যশোরের দুঃখ কবলিত ভবদহ অঞ্চলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সেচ প্রকল্পের নামে ৪৫ কোটি টাকা লুটের মাস্টারপ্ল্যান

সুমন হোসেন, যশোর প্রতিনিধিঃ
যশোরের দুঃখ কবলিত ভবদহ জলাবদ্ধতা অঞ্চলে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সেচ প্রকল্পের নামে সরকারের ৪৫ কোটি টাকা হরিলুটের মাষ্টার প্লান করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির নেতৃবৃন্দ এই প্রকল্প বাতিলের জন্য বিভিন্ন কর্মসুচী পালন করা অব্যহত রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে অনুমোদনের চেষ্টা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা। অতীতে এ ধরনের প্রকল্পের নামে অর্থ লুটপাটের ঘটনা নতুন না বলে দাবি ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির। স্থানীয়রা বলছেন, এ ধরনের উন্নয়ন প্রকল্প তাদের কোনো কাজে আসছে না। এখানে টিআরএম ছাড়া বিকল্প কিছু কাজে আসবে না।
ভবদহে অঞ্চলের জন্য মিথ্যা তথ্য দিয়ে পানি সেচ প্রকল্প গ্রহণ করে কোটি কোটি টাকা তছরূপ করার পাঁয়তারা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। একইসাথে পানি উন্নয়ন বোর্ড এই জনপদের মানুষের শ’ শ’ কোটি টাকার ফসল, বসতবাড়ি নষ্ট ও মানবিক বিপর্যয়ের স্থায়ী ব্যবস্থা করেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। গত মৌসুমে সেচের মাধ্যমে ব্যাপক ফসল উৎপাদনের কথা বললেও প্রকৃতপক্ষে ২৫ হাজার হেক্টর জমিতে ফসল হয়নি। এ অবস্থায় স্থানীয়রা পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৪৫ কোটি টাকার সেচ প্রকল্প বাতিলের প্রস্তাব দিলেও তা অনুমোদনের পাঁয়তারা করছে সংশ্লিষ্টরা। অপরদিকে, ৪৫ কোটি টাকা অনুমোদন বাতিলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সংগ্রাম কমিটি। তবে, কোনো ভুল সিদ্বান্ত নেয়নি বলে দাবি পানি উন্নয়ন বোর্ডের।
ভবদহে জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানে ‘পরিকল্পিত জোয়ারাধার’ (টিআরএম) চালুর দাবি করে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। এটি নিয়ে আন্দোলন সংগ্রাম করে আসছে ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটি। অন্যদিকে, স্থানীয়রা বারবার বিপক্ষে মতামত দিলেও সম্প্রতি তিন কোটি ৮০ লাখ টাকার পাম্প স্থাপনের বরাদ্দ দেয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে এই সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির উপদেষ্টা ইকবাল কবীর জাহিদ বলেন ৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে স্রেফ ব্যবসা করার জন্য। এই ৪৫ কোটি টাকা ভবদহ এলাকার মানুষের কোনো কাজে আসবে না। এই বরাদ্দের বিরুদ্ধে তাদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, একটি রাজনৈতিক মহলের মদদে পানি উন্নয়ন বোর্ড এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়ে বাস্তবায়নের চেষ্টা করে যাচ্ছে। টিআরএম ছাড়া আর কোনো প্রকল্প এখানে নিয়ে কাজ হবে না বলে দাবি তার।
সংগঠনের সদস্য সচিব অনিল বিশ^াস বলেন, সরকার ভবদহ অঞ্চলের মানুষকে ডুবিয়ে মারার স্থায়ী ব্যবস্থা করার নীতি গ্রহণ করেছে। যে কারণে পানি উন্নয়ন বোর্ড বাঁচানোর পরিবর্তে নদীকে হত্যা করছে। সেইসাথে হরি নদী নাব্য বৃদ্ধি পেয়েছে বলা হলেও সেটি মিথ্যা বলে সরজমিনে দেখা যায়। তাছাড়া এখনো বিলগুলো পানির নীচে। অনেক স্কুল ও বসতবাড়ি জলাবদ্ধ।
সংগঠনের আহ্বায়ক রণজিত বাওয়ালী বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কতিপয় কর্মকর্তা তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের নামে বছরের পর বছর তালবাহানা করে চলেছে। সরকার হাজার হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিলেও টিআরএম প্রকল্পের কোনো সমাধান হচ্ছে না। বারবার এ প্রকল্পের বিরুদ্ধে মতামত দিলেও তিন কোটি ৮০ লাখ টাকার পাম্প স্থাপনের বরাদ্দ দেয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। একইসাথে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে টিআরএম প্রকল্প নিয়ে পদে পদে নানা ধরনের অনিয়মের কথা। যার সমাধান কেউই করেনি। এখন আবার নতুন করে ৪৫ কোটি টাকা নষ্টের জন্য উঠেপড়ে লেগেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
এ বিষয়ে যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী তাওহীদুল ইসলাম বলেন, গবেষণা করেই ৪৫ কোটি টাকার সেচ প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। এতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোনো ভুল নেই। তাদের একটি দক্ষ টিম দ্বারা যাচাই-বাছাই করে প্রস্তুত করা হয়েছে।

আরো পড়ুন