ভোলার চরাঞ্চলে বিপন্ন সৈকতের পাখি

আকতারুজ্জামান সুজন,নিজস্ব প্রতিনিধি

বাংলাদেশের দক্ষিনে সুবিশাল জলরাশি বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেষে অবস্থিত দ্বীপ জনপথ ভোলা। উজান থেকে বয়ে আসা পলিমাটি জমা হয়ে এই দ্বীপাঞ্চলে জেগে উঠেছে অসংখ্য চর।এ জেলায় সুদীর্ঘ সমুদ্র সৈকত ও উপকুলীয় চরাঞ্চলগুলো বিভিন্ন প্রজাতির পাখির বিচরনে মুখরিত থাকে।

শীতকালে স্থানীয় পাখির পাশাপাশি প্রচুরসংখ্যক পরিযায়ী পাখির আগমন ঘটে এই চরগুলোতে।স্থানীয় ও পরিযায়ী এসব পাখির কিছু প্রজাতি জলাশয়ের পাশে সৈকতে বিচরন করে, এদেরকে সৈকতের পাখি বলা হয়।

এদের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির জিরিয়া, জৌরালী,গুলিন্দা, গাঙচিল, পানচিল বাটানসহ অারো অনেক পাখি। এরা সারাদিন কিচিরমিচির শব্দ আর প্রানচাঞ্চলে ভরিয়ে তুলে ভোলার চরগুলো। একসাথে কয়েকশ পাখির উড়াউড়ি, আকাশে দু-এক চক্কর দিয়ে আবার এসে পানিতে নামা কিংবা ডানা ঝাপটানো অসাধারন দৃশ্য অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর।

ভোলার উপকূলীয় এলাকার চর ভেদুরিয়া, মাঝের চর, কলাতলি চর, ডুবোচর, চর বড়পিয়াল, চর শাহজালাল, ঢালচর, চর কুকরিমুকরি, আন্ডার চর, সোনার চর, চর মোন্তাজ, টেগরার চর ও দমার চরসহ অসংখ্য চরে শীতকালে এরুপ দৃশ্য দেখা যায়।তবে, এই সমস্ত পাখিদের আবাসস্থল কমে যাওয়া, খাদ্যাভাবসহ বিভিন্ন কারনে সৈকতে পাখির বেশীরভাগ প্রজাতি বিপন্ন অবস্থায় রয়েছে।

সৈকতে বিচরনকারী ছোট অাকারের পাখি জিরিয়া বিপন্ন অবস্থায় রয়েছে, এরা নোনা পানির ধারে মেঘনা নদীর মোহনায় বালুচরে বিচরন করে, বেশ চঞ্চল এই পাখিগুলো ছোট বা বড় ঝাকে উড়ে বেড়ায়। কালো লেজ জৌরালী এখানকার পরিচিত সৈকতের অন্যতম পাখিদের মধ্যে বিপন্ন পাখি।সৈকতের কাদাময় স্থানে কিংবা অগভীর পানিতে কয়েকশ জৌরালী পাখি একসাথে বিচরন করে। সৈকতের পাখির অপর একটি দলে আছে বিভিন্ন প্রজাতির বাটান, অন্যান্য সৈকতের পাখির দলের সাথে মিশে থাকে পাতি বাটান, সবুজ বাটান, গুলিন্দা বাটান। একসময় উপকুলে এদেরকে দেখে গেলেও এখন কমে গেছে। শীতকালে উপকুলীয় চরে বিশ্বব্যাপী বিপন্ন চামুচ বাটান পাখি পরিযায়ন করে অাসে, ভাটার সময় সিক্ত সৈকতে ছোট ছোট বাটানের দল খাবার খোজায় ব্যাস্ত সময় পার করে। ভোলার চরাঞ্চলে আরেক একটি বিপন্ন পাখি কালা মাথা কাস্তেচরা, এর দেহ সাদা তবে গলা মাথা কাস্তের মতো বাঁকানো চঞ্চূ দেখতে কালো। শীতকালে উপকুলের চর ঘেঁষে পাড়ের পানিতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। কাস্তেচরার মতোই লম্বা চঞ্চূধারী পাখি পাকড়া উল্টোঠুঁটো বিপন্ন অবস্থায় রয়েছে। ঘন কালো চঞ্চূ অত্যান্ত সরু এবং উপরদিকে বাঁকানো তুষার শুভ্রদেহে লম্বা কালো দাগ এদেরকে আরো আকর্ষনীয় করে তুলেছে। গাঙচিল ও পানচিল উপকুলীয় জলচর পাখিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য, এখানে প্রায় ১৮ প্রজাতির গাঙচিল ও পানচিল দেখা যায়। এই গাঙচিল ও পানচিল বেশিরভাগ প্রজাতি আজ বিপন্ন। ভোলার উপকুলের সৈকতের এই পাখিরা প্রতিবেশ ব্যাবস্থায় গুরুত্তপুর্ন ভুৃমিকা পালন করে থাকে, অথচ আমাদের অসচেতনতা ও বিরুপ কর্মকান্ডের কারনে এসব পাখির আবাসস্থল ও প্রজনন ভূমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।সৈকতের পাখিদের বিপদসংকুল হয়ে উঠেছে উপকুলীয় চরাঞ্চল। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন, জলাশয় দুষন, সৈকতে মাছ ধরার জাল পেতে রাখার কারনে বেশকিছু পাখির অস্তিত্ব হুমকির মুখে রয়েছে।

তাই, সচেতনতার সৃষ্টির মাধ্যমে বিপন্ন উপকুলের সৈকতের পাখি রক্ষা করা সম্ভব। উপকুল প্রতিবেশ ব্যাবস্থা সুস্থ্য রাখার মাধ্যমে বিপন্ন সৈকতের পাখি সংরক্ষনের পাশাপাশি নিশ্চিত করা সম্ভব ভোলা জেলার সুস্থ পরিবেশ।

আরো পড়ুন