বিবেকের প্রতি দায়বদ্ধতা দুর্নীতিকে ফাঁসিতে ঝোলাতে পারে!

বিশেষ প্রতিনিধি

সাংবাদিক ও লেখক আবুল কালাম আজাদ:  দৈনন্দিন কি জাতীয় জীবনে দুর্নীতি আমাদের অস্তিত্বের সঙ্গে এমনভাবে ধীরে ধীরে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে যাচ্ছে যে, তা পৃথক করে উপলব্ধি করা অনায়াস সাধ্য নয়। দুর্নীতির মধ্যে ডুবে থাকলেও তা নির্মূলে বিশেষ তৎপর হই না অথবা তৎপর হলেও দুর্নীতি অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী ভাইরাসের মতো অনুকূল পরিবেশে টিকে থাকছে।

দুদকের সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান দায়িত্ব গ্রহণের শুরুতে ‘নৈতিক মূল্যবোধ’-এর ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছিলেন এবং দায়িত্ব থেকে ইস্তফা দেওয়ার বেলাতেও ‘বিবেকের প্রতি দায়বদ্ধতা’র ওপর সর্বাধিক জোর দিয়ে গেছেন। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে দুর্নীতি প্রশমনে দুর্নীতি দমনে নৈতিক মূল্যবোধ সৃষ্টির যে কী মহিমা, কী অপরিহার্যতা_ সেটি গোলাম রহমান অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞার মাধ্যমে ঠিকই শনাক্ত করতে পেরেছেন।

আইন মূলত মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। মানুষের অন্তরের কুপ্রবৃত্তি নিয়ন্ত্রণ আইনের অসাধ্য কাজ। অবশ্য আইনের শাস্তির ভয়ে ভীত ব্যক্তি অনেক সময় মনের অপরাধ চিন্তাকে বাহ্যিক আচরণের মাধ্যমে প্রয়োগ করা থেকে বিরত থাকে। আলোচ্য বিষয়ে আইনের উপযোগিতা সে পর্যন্তই সীমাবদ্ধ। ফলে আইনের চোখ যেখানে অনুপস্থিত, সেখানে বিবেকের প্রতি দায়বদ্ধতাহীন ব্যক্তি অপরাধ চিন্তা বাস্তবায়নের সুযোগ সাধারণত হাতছাড়া করে না। বিবেকের প্রতি দায়বদ্ধ থাকলে আইনের উপস্থিতি-অনুপস্থিতি উভয় ক্ষেত্রেই ব্যক্তি তার অপরাধ চিন্তা বাস্তবায়নের সুযোগ থাকলেও সে সুযোগ গ্রহণে পিছপা হয়। আইন যেখানে দুর্নীতিকে কারাদণ্ড মাত্র দিতে পারে, বিবেকের প্রতি দায়বদ্ধতা সেখানে দুর্নীতিকে ফাঁসিতে ঝোলাতে পারে।

আরো পড়ুন