দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জয়ের পতাকা উড়াতে চায় রুপা জয়ী নাঈমা

সিরাজুল আরেফিন হৃদয়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের হয়ে জয় এর পতাকা উড়াতে চায় রুপা জয়ী নাঈমা। তার আত্মবিশ্বাস ও অদম্য ইচ্ছা শক্তি সে জীবন যুদ্ধে জয় হয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের হয়ে পতাকা উড়াতে পারবে।

‘আমি নারী আমি সব পারি’এমন একটি উক্তি বুঁকে গেঁথে নিয়ল এগিয়া যাচ্ছে রুপাজয়ী নাঈমা।

একজন নারী সৈনিক সে যখন যুদ্ধে নামে তখন নিজের সবটুকু দিয়ে যুদ্ধ করে জয় ছিনিয়ে নিয়ে আসে। আর জীবন যুদ্ধে লড়াই হয় নিষ্ঠুর মানব সমাজ ব্যবস্থা সাথে তাই এ যুদ্ধে খুব কঠিন হয় লড়তে একজন নারীর জন্য। তারপরও হার না মানা একজন সৈনিক নাইমা খাতুন।

নাঈমা খাতুন জানায়, দেশের বাইরে বড় কোন আসরে লাল সবুজ পতাকা সব থেকে উঁচুতে উড়াতে চাই। তার জন্য যতটা কষ্ট করা লাগে আমি করতে চাই সর্বোচ্চ চেষ্টা দিয়ে লড়তে চাই।

এসএ গেমসে আমি সিলভার মেডেল অর্জন করেছি কিন্তু তাতে আমি খুশি না আমি চেয়েছিলাম গোল্ড মেডেল আনতে দেশের পতাকা সবথেকে উঁচু করতে।অনেকটা চেষ্টা করেছি ভাগ্যের পরিহাসে বা নিজের কোন ভুল ত্রুটির কারনে হেরে গেছি।

”একবার না পারিলে দেখো শতবার”

তাই আল্লাহতালা সহায় থাকলে কাল ঠিকই জিতব।

বিভিন্ন জিজ্ঞাসা বাদের মাধ্যমে নাইমা খাতুন জানান, আমার একটাই লক্ষ ও সপ্ন বাংলাদেশ এর হয়ে বড় কোন আসর থেকে স্বর্ন পদক অর্জন করে দেশের,পরিবারের,ও তার আম্মুর মুখ উজ্জ্বল করা।

আর সেই দিনই জীবন সার্থক মনে হবে।
জীবন আমাকে কি দিবে সেই অপেক্ষা না থেকে জীবনকে আমি কিছু দিতে চাই। তাই এই লকডাউন মধ্যেও বাসায় কারাতে অনুশীলন করে যাচ্ছি‌। ও ফিটনেস ঠিক রাখার জন্য ব্যায়াম অনুশীলন করছি।

এরই ধারাবাহিকতা নিয়ে তিনি ২০১৫ সালে কারাতে খেলায় যোগ দেয় বাংলাদেশ ইয়া‌ং কিং কারাতে সেন্টারে টিচার মোঃ ফরমান আলীর কাছে শিখতে থাকে কারাতে আস্তে আস্তে সে কারাতে খেলার সাথে সম্পৃক্ত হন। দিনের পর দিন প্রশিক্ষন করতে করতে জেলার কিছু ছোট ছোট খেলায় অংশগ্রহন করে প্রথম থেকেই সফলতা অর্জন করতে থাকে।

এবং বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশনের এর আয়োজিত বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক খেলায় অংশগ্রহণ করে বিভিন্ন পদক অর্জন করতে থাকে। এবং কারাতে ফেডারেশন কতৃক বিভিন্ন দিবস উপলক্ষে খেলাতে অংশগ্রহণ করে ও বিভিন্ন পদক অর্জন করেন।

তার মোট ৪টি স্বর্ণ, ৪টি রৌপ্য,৬টি তাম্র।

পাশাপাশি কুস্তি ও খেলেছি সেখানেও বেশ ভালো সুনাম অর্জন করেছি।
টিচার আহসান কবির বাবুর কাছে কুস্তি শিখেছি।
সেখানের পদক সংখ্যা স্বর্ণ ৩টি ১টি তাম্র ।

তার সব চেয়ে বড় এবং আনন্দ দায়ক অর্জন হিসেবে ৪টি খেলায় সব থেকে বেশি সম্মানীত হন। বাংলাদেশ যুব গেমস-২০১৮ তে কুস্তি ইভেন্টে ৪০কেজিতে স্বর্ণ অর্জন করি। ও ২৫তম জাতীয় কারাতে প্রতিযোগিতা ২০১৯ রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অংশগ্রহণ করে(৪৫ কেজিতে) রৌপ্য পদক অর্জন করে। এবং ৫ম সাউথ এশিয়ান চাম্পিয়নশিপ ২০১৯ বাংলাদেশ টিমের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করে (দলগত কুমিতে) তাম্র পদক অর্জন করেন।

ও ১৩তম এস এ গেমস এ (দলগত কুমিতে) রৌপ্য পদক অর্জন করে তিনি জানান, আমি ১৩তম সাউথ এশিয়ান গেমস এ অংশ গ্রহণ করেছি তবে এখানেই থেমে থাকতে চাই না। এর চেয়ে বড় বড় আসর , ওয়ার্ল্ড কাপ, সহ সিনিয়ার অলিম্পিকে প্রতিনিধিত্ব করতে চান তার দেশের হয়ে। এবং তিনি বলেন আমার এই ছোট্ট জীবনে কারাতে আমার জীবন সংগী। ২০১৫ সাল থেকে কারাতে কে নিজের রক্তের সাথে মিশিয়ে নিয়েছি নিয়েছি দীর্ঘ প্রতিজ্ঞা।

সর্বোপারি তিনি, দেশের সকল। মানুষের কাছে দোয়া কামনা করেন ।আমি যেনো আমার দেশের সম্মান রাখতে পারি।

আরো পড়ুন