মোমেনা আক্তার সাথীর “বাস্তবতা”

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

আমরা হরহামেশাই নিজের ইগো আর আত্মসম্মানবোধের মাঝে নিজেকে গুলিয়ে ফেলি। বেশিরভাগ সময়েই নিজেরাই বুঝতে পারি না কোনটা কিসের প্রভাব। ‘ইগো’ হলো নিজের ভেতরের অহমিকা যা যেদিকে বয়ে যায় সব জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দগ্ধ করে ফেলে, নিজেকে এবং অপরকেও। আর ‘আত্মসম্মানবোধ’ হলো নিজের সম্মানের জায়গাগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে সতর্কতা অবলম্বন করা যেখানে নিজের এবং অপরের সম্মানের নিরাপত্তা ও গুরুত্ব বজায় থাকে। একজন সম্মানী মানুষই অপরকে তার সম্মানের যথাযথ মূল্যায়ন করতে জানে। এটা তার নিজস্ব চেতনা ও নৈতিক শিক্ষার প্রভাব যেখানে মনুষ্যত্ববোধ জাগ্রত থাকে। এটা বোঝার জন্য অবশ্যই নিজস্ব যোগ্যতা, মস্তিষ্ক ও আবেগপ্রবণ বুদ্ধিমত্তা, অপরের অনুভূতি বোঝার সামর্থ্য লাগে। আর এগুলো যাকে তাকে দিয়ে এমনিএমনি হয় না।

সুশিক্ষা, ইতিবাচক ও মঙ্গলকামী মনোভাব, চিন্তা চেতনার দূরদর্শিতা, অনন্য ব্যক্তিত্ব একটা মানুষকে সুশীল ও অসাধারণ করে তুলতে পারে কিন্তু এটা সবাই বুঝতে পারলেও বয়ে বেড়াবার সামর্থ্য রাখতে পারে না বা কেউ কেউ সে চেষ্টাটুকুও করে না। যারা পারে তারাই কেবল নিজের ব্যক্তিত্বের জোরে যে কারুর মনে জায়গা দখল করে নিতে পারে।

অপরদিকে কাউকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করার জন্যে, অসম্মান ও ছোট করার জন্যে অযোগ্যতাই যথেষ্ট। যারা অন্যকে ছোট করে নিজে বড়ো সাজতে চেষ্টা করে তাদের গোডাউনে কোনো মাল নেই মানে নৈতিক শিক্ষা ও বিনয় প্রকাশের যোগ্যতাই নেই। তবুও তারা নিজেকে বড়ো বলে জাহির করার চেষ্টা করে নিজের ঢোল নিজে বাজিয়ে। তারা জানেই না পৈতা দেখে ব্রাহ্মণ চেনা যায়। ময়ুরের বেশ ধরলেই কাক কখনো ময়ূর হয়ে যায় না। স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য ঠিকই তার মুখোশের আড়ালের চেহারাটা টেনে বার করে নিয়ে আসে সকলের সামনে। হয়তো সঠিক সময়ের জন্য অপেক্ষা করতে হয় স্বল্প বা দীর্ঘ সময় ধরে।

কাউকে সম্মান করে নিজের সম্মান কমে গেছে এমন নজির কোথাও নেই বরং তা বহুগুণে বেড়ে গিয়ে নিজের কাছে ফেরত এসেছে। সম্মান ও ভালোবাসার ধরণই এমন, বিনা স্বার্থে যতটা দেবেন তার বহুগুণ সময়মতো ফেরত চলে আসবে দুদিন আগে বা পরে। তবে আসবেই।

আরো পড়ুন