যশোর মণিরামপুরে সম্পত্তির লোভে মাকে মারধর, ২ চোখ উপড়ে ফেলার চেষ্টা

মণিরামপুর (যশোর)প্রতিনিধি।। 

মণিরামপুরে সম্পত্তির লোভে নিজের মাকে মারধর করে আঙুল দিয়ে দুই চোখ উপড়ে ফেলার চেষ্টা করেছেন মেহেদী হাসান টিটো নামে এক যুবক। বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার গোপালপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
রক্তাক্ত অবস্থায় মাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে রাতেই উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এদিকে এ ঘটনার পর ছেলে টিটো পলাতক রয়েছেন।
জানা গেছে, মা হসিনা খাতুন তার স্বামীর রেখে যাওয়ার সম্পত্তির অধিকাংশ ইতোমধ্যে ছেলে-মেয়েদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা করে দিয়েছেন। কিন্তু বিপত্তি বাঁধে তার নিজের নামে বসতবাড়িসহ কিছু সম্পত্তি থাকা নিয়ে।
খানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গাজী মোহাম্মদ আলী জানান, ছোট ছেলে মেহেদী হাসান টিটো বসতবাড়ির সব জমি দাবি করেন মায়ের কাছে। কিন্তু মা ভাগ অনুযায়ী, তাকে আট শতক জমি দিতে রাজি হন।

এ নিয়েই মায়ের ওপর ক্ষিপ্ত হন টিটো। এর আগেও টিটো তার মাকে কয়েকবার মারপিট করেছেন। এমনকি হত্যার হুমকিও দিয়েছেন। কোনো উপায় না পেয়ে টিটোর বিরুদ্ধে থানা এবং আদালতে তিনটি মামলাও করেছেন মা হসিনা খাতুন। এছাড়া এ নিয়ে চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে কয়েক দফা সালিশও হয়েছে।
সর্বশেষ বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে বাড়িতে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে টিটো মায়ের ওপর হামলা চালিয়ে মারপিট করেন। এসময় তিনি আঙুল দিয়ে মায়ের দুই চোখ উপড়ে ফেলার চেষ্টা করেন। এতে মা রক্তাক্ত হন।

টিটোর বড় মামা মাসুদুর রহমান জানান, ইতোপূর্বে হসিনার বড় ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান বাদলও তার মায়ের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছেন। তবে ছোট ছেলে এ নিয়ে কয়েক দফায় তার মাকে মারপিট করেছেন। এ ব্যাপারে আর কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন তিনি।

তিনি আরও জানান, তার বোন হাসিনা খাতুনের দুই চোখের অবস্থা ভালো নয়। তিনি চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. হিমাদ্রী শেখরের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন আছেন।
মনিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় এখনও কেউ মামলা করেনি। মামলা হলে ওই ছেলেকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।

আরো পড়ুন