মণিরামপুরে ২ বছরেও শেষ হয়নি সড়কের কাজ, দুর্ভোগ

যশোর প্রতিনিধি-

মণিরামপুর বাজার থেকে কুলটিয়া সড়কটির সংস্কার কাজ দুই বছর আগে শুরু হলেও এখনো শেষ হয়নি। ইটের খোয়া দেওয়ার পর পিচ না দিয়ে কাজ ফেলে রেখেছেন ঠিকাদার। দীর্ঘদিন এই ভাবে পড়ে থাকায় খোয়া উঠে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। রাস্তা ভেঙে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে কয়েক জায়গায়। খোয়া ভেঙে ধুলোয় পরিণত হওয়ায় দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। রাস্তার দুইধার মানুষের বসবাসের কঠিন হয়ে পড়েছে। অথচ এই  সড়কটির বিষয়ে নজর নেই সংশ্লিষ্টদের।

 

মণিরামপুর থেকে কুলটিয়া সড়কটির দৈর্ঘ্য ১২ কিলোমিটার। এ রাস্তায়  পূর্বের পিচ নষ্ট হওয়ায় পুনর্নির্মাণের জন্য রাস্তাটি দুই ভাগে বিভক্ত করে ২০১৯ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি কার্যাদেশ জারি করেন জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী। এই সড়কটি ব্যয়ে ৬ কোটি ৬৯ লাখ টাকায় মণিরামপুর থেকে বাগডাঙা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত সাত কিলোমিটার রাস্তা পুনর্নির্মাণের কাজ পান যশোরের ঠিকাদার জহুরুল ইসলাম।

 

কুলটিয়া থেকে বাগডাঙা পর্যন্ত ৫ কিলোমিটারের কাজ পান অন্য ঠিকাদার। ওই সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি কাজ শুরু হয়ে ৪ মাস সময় নিয়ে ২৮ জুন শেষ করার কথা ছিল। বাগডাঙা স্কুল থেকে কুলটিয়া পর্যন্ত রাস্তার কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ হলেও বিপত্তি ঘটে মণিরামপুর থেকে বাগডাঙা স্কুল পর্যন্ত ৭ কিলোমিটার সড়কের কাজে। ঠিকাদার জহুরুল ইসলাম কাজ শেষ না করে ফেলে রেখেছেন দুই বছর। এর ফলে ভোগান্তিতে পড়ছেন সড়কটিতে চলাচলকারী পথচারীরা।

 

কুলটিয়া মোড়ের ইজিবাইক স্ট্যান্ডে কয়েকজন চালক বললেন , আমরা এই রাস্তায় গাড়ি চালাই। বড় বড় খোয়া ওঠায় চলাচল করা যাচ্ছে না। গাড়ির টায়ার ও বডি নষ্ট হচ্ছে। প্রায়ই গাড়ি গ্যারেজে নিতে হচ্ছে, যা আয় হয় গাড়ির পেছনে খরচ হচ্ছে।

 

রাস্তার কাজ দেখভালের দায়িত্বে থাকা উপসহকারী প্রকৌশলী গাউসুল আজম বলেছেন, বারবার ঠিকাদারকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। কাজ ধরবে বলে ঠিকাদার প্রতিবার কথা দিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু কাজ করছেন না। ঠিকাদার জহুরুল ইসলাম বলেছেন, আর্থিক সমস্যা ছিল। করোনার জন্য এক বছর কাজ বন্ধ রাখতে হয়েছে। সামনের এক মাসের মধ্যে কাজ শুরু করা হবে।

 

মণিরামপুর উপজেলা প্রকৌশলী সানাউল হক বলেছেন, এই উপজেলায় নতুন এসেছি। এই,সড়কের ব্যাপারে সঠিক কিছু বলতে পারছি না। খোঁজ খরব নিয়ে দেখছি।

আরো পড়ুন