ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় টাকা দিয়েও সরকারি ঘর পায়নি দুস্থ-কাজলী।

তাপস কর,ময়মনসিংহ প্রতিনিধি।

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় টাকা দিয়েও সরকারি ঘর পায়নি দুস্থ এক নারী। ইউনিয়ন পরিষদের এক ওয়ার্ড সদস্যের বিরুদ্ধে সরকারিভাবে বিনা মূল্যে ঘর বরাদ্দের কথা বলে এক দুস্থ নারীর কাছ থেকে ৪৬ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী ওই নারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে এক লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
ওই নারীর লিখিত অভিযোগ জানা যায়, মুক্তাগাছা উপজেলার মানকোন ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য শফিকুল ইসলাম প্রায় দুই বছর আগে কাশিপুর গ্রামের বাসিন্দা কাজলী বেগমকে সরকারিভাবে একটি পাকা ঘর তাঁর নামে বরাদ্দ দেওয়ার কথা বলে ৪৬ হাজার টাকা নেন। কিন্তু দুই বছর পার হলেও কাজলী বেগম কোনো ঘর পায়নি। কয়েক দফা তার টাকা ফেরত চাইলেও তা দিতে টালবাহানা করেন ইউপি সদস্য শফিকুল।
কাজলী বেগম জানান , একটি ঘর পাওয়ার আশায় ধার করে ইউপি সদস্য শফিকুলকে তিনি ৪৬ হাজার টাকা দেন। কিন্তু আজও ঘর বরাদ্দ পাননি। এখন ধারের টাকার জন্য পাওনাদারদের কথা শুনতে হচ্ছে। ইউপি সদস্যকে টাকার জন্য তাগাদা দিলেও তিনি নানা অজুহাতে পাশ কাটিয়ে যাচ্ছেন। তাই তিনি বাধ্য হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দিয়েছেন।
সরকারি ঘর দেওয়ার কথা বলে কাজলী বেগমের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে কথা বলার জন্য শফিকুল ইসলামকে মুঠোফোনে ফোন করলে তিনি বলেন, হাসপাতালে রোগী নিয়ে তিনি ব্যস্ত আছেন। পরে কথা বলবেন বলে তিনি লাইন কেটে দেন। পরে তাঁর ফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি।
মানকোন ইউনিয়নে প্যানেল চেয়ারম্যান মো. ফরহাদ জানান, এই অভিযোগ বেশ পুরোনো। ঘর বরাদ্দ না পেয়ে বেশ কয়েকবার ভুক্তভোগী নারী টাকা ফেরত পাওয়ার চেষ্টা করেছেন। টাকা লেনদেনের বিষয়টি অনেকেই জানেন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, মুজিব বর্ষ উপলক্ষে গৃহহীনদের ঘর বরাদ্দের লক্ষ্যে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় মুক্তাগাছা উপজেলায় প্রথম ধাপে ৫০টি এবং দ্বিতীয় ধাপে ৪৫টি ঘর দেওয়া হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মনসুর বলেন, অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ব্যাপারে শিগগিরই একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে ঘটনা যেহেতু দুই বছর আগের, তাই মুজিব বর্ষের আশ্রয়ণ প্রকল্পের সঙ্গে ওই নারীর ঘর বরাদ্দের কোনো সংশ্লিষ্টতা থাকার কথা নয়।

আরো পড়ুন