চলেছে। করোনার সংক্রমণের চেইন ভাঙার জন্য কঠোর লকডাউনের চতুর্থ দিনেও আশানুরূপ সাফল্য অর্জন করা সম্ভব হয়নি।
বাংলাদেশে করোনায় আক্রান্তদের ৮০ শতাংশের শরীরে অতি সংক্রমণশীল ভারতীয় ধরণ ডেল্টা প্রভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে বাংলাদেশের চারিপাশে ভারতের সীমা রেখা থাকায় ভারত থেকে বৈধভাবে আসা রোগী ও তার স্বজনদের মাধ্যমে যেমন ভারতীয় ধরণ ছড়িয়ে ঠিক তার চেয়ে বেশি ছড়িয়েছে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশকারীদের মাধ্যমে। এমনকি এখনো ভারত থেকে বৈধ ও অবৈধভাবে বাংলাদেশে অনেক মানুষ প্রবেশ করছে। বিধায় সীমান্তবর্তী জেলা সমূহে অদৌ এত সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে বলে মনে হচ্ছে না।

চলমান কঠোর লকডাউন বাস্তবায়নে সারাদেশের ন্যায় যশোর জেলা প্রশাসনের সাথে পুলিশ, র‍্যার,বিজিবি ও ৮ প্লাটুন সেনাসদস্যরা দিন-রাত কাজ করছেন।তারপরেও যারা লকডাউন বাস্তবায়নে অসহযোগিতা করছেন তাদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছেন প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিগণ। তারপরও থেমে নেই করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যু।

অন্যদিকে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ডেডিকেটেড ইউনিটের ৯৯ শয্যার বিপরীতে দ্বিগুণেরও বেশি রোগী ভর্তি আছেন। আবার রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগীদের সেবা দিতে যেমন হিমসিম খাচ্ছেন তেমনি সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে অক্সিজেন ও আইসিইউর অপ্রতুলতা।

আজ ৪ জুলাই -২০২১ রোজ রবিবার যশোর জেনারেল হাসপাতালের আরএমও ও সিভিল সার্জন অফিসের তথ্য কর্মকর্তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘন্টায় করোনায় মৃত্যু বরণ করেছেন ৭ জন এবং করোনার উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু বরণ করেছেন১০জন।সর্বোসাকুল্যে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ১৭ জন মৃত্যু বরণ করেন।
অন্যদিকে গত ২৪ ঘন্টায় জেলার বিভিন্ন ল্যাবরেটরিতে ৫৭২ জনের নমুনা পরীক্ষায় করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ পরিলক্ষিত হয়েছে ১৯৫ জনের শরীরে।
সনাক্তের হার ৩৪.০৯ শতাংশ।

বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি আছেন ২১৬ জন। আজ পর্যন্ত করোনা সনাক্ত হয়েছে ১৩ হাজার৩৭ জনের শরীরে, সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৭ হাজার ৪ শত ৬৯ জন। করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বরণ করেছেন ১৬৯ জন।

যশোর জেলার বিভিন্ন উপজেলায় করোনা সনাক্তের সংখ্যা বিবেচনায় দেখা যায় আজও যশোর সদর উপজেলায় অন্যান্য উপজেলার থেকে কয়েকগুণ বেশি সংক্রমিত হয়েছে। যশোর সদরে ৮৫ জন,অভয়নগরে ৪৭ জন, ঝিকরগাছায় ৩২ জন,চৌগাছায় ১০ জন, বাঘারপাড়ায় ৯ জন, কেশবপুরে ৬ জন,মনিরামপুরে ৩ জন ও শার্শায় ৩ জন নতুন করে করোনায় আক্রান্ত রোগী সনাক্ত হয়েছে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছেন।

আরো পড়ুন