বরিশালে সাংবাদিকতার লেবাস লাগিয়ে খাইরুলের অপকর্ম

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

বরিশালে সাংবাদিকতার লেবাস লাগিয়ে একের পর এক অপকর্ম করে যাচ্ছেন খায়রুল ইসলাম নোমান মোল্লা(৩৫)বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনসহ বরিশাল প্রেসক্লাবের সহযোগী সদস্য পরিচয় দিয়ে নিজেকে বড় সাংবাদিক দাবী করে মানুষের সাথে প্রতারণা করে আসছেন এমন অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

খায়রুলের স্বীকারোক্তি সহ রেকর্ডিং রয়েছে প্রতিবেদকের কাছে।শুধু প্রেসক্লাব নয় তিনি আওয়ামী লীগের নেতা পরিচয় দিয়ে নানান কুকীর্তির মাধ্যমে অর্থ আদায় করে চলেছেন। এই সাংবাদিক পরিচয়কারী খায়রুল ইসলাম নোমান মোল্লা ঝালকাঠি জেলা নলছিটি উপজেলার সুবিদপুর ইউনিয়ন গোদন্ড গ্রামের কথিত মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক মাস্টার ছোট ছেলে।বিভিন্ন মাধ্যমে জানা যায়,খাইরুলের একাধিক বিয়ে রয়েছে।স্ত্রী সন্তান থাকা অবস্থায়ও স্কুল কলেজ পড়ুয়া মেয়েদের ফুসলিয়ে অনৈতিক কার্যকলাপে বাধ্য করান বলে জানা যায়।

এছাড়া বিবাহিত মহিলাদের সুকৌশলে অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে হাতিয়ে নিচ্ছেন অর্থ ও সুযোগ সুবিধা তছনছ হচ্ছে সুখের সংসার।খাইরুল নানা অপকর্মের কারনে নিজ এলাকা নলছিটি সুবিদপুর গ্রাম ছাড়তে বাধ্য হন।

নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিলেও নিউজ লিখতে অক্ষম তিনি। বর্তমানে তিনি নগরীর নতুল্লাবাত মধুমিয়ার পোল এলাকার একটি ভাড়া বাসায় বিএম কলেজের এক শিক্ষার্থীকে নিয়ে বসাবাস করছেন।ঐ নারী তার স্ত্রী কি না এব্যাপারে রয়েছে সন্দেহ।নগরীর মিডিয়া পাড়া সুত্রে জানা যায় বরিশালের বিভিন্ন পত্রিকার কার্ড, সাংবাদিক সংগঠনের নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি সহ নারী কেলেঙ্কারির সাথেও লিপ্ত রয়েছে বলে অনুসন্ধানে এমন তথ্য পাওয়া যায়।

নগরীর নথুল্লাবাত এলাকার একাধিক ব্যাক্তি জানান,খায়রুল ইসলাম ইসলাম নোমান দুই তিন বছর আগে রেন্ট- কারের ড্রাইভার ছিলো,এর পর এই এলাকায় ভ্যানে করে ফল বিক্রি করতো। এক পর্যায়ে আমরা দেখতে পাই তারুণ্যের বার্তা নামে একটি পত্রিকার কার্ড ব্যবহার করে সাংবাদিক পরিচয় দেয় এবং নতুল্লাবাত এলাকার হলুদ অটো আর আলফা মাহিন্দ্র গাড়ির ড্রাইভারদের সাথে আঁতাত করে মাসিক বিট বানিজ্যে লিপ্ত হন। এমনকি পুলিশের সার্জেন্ট কাগজ বিহীন গাড়ি আটক করলেই তিনি ছুটে গিয়ে সাংবাদিক পরিচয়ে দিয়ে তা ছাড়িয়ে আনেন।

