যশোরের প্রাণ ভৈরব নদের সীমানা নিয়ে অসীম চৌর্যবৃত্তি-

স্বীকৃতি বিশ্বাস:-

বাংলাদেশের বহমান নদীগুলো আজ প্রাণহীন হয়ে পড়ছে। আর এই প্রাণহীন হওয়ার জন্য প্রকৃতি যতটা না দায়ী তার কয়েক লক্ষগুণ দায়ী আমরা যারা নিজেদের সৃষ্টির সেরা জীব মনে করি। আমাদের উদাসীনতার জন্য আজ দেশের নদনদীগুলি মৃতপ্রায়।

সারাদেশের নদনদী গুলি খাল আর খালগুলো নালায় পরিণত হয়েছে। যার ফলে নদী বিধৌত বাংলাদেশের প্রকৃতি ও পরিবেশ দুটোই বিপর্যয়ের মুখে। মহামারী করোনার জন্য প্রাণহানী হয়তো একসময় বন্ধ করা যাবে মাস্ক ব্যবহার, সামাজিক দূরত্ব, হ্যান্ড সেনিটাইজার ও ভ্যাকসিন প্রয়োগ করে কিন্তু নদনদী গুলো যদি তাদের নাব্যতা হারিয়ে ফেলে তাহলে তা উদ্ধার করা আমাদের সামর্থ্যের বাইরে চলে যাবে।

যশোর শহরের প্রাণকেন্দ্র দিয়ে প্রবাহিত নদ ভৈরব। এই ভৈরব নদ নিয়ে ভৈরবী ঢংও কম হয়নি।এমনকি এখনো মহাঢং চলছে। ভৈরব নদ নিয়ে বহু আন্দোলন সংগ্রাম ও পত্রপত্রিকায় লেখালেখির পর ভৈরব নদের খনন কার্য শুরু হয়।কিন্তু নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে নদের সীমানা উদ্ধার, কার্যকারী খনন, সময়মতো কাজ শেষ হবে কিনা এরূপ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে।

ভৈরব নদের সীমানা চুরি হয়ে যাচ্ছে। নদীর সীমানা উদ্ধার করার উদ্যোগ নিয়ে এরই মাঝে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী স্টান্ড রিলিজ হয়েছেন। এরই মধ্যে ভৈরব নদের বিভিন্ন অংশে খনন কাজ শুরু হলেও শহরের দড়াটানা ব্রীজের পূর্বাংশের কাজ এ যাবত শুরু হয়নি। ভৈরব নদ সহ সকল নদনদী উদ্ধার ও নদী রক্ষার জন্য আন্দোলনকারী নেতৃবৃন্দ আজ দড়াটানায় গিয়ে দেখতে পান বহুতল ভবনগুলি রক্ষার জন্য নদের জায়গা সঠিকভাবে উদ্ধার না করে সাপের ন্যায় আঁকাবাঁকা করে নিয়ম বর্হিভূতভাবে কাজ করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। যার ফলে নদীর সীমানা দখলে বিশেষ সহায়তা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

তাই সংগ্রাম কমিটির আহ্বান – নদনদী খননের নয়ছয়,লুটপাট রুখতে, নদনদীর সীমানা ফিরিয়ে, নদনদী বাঁচানোর মত খনন কাজ ও বরাদ্দ কৃত টাকার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য রাজপথের আন্দোলনে আসার।
নদনদী খননের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ জনগণের। নদনদীও দেশের ও জনগণের সম্পদ। নদনদী না বাঁচলে দেশ মরুভূমি হয়ে যাবে এবং আমরা সমগ্র জাতি মহা বিপর্যয়ে পতিত হব।

তাই একজন সচেতন নাগরিক হিসাবে নদনদী রক্ষার আন্দোলন সংগ্রামে অংশ গ্রহন নৈতিক দায়িত্ব ও কর্তব্য।

আরো পড়ুন