মণিরামপুরে মা-মেয়ের মৃত্যুর ঘটনার নেপথ্যে স্বামীর পরকীয়া : অভিযুক্ত আটক

রিপন হোসেন সাজু, মণিরামপুর( যশোর):

একই রশিতে ফাঁস দিয়ে মা ও শিশু মেয়ের মৃত্যুর ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে পরকীয়া। এ ঘটনায় প্রভাষক কনার মন্ডলকে আটক করেছে পুলিশ। একই সাথে তাকে আসামি করে মা পিয়া মন্ডল ও মেয়ে কথা মন্ডলের মৃত্যুর ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। কনার মন্ডল হচ্ছেন পিয়া মন্ডলের স্বামী। রোববার পিয়া মন্ডলের ভাই চন্দন মন্ডল বাদী হয়ে মণিরামপুর থানায় ৩০৬ ধারায় মামলাটি করেন। মণিরামপুর থানার মামলা নং-১০। পুলিশ শনিবার রাতেই স্বামী কনার মন্ডলকে আটক করেছেন।

মামলার তদন্তকারী অফিসার উপপরিদর্শক নেহালপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মোঃ আতিকুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, কনার মন্ডলের সাথে একাধিক নারীর পরকীয়া রয়েছে। এ সকল ঘটনা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিন চরম দ্বন্দ্ব চলে আসছে। এক পর্যায়ে হতাশা থেকে স্ত্রী পিয়া মন্ডল আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেই সাথে তাদের তিন বছরের মেয়ে কথার জীবন অনিশ্চিত ভেবে তাকেও একই পথে নিয়েছে তার মা।

পিয়ার মা শিপ্রা মন্ডল জানিয়েছেন, তার জামাই কনার মন্ডল একাধিক নারীর সাথে পরকীয়ায় লিপ্ত ছিল। এ সব ঘটনা নিয়েই মেয়ে পিয়া প্রতিবাদ করলে তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হতো। এমনকি দু’বছর আগে এ সব ঘটনা নিয়ে পিয়া আমার বাড়িতে চলে আসে। এক পর্যায়ে কনারের জোর অনুরোধে পিয়াকে পুনরায় তাদের সংসার করতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, পিয়া পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিল। কিন্তু কোনভাবেই তাকে বাঁচতে দিলোনা কনার। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।

শনিবার রাতে কুলটিয়া গ্রামের ফাল্গুন মন্ডলের বাড়ির রান্নাঘর থেকে একই দড়িতে ঝুলন্ত অবস্থায় মা-মেয়ের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ ও এলাকাবাসীর ধারণা স্বামী কনার বাড়িতে না থাকার ফাঁকে মেয়েকে গলায় রশি দিয়ে হত্যা করার পর একই দড়িতে মা পিয়া মন্ডল আত্মহত্যা করে।
রাতে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে রোববার ময়নাতদন্তের জন্য যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। সুজাতপুর গ্রামের নানি মন্ডলের ছেলে মশিয়াহাটী ডিগ্রি কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক কনার মন্ডল স্ত্রী পিয়া ও মেয়ে কথাকে নিয়ে ভাড়া থাকতেন কুলটিয়া গ্রামে ফাল্গুন মন্ডলের বাড়িতে।

আটক কনার মন্ডলকে রোববার আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। দুপুর সাড়ে তিনটার সময় এ রিপোর্ট লেখার আগ পর্যন্ত মরদেহ যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ছিলো। এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রফিকুল ইসলাম। এদিকে মা-মেয়ের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

আরো পড়ুন