তার আয়ের উৎস চাঁদাবাজি, দালালী, খোটবাজি,ও নারীদের ফাদে ফেলে অর্থ আদায় করা।তার বিরুদ্ধে বিস্তার অভিযোগ রয়েছে এই প্রতিবেদকের হাতে। জানা যায় এক বছর আগে দালালী করতে গিয়ে একবার পুলিশ সার্জেন্টের কাছে আটক হন খায়রুল এরপর খবর পেয়ে এক সাংবাদিক মুচলেকা দিয়ে মুক্ত করে আনেন।এরপর খোটবাজির কারনে তারুণ্যের বার্তা থেকে ছবি সহ নিউজের মাধ্যমে বহিষ্কার করা হয়।তার পরও থেমে থাকেনি তার খোটবাজি আর চাঁদবাজির ধান্দা, যখন যাকে খুশি তখন তাকে ব্যবহার করে ধান্দাগিরি চালিয়ে যায়।

অনুসন্ধান করে জানা যায়,খায়রুলের কাছে রয়েছে পত্রিকার ১ ডজনেরও বেশি কার্ড, তারুন্যের বার্তা, বাংলাদেশের খবর,জেবি টেলিভিশন,সংবাদ প্রকাশ, সমাচার সহ আরও কয়েকটি অনলাইন পোর্টালের কার্ড। এছাড়াও তার ফেইসবুক আইডির প্রোফাইলে লেখা রয়েছে জাতীয় পত্রিকা বাংলাদেশ প্রতিদিনের নাম তিনি সেখানে চাকরী করেন,আরও লেখা রয়েছে মহানগর ছাত্রলীগ নেতা।এই হলো তার আর একটি কুকীর্তি মাধ্যম। এরপর মোটর সাইকেলে স্টিকার ও প্রেস লেখা তো আছেই।খোজ নিয়ে দেখা যায়, মাহিন্দ্র বিট বানিজ্য, ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের কাজ থেকে চাঁদা আদায়, নিউজের কথা বলে টাকা এনে আত্মাসাত করা।

দোকানে বাকি খেয়ে টাকা না দেওয়া। নগরীর ৫ নং ওয়ার্ড ২৩নং ওয়ার্ড ও তালতলি ইউনিয়নে একাধিক নারী সাথে রয়েছে তার অবৈধ সম্পর্ক(তার তথ্যাদি রয়েছে এই প্রতিবেদকের কাছে ) নাম প্রকাশ না করার সর্তে তারা জানান,ফেইসবুক কল মেজেজ পাঠায়ে ডিস্টার্ব করতো এক পর্যায়ে খাইরুল অবিবাহিত,শিক্ষিত,বড় সাংবাদিক পরিচয় দিতো। পরে জানার পর আমরা বুজতে পারছি ও একটা লম্পট,চরিত্রহীন,দুরচরিত্রা ওর শাস্তি হওয়া উচিত যাতে এই রকম সাহস না দেখাইতে পারেন।

এদিকে কিছুদিন আগে তার নিজ বাড়িতে প্রতিবেশীদের সাথে জমিজমা নিয়ে বিরোধ করে বিভেদে জড়ায় এবং তার বাবা মুক্তিযোদ্ধা না হওয়া সত্ত্বেও বাবা মুক্তিযোদ্ধা ও নিজেকে বড় সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে ফায়দা লোটার চেষ্টা করে যা বিভিন্ন পত্রিকায় নিউজ প্রকাশিত হয়েছে। এ ঘটনায় খাইরুল নিজেকে বরিশাল প্রেসক্লাবের সদস্য পরিচয় দিলে ভুক্তভোগী তার ভুয়া পরিচয় এর ব্যাপারে বরিশাল প্রেসক্লাবের দপ্তর সম্পাদক এম লোকমান হোসেনকে বিষয়টি অবহিত করলে তিনি বলেন সদস্য না হয়েও প্রেসক্লাবের পরিচয় দেওয়াটা খুবই গুরুতর অপরাধ আমরা তদন্ত সাপেক্ষে বিষয়টির ব্যবস্থা নেব।

আরো পড়ুন