মণিরামপুরে সোনালী ব্যাংকে ঝাড়ুর স্টান্ডে পতাকা উত্তোলন!

নিলয় ধর, যশোর প্রতিনিধি:- ঝাড়ুর লাঠিকে স্ট্যান্ডে বানিয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে যশোরের মণিরামপুর সোনালী ব্যাংক লিমিটেডের শাখার বিরুদ্ধে । ১৬ ডিসেম্বর সকালে এই সংক্রান্ত একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে।
খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ জাকির হাসান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) পলাশ দেবনাথ, থানার ওসি রফিকুল ইসলাম, ওসি (তদন্ত) শিকদার মতিয়ার রহমান প্রমুখ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
এরপর ইউএনও’র উপস্থিতি টের পেয়ে দ্রুত স্ট্যান্ড পরিবর্তন করেছেন শাখাটির কর্তৃপক্ষ।
এই দিকে, ঝাড়ুর স্ট্যাডে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের ছবি ফেসবুকে ভাইরাল হলে এলাকায় সমালোচনার ঝড় ওঠেছে। ব্যাংকের এই শাখা ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে শাস্তির দাবি উঠেছে।
বিজয় দিবসে শহীদ মিনারে ফুল দেওয়াসহ উপজেলা প্রশাসনের আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বুধবার (১৬ ডিসেম্বর)ভোর থেকে মানুষ দলে দলে উপজেলা পরিষদ চত্বরে যান। পরিষদের পাশেই সোনালী ব্যাংকের মণিরামপুর শাখা। সকালে ব্যাংকের পক্ষ থেকে পতাকা উত্তোলনের বিষয়টি তখন স্থানীয়দের নজরে আসে। জাতীয় পতাকার অবমাননার বিষয়ে অনেকে ক্ষোভে ফেটে পড়েন। এরপর ব্যাংকের লোগোসহ ঝাড়ুর স্ট্যান্ডে উত্তোলন করা জাতীয় পতাকার ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
ফেসবুকার দাবি, পতাকা উত্তোলনের স্ট্যান্ডটি ঘর ঝাড়ুর ভাঙা স্ট্যান্ড। যদিও ব্যাংক কর্তার দাবি, স্ট্যান্ডটি নিজেদের সুরক্ষার কাজে ব্যবহৃত জিআই পাইপ। পতাকা উত্তোলন করা নির্ধারিত স্ট্যান্ড রেখে ব্যাংকের আনসার সদস্য জাহাঙ্গীর আলম ভুল করে জিআই পাইপে পতাকা উত্তোলন করেছেন। ব্যাংকের আনসার সদস্য জাহাঙ্গীর আলম বলেছেন, বিষয়টি আমি বুঝতে পারিনি।
সোনালী ব্যাংক লিমিটেড মণিরামপুর শাখার ব্যবস্থাপক ফারুকুজ্জামান বলেছেন, পতাকা উত্তোলনের স্ট্যান্ডটি ঝাড়ুর ভাঙাস্ট্যান্ড না। আমরা পতাকা উত্তোলনের জন্য সাদা স্ট্যান্ড নির্ধারণ করে রেখেছিলাম। আনসার সদস্য জাহাঙ্গীরকে ওই স্ট্যান্ডে পতাকা উত্তোলন করতে নির্দেশনাও দেওয়া হয়। সে ভুল করে রঙিন জিআই পাইপে পতাকা উত্তোলন করেছেন।
মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ জাকির হাসান বলেছেন, খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। দাঁড়িয়ে থেকে স্ট্যান্ড পরিবর্তন করিয়েছি। তারা যেভাবে পতাকা উত্তোলন করেছেন, সেটা ঠিক করেনি। ব্যাংকের ডিজিএমের সাথে কথা বলেছি। দ্রুত মণিরামপুর শাখা ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলেছি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সোনালী ব্যাংক লিমিটেড যশোর অঞ্চলের উপ-মহাব্যবস্থাপক শফিকুল ইসলাম বলেছেন, স্থানীয় ইউএনও ফোনে আমাকে বিষয়টি জানিয়েছে। তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আরো পড়ুন