মণিরামপুরে আশাতীত জমিতে আমন ধানের আবাদ মৌসুমী ভারী বর্ষনে তলিয়ে গেছে কয়েক’শ হেক্টর জমির ধান

মণিরামপুর (যশোর)প্রতিনিধি।। ধানের ভাল বাজারদর, সময়মত ধানের বীজতলা তৈরি ও জমি প্রস্তুতের জন্য উপযুক্ত মৌসুমী বৃষ্টিপাত এবং অনুকুল আবহাওয়ার দরুন দেশের অন্যান্য স্থানের ন্যায় মণিরামপুর উপজেলার কৃষকরা আশাতীত জমিতে আমন ধানের আবাদ করেছে। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক বেশী বলে সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে। উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা গেছে, উফসি জাত,হাইব্রিড ও স্থানীয় জাতসহ সর্বমোট ২২ হাজার ৪’শ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে আরও অধিক পরিমাণ জমিতে কৃষকরা আমন ধানের আবাদ করেছে বলে খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে। এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণে কৃষকরা ১ হাজার ৪’শ হেক্টর জমিতে ধানের বীজতলা প্রস্তুত করে চারা উৎপাদেন করেছিলো। বীজতলা প্রস্তুতের জন্য আবহাওয়া উপযোগী থাকায় কাংখিত ধানের চারা উৎপাদন হয়েছে বলে কৃষকরা জানান। মৌসুমী কাংখিত বৃষ্টিপাতের ফলে কৃষকরা আমন আবাদের ভরা মৌসুমে তাদের সকল জমিতে ধান আবাদ করার জন্য বেশ ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন। এদিকে গত এক সপ্তাহের মৌসুমী ভারী বর্ষণ ও নদ-নদী ও খাল-বিলের উজানের পানিতে নিম্মঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় মণিরামপুরের কয়েক’শ হেক্টর জমি পানিতে প্লাবিত হয়ে আবাদকৃত আমন ধানের বেশ ক্ষতি হয়েছে। তবে আর যদি ভারী বৃষ্টিপাত না হয় তবে তলিয়ে যাওয়া জমির ধানের আংশিক ক্ষতি হতে পারে বলে উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা গেছে। কৃষকরা জানান, সার ও কীটনাশকের অনিয়ন্ত্রিত বাজারদর, কলের লাঙ্গল দিয়ে জমি প্রস্তুতিতেও অতিরিক্ত ব্যয় এবং উচ্চমূল্য দিয়ে কৃষি শ্রমিক নিয়ে ধান আবাদ করতে কৃষকদের বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে। তথাপিও খোলাবাজারে ধানের বাজারদর অন্যান্য বছরের তুলনায় সন্তোষজনক হওয়ায় ধান চাষীরা ধানের বাজার দর নিয়ে খুশি। তা ছাড়া ধানের খড় ও বিচালীর বাজারদরও বেশ চড়া থাকায় অন্যান্য ফসলের আবাদ চেয়ে ধানের আবাদ লাভজনক জেনে কৃষকরা চলতি মৌসুমে আমন ধান আবাদে বেশ ঝুঁকে পড়েছে। উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌর এলাকার প্রত্যেক মাঠেই কৃষকরা তাদের পূর্ব প্রস্তুতকৃত বীজতলা থেকে চারা সংগ্রহ করে কাংখিত আমন ধান আবাদ কাজে এখন বেশ ব্যস্ত সময় পার করছেন। প গত সোমবার পৌর শহরের তাহেরপুর গ্রামে সরেজমিন যেয়ে দেখা যায়, দলবেঁধে শ্রমিকেরা ধান লাগাবার কাজটি করছেন বেশ দ্রুততার সাথে। চিরায়ত বাংলার কৃষকদের ধান রোপনের সুনিপুন হাতের কাজটি দেখে বেশ ভালই লাগলো। এই দৃশ্যটি তাৎক্ষনিকভাবে ক্যামেরায় ধারন করে নিলাম। খোঁজ খবর নিয়ে জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বহু কৃষক অন্যান্য ফসলের আবাদের চেয়ে ধানের আবাদে অধিক লাভজনক জেনে আমন ধান আবাদে ঝুঁকে পড়েছেন। উপজেলার হালসা গ্রামের হাসান আলী জানান, গত বছর তিনি ২ বিঘা জমিতে আমন ধানের আবাদ করেছিলেন। এবার আরও একবিঘা জমিতে বেশী ধানের আবাদ করার উদ্যোগ নিয়েছেন। ঘুঘুরাইল গ্রামের আবুল কাশেম বলেন, এবার ধানের বাজারদর ও খড়-বিচালীর দাম ভাল হওয়ায় গত বছরের চেয়ে তিনি বেশি জমিতে ধান আবাদ করছেন। খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে, অন্যান্য বছারের তুলনায় এবার অধিক পরিমাণ জমিতে কৃষকরা আমন ধান আবাদ করেছেন। উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ আবুল হাসান জানান, চলতি মৌসুমে অন্যান্য বছরের তুলনায় কৃষকরা আশাতীত জমিতে আমন ধান আবাদ করছেন। আমন ধান আবাদে ১ হাজার ৬০ জন কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে প্রণোদনা হিসেবে সার ও বীজ বিতরণ করা হয়েছে। তাছাড়া উপযোগী আবহাওয়া এবং ধানের বাজার দর ভাল হওয়ায় কৃষকেরা এবার অন্যান্য ফসলের চেয়ে ধান আবাদে বেশী উৎসাহী হয়েছেন বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেছেন।

আরো পড়ুন