যশোরে করোনার সংক্রমণ অপ্রতিরোধ্য –

স্বীকৃতি বিশ্বাসঃ
করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে সীমান্তবর্তী যশোর জেলা আজও বাঁধ ভাঙা জোয়ারের ন্যায় প্লাবিত করছে। করোনার ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট ডেল্টার অতিসংক্রমণে যশোর জেলার সদর,বেনাপোল,ঝিকরগাছা, অভয়নগর, মনিরামপুর, কেশবপুর, শার্শা,চৌগাছার প্রত্যন্ত গ্রামেও ছড়িয়ে পড়েছে। সবচেয়ে দুঃখ ও পরিতাপের বিষয় গ্রামের মানুষের ভিতর এখনও মাস্ক ব্যবহার, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, হ্যান্ড ওয়াশ করা,জনসমাগম এড়িয়ে চলার বিষয়গুলো একেবারেই নেই বললেই চলে।

গ্রামের বাজার ও মোড়ের চায়ের দোকান গুলোতে জমিয়ে চা- পান,বিড়ি সিগারেট খাওয়া ও আড্ডা চলছে। এদের অনেকের শরীরে আবার জ্বর, সর্দি,কাশিসহ করোনার কয়েকটি উপসর্গ বিরাজমান। কিন্তু করোনার উপসর্গ থাকার পরও করোনা টেষ্ট করানোর বিষয়ে একেবারেই অনিহা।যদি এ ধরনের লক্ষণ থাকে তাহলে বাড়ি বাড়ি গিয়ে যদি করোনার গণ পরীক্ষা না করা হয় তবে গ্রামের দিকে করোনা মহামারী আরও অধিক দ্রুত গতিতে গ্রামের পর গ্রামে ছড়িয়ে যাবে। তখন সরকার বা চিকিৎসক কারো পক্ষে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে না।

তাই জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে লকডাউন কার্যকরের জন্য শহরে যেমন জোরালো ভাবে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে গ্রামেও একইভাবে পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে থেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে করোনার পরীক্ষা করা জরুরী।

যশোর জেলার ৫ টি পৌরসভার সাথে ৯ টি ইউনিয়নে লকডাউন বাস্তবায়ন হচ্ছে কিন্তু অনেক সময় দেখা যাচ্ছে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে এক ইউনিয়নের লোক এখনও অন্য ইউনিয়নে আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে যাচ্ছে এবং কোন মাস্ক ছাড়া।তাই সাথে সাথে পার্শ্ববর্তী আরও কয়েকটি ইউনিয়নেও লকডাউন বাস্তবায়ন না করলে করোনার সংক্রমণ আরও দ্রুত গতিতে গ্রামেই বেশি ছড়াবে এবং বিনা চিকিৎসায় মারা যাবে।গত কয়েকদিনে যশোরে করোনার যে সংক্রমণ ও মৃত্যু হয়েছে তা অধিকাংশ ক্ষেত্রে গ্রামেই বেশি।

আজ ২৫ জুন-২০২১ রোজ শুক্রবার যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী গত ২৪ ঘন্টায় ৫২৮ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৩৭০ জনের শরীরে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ পরিলক্ষিত হয়েছে। রিপোর্ট বিশ্লেষণ দেখা যায় সনাক্তের হার ৭০ শতাংশ।
আর গত ২৪ ঘন্টায় মারা গেছেন ১১ জন।যাদের মধ্যে ৬ জন ছিলেন করোনা পজেটিভ এবং বাকি ৫ জনের করোনা উপসর্গ ছিল।
বর্তমানে ৯৯ শয্যার করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে রোগী ভর্তি আছে ১৪৫ জন।করোনা শয্যা সংখ্যার চেয়ে রোগী বেশি হওয়ায় এখনই ডাক্তারা করোনা রোগী নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে। তাই এখনই আরও অধিক সচেতন না হলে আগামী দিনগুলিতে যশোরবাসীর জন্য মহাপ্রলয় অপেক্ষা করছে।

আরো পড়ুন