বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল-এর মৃত্যুবার্ষিকীতে বিনম্র শ্রদ্ধা –

 

জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল ১৯৪৭ সালের ১৬ ডিসেম্বর সমূদ্র তীরবর্তী ভোলা জেলার দৌলতখান থানার পশ্চিম হাজীপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম হাবিবুর রহমান, মায়ের নাম মালেকা বেগম ও স্ত্রীর নাম পিয়ারা বেগম।তার পিতা ছিলেন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত হাবিলদার।
মোস্তফা কামাল শৈশব থেকেই ছিলেন দুঃসাহসী।পড়াশোনা বেশি দূর করতে পারেননি। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পর উচ্চ বিদ্যালয়ে দু- এক বছর অধ্যায়ন করেন।
মোস্তফা কামালের ছোটবেলা তার পিতার কর্মস্থল কুমিল্লা সেনানিবাসে কেটেছে। বিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার চেয়ে সেনানিবাসে সেনাবাহিনীর কুচকাওয়াজ, মার্চপাস্ট ভাল লাগতো তার এবং ক্রমেই তিনি সেনাবাহিনীর একজন সদস্য হবার স্বপ্ন দেখতে থাকেন ও সেনাবাহিনীতে যোগ দেবেন বলে মন স্থির করেন।
২০ বছর বয়সে হঠাৎ করেই মোস্তফা কামাল বাড়ি থেকে নিরুদ্দেশ হয়ে যান। পরে ১৯৬৮ সালে পাকিস্তানের চতুর্থ রেজিমেন্টে চাকরি চুড়ান্ত হবার পর তার মা-বাবা সন্ধান পান।

তিনি ১৯৭১ সালে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে ফেলে রেখে মুক্তিযুদ্ধে যোগদান করেন। ১৭ এপ্রিল পাকিস্তান সেনাবাহিনীর চতুর্থ ইস্ট বেঙ্গলকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য কুমিল্লা -আখাউড়া রেললাইন ধরে এগিয়ে যান। ১৮ এপ্রিল ভোরবেলা পাকিস্তান সেনাবাহিনী দরুনই গ্রামে মুক্তিবাহিনীর উপর আক্রমণ করলে মোস্তফা কামাল ও তার সঙ্গীয় মুক্তিবাহিনী মরিয়া হয়ে পাল্টা গুলি চালাতে থাকেন। যুদ্ধের এক পর্যায়ে পাকিস্তান সেনাবাহিনী সন্নিকটে চলে এলে তিনি মুক্তিবাহিনীর সদস্যদের নিরাপদে সরে যাওয়ার জন্য একাই যুদ্ধ করতে থাকেন।কিন্তু এক পর্যায়ে মোস্তাফা কামালের এল.এম.জি- র গুলি শেষ হয়ে যায় এবং তিনি মারাত্মকভাবে জখম হন।তখন পাকিস্তানি সৈন্যরা ট্রেঞ্চে এসে তাকে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করে।
১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর তাকে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান বীরশ্রেষ্ঠ খেতাবে ভূষিত করা হয়।

১৯৭১ সালের ১৮ এপ্রিল জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান দেশকে মুক্ত করার জন্য পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে গিয়ে অমূল্য জীবন উৎসর্গ করেন।তার মৃত্যু দিবসে জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা।

আরো পড়ুন