যশোরে আজ আক্রান্তের রেকর্ড সর্বোচ্চ ২৯১ জন-

স্বীকৃতি বিশ্বাস,  যশোরঃ

বৈশ্বিক মহামারী করোনার দ্বিতীয় সুনামির অপ্রতিরোধ্য গতির জন্য সারা বিশ্বের ধনীগরিবসহ সকল দেশের ব্যবসা,বাণিজ্য, শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যবস্থা বিপর্যস্ত। বিপর্যস্ত পৃথিবীর মানুষকে করোনার প্রথম ও দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলা করতে গিয়ে বিশাল সংখ্যক মানুষের মৃত্যু মিছিল দেখতে গিয়ে অসহায়ের মতো আত্মসমর্পণ করতে হয়েছে । করোনার কারণে একদিকে যেমন মানুষকে প্রিয়জন হারানোর বেদনা সহ্য করতে হচ্ছে ঠিক অন্যদিক লক্ষ লক্ষ লোক কর্মস্বংস্থান হারিয়ে অমানবিক জীবন যাপন করতে বাধ্য হচ্ছে। অন্যদিকে কোমনমতি শিশুসহ কোটি কোটি শিক্ষার্থী দীর্ঘদিন স্কুল, কলেজ,বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকার জন্য শিক্ষার মূলস্রোতধারা থেকে বঞ্চিত হয়ে শিক্ষণ ক্ষতিতে পড়ে হাবুডুবু খাচ্ছে। আর একটি সক্ষম শিক্ষিত,উচ্চ শিক্ষিত শ্রেণীর বেকার যুবক- যুবতী কর্মস্বংস্থান না পেয়ে হতাশার গহীন সমূদ্রে নিমজ্জিত হতে চলছে।

এমনি এক ক্রান্তিকালে দেশের সকল জনগণের সার্বিক দিক বিবেচনা করে ও দেশের সার্বিক মঙ্গলকামনায় করোনা সংক্রমণের অক্টোপাস থেকে রক্ষার জন্য লকডাউন কার্যকরভাবে পালনের জন্য অনুরোধের পর অনুরোধ করছেন সরকার প্রধান।কিন্তু কে শোনে কার কথা।লকডাউনের পালনের প্রতি যেমন অনিহা তেমনি অনিহা করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য সর্বোচ্চ অস্ত্র মাস্ক ব্যবহারসহ হাতধোঁয়া,সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, জনসমাগম এড়িয়ে চলার বিষয় সমূহ।

পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত যখন করোনার মৃত্যু মিছিল প্রতিহত করার জন্য হাসপাতাল,ক্লিনিক,ডাক্তার,নার্স ও জীবনদায়ী অক্সিজেন সংকটে পড়ে বিশ্বের কাছে নিজেদের দুর্বলতার জন্য আত্মসমর্পণ করছে তখনও আমরা দেশের জনগণ করোনার ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট অতি মাত্রায় সংক্রমক ডেল্টাকে উপহাস ও তাচ্ছিল্য করে কোন নিয়মনীতি তোয়াক্কা করি নাই ।

এছাড়া সরকার যখন সীমান্তবর্তী জেলা সমূহে করোনার অতিমারীর জন্য বিশেষ লকডাউন দিচ্ছে তখনও বেহুশের মতো ঘরের বাইরে অবাধে চলাচল করেছি।যার পরিনাম আজ স্বচক্ষে দেখতে হচ্ছে।
আজ ১৮ জুন-২০২১ রোজ শুক্রবার যশোর জেলার স্বাস্থ্যবিভাগের দেওয়া তথ্যমতে, গত ২৪ ঘন্টায় ৬০৬ জনের করোনা ভাইরাসের নমুনা পরীক্ষায় সংক্রমণ পরিলক্ষিত হয়েছে ২৯১ জনের শরীরে।শনাক্তের হার ৪৮.০১ শতাংশ।এর মধ্যে শুধু যশোর জেলায় গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে সনাক্ত হয়েছে একদিনের সর্বোচ্চ ২৯১ জন।তাদের মধ্যে ৯ জন ভারত ফেরত। একই সময়ে মারা গেছেন ৪ জন। ৪ জনের মধ্যে ২ জন করোনা রোগী এবং অপর ২ জন করোনা উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন।আরও দুঃখের বিষয় অভয়নগর উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি ২ জন করোনা রোগীর শরীরে ব্লাক ফাঙ্গাসের প্রভাব দেখা দিয়েছে।

বর্তমানে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছে১০৮ জন যা করোনা ডেডিকেটেড ইউনিটের আসন সংখ্যার চেয়ে বেশি।

এদিকে যশোর জেলায় করোনা শনাক্তের হার বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতি বিবেচনা করে আরও একটি করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল প্রস্তুত করা হয়েছে। যখন যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীর চাপ বৃদ্ধি পাবে তখন রোগী হস্তান্তর করা হবে।

আরো পড়ুন