মণিরামপুরে স্বাস্থ্যকর্মী সাধনার মৃত্যুর রহস্যর ক্লু উৎঘাটন হতে যাচ্ছে

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি :

মণিরামপুরে করোনা জয়ী স্বাস্থ্যকর্মী সাধনা রানীর মৃত্যুর রহস্যর ঘটনা ক্লু উৎঘাটন হতে যাচ্ছে। পাওয়া সাড়ে ১৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ করার জন্য দু’সহকর্মীসহ তিনজন মিলে পরিকল্পিত ভাবে তার মাকে হত্যা করেছে বলে, মামলার বাদী সাধনার মেয়ে সাথী পাল দাবী করেছে। তিনি মঙ্গলবার সকালে তার মায়ের মৃত্যুর ১৫টি আলামতের কারণ উল্লেখ করে থানা পুলিশ ও সাংবাদিকদের কাছে একটি অভিযোগ পেশ করেছেন।

 

অভিযোগে সাথী পাল উল্লেখ করেছেন, গত ৬ জুলাই ঘটনার দিন তার মায়ের পোশাক ছিল কোথাও বেড়াতে বা নিমন্ত্রনে যাওয়া পোশাক। ওই দিন তার কানে, গলায় ও হাতে দামী স্বর্ণের অলংকার ছিল। যা পরে তার মা কখনও অফিসে যেতেন না। এমনকি তিনি সাধারন চলা ফেরার সময় এগুলো ব্যবহার করতেন না। মৃত্যুর দিন তার মায়ের হাত ব্যাগে নগদ ২২ হাজার টাকা ছিল। সহকর্মী ইসমাইল হোসেন হাত ব্যাগটি ও ব্যবহৃত মোবাইলটি ফেরত দিলেও দুটি সিম কার্ড ও মেমোরী কার্ড ফেরত দেয়নি। এমনকি মোবাইলের যাবতীয় কল ইসিহাস গুলো ডিলিট করা হয়েছে।

 

তার ০১৭৬৮-০৭৪০৭৭ ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটি এখনও মাঝে মধ্যে খোলা পাওয়া যায়। হাত ব্যাগ ও মোবাইল ইসমাইলের কাছে ছিল বলে অপর সহকর্মী জাহিদ হোসেন তাদেরকে জানিয়েছেন। এছাড়াও ইসমাইলের ভগ্নিপতি প্রতারক মিজানের কাছে তার মায়ের ১৫ লাখ ৫০ হাজার পাওনা টাকা পরিশোধের দিন ছিল ৭ জুলাই। এর আগের দিন তার মায়ের সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর ঘটে তা আবার ইসমাইল ও মিজানের এলাকায়। ওই দিন তিনি অফিসের কাজে যাননি।

 

তাহলে জাহিদ তাকে কি কারনে মণিরামপুর-চিনাটোলা এলাকায় নিয়ে যায়। সড়ক দুর্ঘটনা ঘটলে জাহিদ কেন তার কোন উদ্ধতন কর্মকর্তাকে ফোন না দিয়ে ইসমাইলকে ফোন দিলেন। হাসপাতালে ভর্তি পরিবর্তন ও সকল বিষয় ইসমাইলের কতৃত্বের পিছনের রহস্য কি। সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুতে পোষ্ট মডেম বাধ্যতা মূলক হলেও তার পোষ্ট মডেল না করার কারন রয়েছে। তার মায়ের পাওনা টাকা পরিশোধ না করে মিজান ও ইসমাইল বিভিন্ন ভাবে হুমকি দেয়ার ঘটনা কি রহস্য না।

 

উল্লেখ, বাগেরহাটের শরণখোলার রাজাপুর গ্রামের মৃত কমলেশ চন্দ্র হালদারের স্ত্রী সাধনা রানি মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন। চাকরির সুবাদে একই পদের সহকর্মী ইসমাইল হোসেন ও জাহিদের সাথে তার সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২০১৮ সালে ইসমাইল ও জাহিদ কু-পরামর্শ করে ব্যবসার কথা বলে সাধনা ১৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা ইসমাইলের আপন ভগ্নিপতি টাউড মিজানুর রহমানকে দেন।

 

তিন মাসের মধ্যে ধারের টাকা পরিশোধ করার কথা থাকলেও মিজানুর না দিয়ে ঘোরাতে থাকেন। ইসমাইল ও মিজানুর পরিকল্পনা করে জাহিদকে দিয়ে ২০২০ সালের ৬ জুন ধারের টাকা দেয়ার কথা বলে সাধনা রানিকে নিয়ে যাওয়া হয় চিনাটোলা এলাকায়। এরপর পরিকল্পিতভাবে মণিরামপুর-কেশবপুর সড়কের রাস্তার যে কোনো জায়গায় সাধনা রানিকে মাথায় আঘাত করে জখম করা হয়। পরে সড়ক দুর্ঘটনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে বলে প্রচার করে তারা।

 

এ ঘটনা দাবী করে গত ২ ফেব্রয়ারী সাধনার মেয়ে সাথী পাল বাদী হয়ে আদালতে উপজেলার মুজগুন্নি গ্রামের মৃত ছামাদ বিশ্বাসের ছেলে প্রতারক মিজানুর রহমান, বাঙ্গালীপুর গ্রামের আমজাদ হোসেনের ছেলে ইসমাইল হোসেন ও চন্ডিপুর গ্রামের রজব আলীর ছেলে জাহিদ হোসেন নামে একটি হত্যা মামলা করে।

আরো পড়ুন