দ্রুত বাঁধ সংস্কারের দাবিতে পানিতে দাঁড়িয়ে অভিনব মানববন্ধন

স্বীকৃতি বিশ্বাসঃ

উন্নত বিশ্বের অত্যাচার ও অনাচারের ফলে প্রকৃতি ও পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। বাতাসে কার্বন- ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে গিয়ে গ্রীণ হাউজ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।এছাড়াও আধুনিক নগরায়নের ফলে মোট ভূখন্ডের ২৫ শতাংশ বনভূমি থাকার কথা থাকলে তা আমরা নিজেরাই নষ্ট করছি।ফলে আমাদের আবহাওয়া ও জলবায়ুর বৈশ্বিক পরিবর্তন হচ্ছে এবং ঝড়,বন্যা, খরা,জলোচ্ছ্বাস, অতিবৃষ্ট,অনাবৃষ্টিসহ ঋতুবৈচিত্রের পরিবর্তন হচ্ছে ও বিভিন্ন প্রাকৃতিক বিপর্যয় পূর্বের থেকে অনেক বেড়ে যাচ্ছে ।আর তাই অতিদ্রুত একটার পর একটা প্রাকৃতিক দূর্যোগকে মোকাবেলা করতে হচ্ছে সমুদ্র উপকূলীয় সাতক্ষীরা, খুলনা,বাগেরহাট, বরগুনা, বরিশাল,ভোলা,লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজারসহ আরও কয়েকটি জেলাকে।
কিছুদিন পূর্বে সংঘটিত ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের ফলে সাতক্ষীরাসহ সীমান্তবর্তী জেলা গুলোর যে উপকূলীয় বেড়িবাঁধ আছে সেগুলো অধিকাংশই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষেরা কমবেশি সংস্কার করলেও এখনও অনেক জায়গায় বাঁধ সংস্কারের কাজ বাকি আছে।ফলে ভরাপূর্ণিমার সময় ভরা জোয়ারের চাপে ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ ভেঙে আবারও বাড়িঘর তলিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আর তাই ভেঙে যাওয়া বেড়িবাঁধ দ্রুত সংস্কার ও স্থায়ীভাবে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবিতে আজ ২৪ জুন-২০২১ রোজ বৃহস্পতিবার সাতক্ষীরা জেলার প্রতাপ নগর ইউনিয়নের সকল শ্রেণী পেশার কয়েক হাজার মানুষ কোমর পানিতে দাঁড়িয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অভিনব প্রতিবাদ হিসাবে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।
বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আব্দুর সাত্তারের সভাপতিত্বে প্রতাপ নগর ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডে গ্রামীণ টাওয়ারের সামনে সকাল ১১ ঘটিকায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক,ইমাম,ডাক্তার, বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও স্কুলে পড়ুয়া শিক্ষার্থী, নারীপুরুষ শিশুসহ সকল শ্রেণী পেশার মানুষ।
বক্তরা বলেন, বাংলাদেশে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা চলছে। উপকূলীয় অঞ্চলের জনগণের কল্যাণে বাজেট বরাদ্দও বাড়ে কিন্তু উপকূলীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা,ঠিকাদার ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ত্রিমূখী সিন্ডিকেটে বেড়িবাঁধ সংস্কারের নামে চলে বিশাল অংকের অর্থের হরিলুট।
তাই উপকূলীয় অঞ্চলের জনগণের দাবি ১.ত্রাণ নয় পরিত্রাণ ,২. বেড়িবাঁধ মেরামত নয়, টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ ,৩. উপকূলীয় মানুষের সুরক্ষা,৪. সাইক্লোন সেন্টার নয়, নিরাপদ আশ্রয়, ৫. সুপেয় পানীয় জলের ব্যবস্থা ,৬. সুন্দরবনের সুরক্ষা ও৭. সেনাবাহিনী দ্বারা নদ- নদীর খনন ও রক্ষণাবেক্ষণ।

উপকূলীয় অঞ্চলের জনগণকে নিরাপদ রাখতে বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর সুদৃষ্টি প্রার্থনা করেন বক্তরা।

আরো পড়ুন