বিবেকই একজন মানুষের জীবন চালানোর উৎকৃষ্ট সংবিধান

নিজস্ব প্রতিনিধি

ভুলে ভুলে মানুষ এক সময় অন্ধ হয়ে যায়। লোভ-লালসা মানুষকে অনেক সময় ভুল পথে নিয়ে যায়। লোভের তাড়নায় মানুষের বিবেক-বুদ্ধি লোপ পায়। অন্ধ বিবেকের কারণে কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা জাতি কখনও সঠিক পথ খুঁজে পায় না। কারণ তারা উল্টা স্রোতে হাঁটে। তাদের ওপর ভর করে অপশক্তি। ভুলে ভরা পথকেই তারা সঠিক বলে মনে করে। আর এতে তাদের আলোর জগতে আসার সম্ভাবনাটুকু হারিয়ে যায়।

বিবেকই একজন মানুষের জীবন চালনার উৎকৃষ্ট সংবিধান। সে সংবিধানের বিভিন্ন ধারা-উপধারা সংশোধিতও হয় কালের আয়নায়, সততার গঙ্গাজলে। বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ মানুষ বিবেক দিয়ে জীবনের সঠিক পথের পথচারী হয়ে পড়ে।

সে আইনশাস্ত্রের বিশেষ মুখাপেক্ষী নয়। আইন মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে থাকে, মনের কদাচার নিয়ন্ত্রণের সাধ্য আইনের নেই।

মন হলো মানুষের বাহ্যিক আচরণের প্রধানতম নিয়ন্তা। মনের সদিচ্ছা অথবা অসদিচ্ছার প্রতিফলনে মানুষের বাহ্যিক আচরণ যথাক্রমে সত্ বা অসত্ হয়ে পড়ে। যে আইন মানুষের বাহ্যিক আচরণের উত্সমূল পর্যন্ত পৌঁছতে পারে না, তার উপযোগিতা আর কতইবা? একথা অনস্বীকার্য আইন জানার মধ্যদিয়ে, আইন চর্চার মধ্যদিয়ে সুপ্ত বিবেকযুক্ত মানুষের অন্তরে বিবেকের জাগরণ, বিবেকের শ্রীবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হতে পারে।

মাঝে মধ্যে মনে হয় সমাজের সবগুলো বিবেক জাগ্রত না থাকলেও খুব একটা ক্ষতি নেই, কিন্তু যেই বিবেকগুলা জাগ্রত থাকা খুব দরকার সেগুলো ঘুমিয়ে আছে বলেই আমাদের আজ এই পরিণতি! কেননা সেই একেকটা বিবেক সমাজের কয়েক হাজার বিবেককে জাগ্রত করার ক্ষমতা রাখে, কিন্তু বাস্তবে তাদের স্বার্থের নীচে চাপা পরে বিবেক এর প্রাণ যাই যাই আর তারা বিবেকে তালা লাগিয়ে সাপলুডু আর স্বার্থের খেলায় ব্যস্ত।

আর সবার বিবেকের কথা যদি বলি তবে, আমরা সাদাকে সাদা, কালোকে কালো বলার কথা বলি, স্বাধীনতার কথা বলি, গণতন্ত্রের কথা বলি, সন্ত্রাসী,ধর্ষনকারী, নির্যাতনকারীদের রুখে দেয়ার অঙ্গিকার করি, কিন্তু অন দ্যা স্পটে কাজ করা ও প্রতিরোধে কেউ শামিল হইনা। গা বাঁচিয়ে দূরে সরে থেকে, বুঝেশুনে পথ হাঁটি। সেটা কি অপরাধ আর অপরাধীর সাথে আপসকামিতা নয়?

আমরা কেউই এ ক্ষনস্থায়ী পৃথিবীতে চিরকাল থাকতে পারবোনা, একে একে সবাইকেই চলে যেতে হবে। নশ্বর এ পৃথিবীতে থাকবে শুধু আমাদের কর্ম।
যারা এ-দুনিয়াতে এসেছিলেন, তাঁদের সবার জন্য নির্ধারিত ছিল মৃত্যুর দিনক্ষণ। কোনো ব্যতিক্রম ছাড়া-ই, তাদের সবাইকে মরতে হয়েছে। যারা চলে গেছেন, আজ তাঁদের মধ্যে খুব কম লোকেরই চিহ্ন খুজে পাই আমরা। আর যারা বেঁচে আছেন, এবং ভবিষ্যতে যারা বাঁচবেন–তাদের সবাইকে নির্ধারিত সময়ে মরতে হবে। অথচ মানুষের হাব-ভাব দেখলে মনে হয়, তাঁরা মনেই করে না যে, তাদের একদিন মৃত্যুকে বরণ করে নিতে হবে।

–আবুল কালাম আজাদ, লেখক ও সাংবাদিক–

আরো পড়ুন