যশোরে গত এক সপ্তাহ যাবত চলমান বিবর্তন-এর ” ফ্রি ফুড” কর্মসূচি

স্বীকৃতি বিশ্বাস, যশোরঃ
সামাজিক অসঙ্গতির বূহদ্বার ভাঙার স্বপ্ন দেখতে হলে সর্বাগ্রে প্রয়োজন মানসিক পরিবর্তন।আর এই মানসিক পরিবর্তনের ছায়াপড়ে তার চলনে বলনে ও মুখোয়োবে। সমাজ ও রাষ্ট্রীয় অসংগতি তুলে ধরার জন্য কেউ হাতিয়ার হিসাবে বেছে নেয় রাজনীতি, কেউ লেখালেখি কেউ বা নাটক। আর তাই সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার হিসাবে বিবর্তন যশোরের একদল নাট্যকর্মীরা নাটককে বেছে নিলেও করোনার এই ক্রান্তিকালে করোনায় আক্রান্ত রোগীদের আত্মচিৎকারে সাড়া দিয়ে অকুতোভয় দুঃসাহসী সংগ্রামী কর্মীরা নাটকের মহড়া,সংলাপ ও শো’কে শিকেয় তুলে করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা সেবা ও অক্সিজেন সরবরাহে নেমে পড়ছেন এবং সুপারম্যানের ন্যায় ছুটে চলেছেন যশোরে অলিগলিতে ।

গত ২০২১ সালের ২৮ জুন থেকে যখন যশোরের চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছিল এবং অক্সিজেনের স্বল্পতা দেখা দিয়েছিল তখন বিবর্তন যশোরের নাট্যকর্মীরা করোনা আক্রান্ত রোগীদের বিনামূল্যে অক্সিজেন সিলিন্ডার সরবরাহের জন্য হাসপাতাল থেকে শুরু করে বস্তির ঘিঞ্জি গলিতে রাতদিন ছুটে বেড়িয়েছেন। তখন তাদের চোখে ধরা পড়ে যশোরের বিভিন্ন উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে আসা করোনা আক্রান্ত রোগীর স্বজনরা রাতের খাবারের জন্য দিকবিদিক ছুটাছুটি করেছেন কিন্তু হোটেল খোলা না থাকায় খাবারের ব্যবস্থা করতে না পেরে অর্ধাহারে অনাহারে রাত যাপন করছেন। এছাড়াও এক শ্রেণীর পথের ফকির ও ভিক্ষুক তারাও খাবার যোগাড় করতে না পেরে আনাহারে জীবন যাপন করছেন।

আর তাই বিবর্তন যশোরের কর্মীরা সিদ্ধান্ত নেন করোনা রোগীদের অক্সিজেন সিলিন্ডার সরবরাহের সাথে সাথে তাদের সাথে থাকা স্বজনদের জন্য ও পথের ভিক্ষুক ও ফকিরদের জন্য রান্না করা খাবার বিতরণ করবেন।

তারই ধারাবাহিকতায় গত ০৬ আগস্ট থেকে শুরু করে আজ ১২ আগস্ট রোজ বৃহস্পতিরার পর্যন্ত মান সম্মত ১৮০০ প্যাকেট রান্না করা খাবার বিনা মূল্যে বিতরণ করেন। প্রতিদিন বিতরণকৃত খাবারের প্যাকেটেও ছিল ভিন্ন্যতা। মেন্যুতে ছিল মাংস,ডিম,সবজি,গোটা সয়াবিন ইত্যাদি। এসকল খাবারের প্যাকেট যশোর শহরের বিভিন্ন হাসপাতাল, মাজার ও রেলস্টেশন, বাসস্ট্যান্ডসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বিতরণ করা হয়েছে।
তৈরিকৃত ১৮০০ প্যাকেটে মোট খরচ হয়েছে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা যা ছিল সম্পূর্ণভাবে বিভিন্ন দাতাদের অনুদান নির্ভর।

বিবর্তন যশোরের মাস্ক বিতরণ,অক্সিজেন সরবরাহ, ফ্রিফুড কর্মসূচিসহ যাবতীয় কাজ করোনাকালীন সময়ে আরও দীর্ঘদিন চালু রাখা প্রয়োজন।আর তাই দেশ ও দেশের বাইরে অবস্থিত সকল জনগণের সহযোগী একান্ত কাম্য।বিবর্তন যশোরকে সাহায্য পাঠানোর জন্য যোগাযোগ করুণ-০১৮১৯০৩৯০০০ নওরোজ আলম খান চপল (সভাপতি, বিবর্তন যশোর) ও ০১৭১১০১১২৬৮ দীপংকর বিশ্বাস (সাধারণ সম্পাদক, বিবর্তন যশোর)।

উল্লেখ্য বিবর্তন যশোরের কর্মীরা সত্যিকারের হিরোর ন্যায় গতবছর করোনা মহামারীর শুরু থেকে সামাজিক সচেতনতা, মাস্ক ও স্যানিটাইজার, খাদ্য ও শিশু বস্ত্র বিতরণসহ বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়ন মূলক কাজের সাথে নিজেদের সম্পৃক্ত রেখেছেন।

আরো পড়ুন