প্রাইভেট কারে আসে ‘গরুচোর’!

প্রাইভেট কারে বসা রীতিমতো ভদ্রলোক। কারও সন্দেহও হওয়ার উপায় নেই। অথচ সেখানে বসেই মূলহোতা দিতো নির্দেশনা। দিনের বেলা বিভিন্ন এলাকায় গাড়ি নিয়ে ঘুরে ঘুরে সঙ্গীদের নিয়ে গৃহস্থদের বাড়ি রেকি (চিহ্নিত) করতো। সুযোগ পেলে পথের ধারে বাঁধা দু’একটা ছাগল প্রাইভেট কারে তুলে নিয়ে ভেগে যেতো তারা। আর সে তথ্য অনুযায়ী রাতের আঁধারে গৃহস্থের গোয়ালের সামনে এসে থামতো আরেকটি পিক-আপ ভ্যান। এরপর গোয়াল থেকে সব গরু-বাছুর বের করে পিক-আপে তুলতে পারলেই গাড়ি টান। অথচ এরা সবাই ‘গরুচোর’।

বরিশালে আন্তঃজেলা গরুচোর চক্রের এমন ৩ সদস্যকে চোরাই ৫টি গরুসহ গ্রেফতার করেছে বরিশাল মেট্রোপলিটন এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) মো. খাইরুল আলম।

গ্রেফতারকৃতরা হলো সুমন প্যাদা, শাহ আলম, ইমরান হাওলাদার। এদের মধ্য সুমন প্যাদা ও শাহ আলমকে বরিশাল এবং ইমরান ঝালকাঠীর রাজাপুর থানার কৈ খালী থেকে গ্রেফতার করা হয়। সংবাদ সম্মেলনের পর আদালতের মাধ্যমে ৩ গরু চোরকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

উপ-পুলিশ কমিশনার জানান, গত ১৯ জুন গভীর রাতে বরিশালের এয়ারপোর্ট থানার উত্তর কড়াপুর এলাকার বাসিন্দা জাকির হোসেন শাকিল এর গোয়ালঘর থেকে ৪টি গরু চুরি হয়। ২৬ জুন মাধবপাশা ইউনিয়নের চন্দ্রপাড়া এলাকার বাসিন্দা দিলিপ কুমার মন্ডলের গোয়াল ঘর থেকে আরও ৫টি গরু চুরি হয়।

এসব ঘটনায় এয়ারপোর্ট থানায় পৃথক মামলা দায়ের করা হয়। এরপর অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) জাকারিয়া রহমান জিকুর নেতৃত্বে প্রযুক্তির সহায়তায় বুধবার রাতে বরিশাল ও ঝালকাঠি থেকে ওই ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে চুরি হওয়া ৫টি গরু ও চোরাই কাজে ব্যবহৃত প্রাইভেট কার ও পিকআপ উদ্ধার করা হয়।

উপ-পুলিশ কমিশনার আরও জানান, এরা বরিশালের বিভিন্ন এলাকা থেকে গরু চুরি করে পিকআপে উঠিয়ে পটুয়াখালী, বরগুনা, ঝালকাঠী ও পিরোজপুর নিয়ে বিক্রি করতো। আর প্রাইভেট কারটি ছাগল চুরি ও চুরির করার স্থান নির্ধারণের কাজে ব্যবহার করতো। চুরির সঙ্গে জড়িত বাকিদেরকেও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

 

আরো পড়ুন