দুবাই থেকে প্রায় সাত কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তার অভিযোগ ফেনীর তোফায়েলের নামে

আরব আমিরাত প্রতিনিধিঃ

দুবাইয়ে রিয়েল এস্টেট ব্যবসা সম্প্রসারণের কথা বলে প্রায় সাত কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা হয়ে গেছে ফেনীর তোফায়েল আহমেদ ভূঁইয়া নামের একজন আমিরাত প্রবাসী।  দুবাইয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী প্রবাসী কুমিল্লার বুড়িচং থানার শাহ আলম।
অভিযুক্ত তোফায়েল আহমেদ ভূঁইয়া ফেনীর ফুলগাজীর আপোকারিয়া আমজাদ হাটের মৃত আবু আহমেদ ভূঁইয়ার ছেলে। ফেনী সদরের পাঠান বাড়ি রোডে ‘ভূঁইয়া মহল’ নামে তার একটি বাড়ি রয়েছে। তোফায়েলের পাসপোর্ট নম্বর ই ১৯৪৭০০৩।
সংবাদ সম্মেলনে শাহ আলম জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাতের পপুলার রিয়েল এস্টেট কোম্পানির ব্যবসা সম্প্রসারণ ও মুনাফা বৃদ্ধির কথা বলে তার সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করেন তোফায়েল আহমেদ ভূঁইয়া। উভয়ে বাংলাদেশি হওয়ায় খুব দ্রুত তাদের ব্যবসায়িক সম্পর্ক তৈরি হয়। এক পর্যায়ে রিয়ের এস্টেট ব্যবসার আরও প্রসারের কথা বলে তার কাছ থেকে ৩১ লাখ দিরহাম হাতিয়ে নেন তোফায়েল আহমেদ। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায়  সাত কোটি টাকা। আবদুল রাজাক আলী আল জারুনি নামের একজনের সিলমোহর ব্যবহার করে কয়েক কিস্তিতে ওই টাকা নেন তোফায়েল। পরে কথা ও কাজের মিল না পেয়ে তাকে সন্দেহ করতে শুরু করেন শাহ আলম।
তিনি বলেন, কয়েক ধাপে রশিদ ও কফিলের (মালিক) সই দেখিয়ে প্রায় ৩১ লাখ দিরহাম নিয়েছেন তোফায়েল আহমেদ ভূঁইয়া। পরে যাচাই করে দেখা গেছে, কফিলের (মালিক) স্বাক্ষর ও সিলমোহর জাল/ভুয়া ছিল। এই বিষয়ে তার বিরুদ্ধে দুবাইয়ে দুটি মামলাও দায়ের করা হয়েছে। মামলার ঘটনা জানার পর তোফায়েল আহমেদ সুযোগ বুঝে পরিবার নিয়ে দেশে ফিরে গা ঢাকা দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী ও প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে ভুক্তভোগী শাহ আলম অভিযুক্তের শাস্তি দাবি করেন। তিনি বলেন, একজন বাংলাদেশি হয়ে প্রবাসে আরেকজন বাংলাদেশিকে এত বড় ক্ষতির মুখে ফেলে কৌশলে দেশে গিয়ে গা ঢাকা দিয়েছে তোফায়েল ও তার পরিবার। এতে করে আমিরাতে বাংলাদেশিদের প্রতি স্থানীয়দের আস্থা ও ভরসা নষ্ট হচ্ছে। বিষয়টি আমলে নিয়ে যথাযথ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আবেদন জানাচ্ছি।
সংবাদ সম্মেলনে পপুলার রিয়েল এস্টেটের আমিরাতের স্পন্সর ইব্রাহিম হায়দারের পক্ষে আমিরাতের নাগরিক মুরাদ হোসেন মোহাম্মদ আলীসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় আমিরাতের নাগরিক মুরাদ হোসেন মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘আমাদের দেশটি খুবই শান্তিপূর্ণ। এখানে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা ও নিরাপত্তা থাকায় সবাই কাজের জন্য আসে, কাজ করে। কিন্তু কেউ চাইলে টাকা নিয়ে চলে যেতে পারে না। এভাবে টাকা আত্মসাৎ করে দেশে চলে গেলে ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হয়। এতে করে ওই দেশের নাগরিকদের প্রতি বিশ্বাস ও ভরসা কমে যায়।’
আরো পড়ুন