দুবাইবাসীর জন্য দুবাই শাসকের ১০মিলিয়ন খাবারের প্যাকেজ ঘোষণা

এস এ সাদিক

সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপ-রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও দুবাইয়ের শাসক শেখ মুহাম্মদ বিন রাশেদ আল মাকতুম ১০ মিলিয়ন খাবারের প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন।

দুবাই অবস্থানরত দেশী-বিদেশী সকল জনসাধারণের জন্য তিনি এই প্যাকেজটি ঘোষণা করেন। ফলে ক্ষুধার্ত কর্মহীন লোকজন খাবারের সংকট থেকে মুক্ত হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।

করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব থেকে দুবাইকে মুক্ত করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে লকডাউনের আওতায় রয়েছে দুবাই। গত শুক্রবার থেকে রমজান উপলক্ষে লকডাউনের সময়সীমা কিছুটা পরিবর্তন করা হলেও দুবাইয়ের নায়েফ, গোল্ড সুক ,আল রাস এলাকায় ২৪ ঘন্টার জন্য এখনও লকডাউন বলবৎ রাখা হয়েছে। তবে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে এখানেও দুবাই প্রশাসন লকডাউন শীতল করতে পারে বলে জানা গেছে।

মহামারী করোনাভাইরাসের আঘাতে বিশ্ব অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়ায়। ব্যক্তিগত জীবনে নেমে এসেছে অভাব অনটন। আমিরাতেও বেশ কিছুদিন থেকে সীমিত হয়ে আসছে কাজের পরিধি।

আমিরাত সরকার দেশটিতে বসবাসরত মানুষের জন্য একের পর এক সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় পবিত্র রমজান উপলক্ষে আমিরাত প্রধানমন্ত্রী বিনা মূল্যে ১০ মিলিয়ন খাবারের প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত ১০ মিলিয়ন খাবারের প্যাকেজ থেকে খাবার পেতে চাইলে অনলাইনে রেজিষ্ট্রেশন করতে হবে। ইতোমধ্যে রেজিস্ট্রেশন শুরু হয়েছে।

রেজিস্ট্রেশন এর জন্য আমিরাত আইডি কার্ড বা মাকানি নম্বর লাগবে।

দুবাই গভর্মেন্টের দেয়া একটি ওয়েবসাইটে গিয়ে খাদ্যের জন্য এই রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। রেজিস্ট্রেশন ভুক্ত সকল জনসাধারণকে খাবার পৌঁছে দেওয়া হবে দুবাই শাসকের পক্ষ থেকে।

এদিকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে বাংলাদেশ দূতাবাস, দুবাই কনস্যুলেট বাংলাদেশ কমিউনিটি কে নিয়ে করোনার প্রাদুর্ভাবে খাদ্যসংকটে পড়া প্রবাসী বাংলাদেশীদের ধারাবাহিকভাবে খাদ্য সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।

ইতিমধ্যে বাংলাদেশ দূতাবাস, বাংলাদেশ কনস্যুলেট দুবাই ও বাংলাদেশ কমিউনিটি মিলে ১২ হাজার প্রবাসী বাংলাদেশীকে খাদ্যদ্রব্য সহায়তা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

এই সহায়তায় নির্দিষ্ট কিছু সংগঠন ও পরিচিত বিত্তবান প্রবাসী বাংলাদেশী এগিয়ে আসলেও অসংখ্য বিত্তবান প্রবাসী বাংলাদেশী ব্যবসায়ীরা এই মহা সংকটকালে চুপচাপ রয়েছে।

সচেতন মহলের দাবি প্রবাসী বাংলাদেশিদের সংকট গোছাতে এসব বিত্তবান প্রবাসী বাংলাদেশীদের এগিয়ে আসা উচিত।

দুবাই বাংলাদেশ কনস্যুলেটে নিযুক্ত কনসাল জেনারেল ইকবাল হোসাইন খান জানান, আমাদের কাছে যে পরিমাণ খাদ্যের চাহিদা রয়েছে সেই পরিমাণ রসদ আমাদের কাছে নেই। ইতিমধ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পাঠানো বরাদ্দ এবং মহৎ উদারপ্রাণ কিছু বাংলাদেশী প্রবাসীর সহায়তার ফলে প্রায় ১২ হাজারের ওপর প্রবাসী বাংলাদেশীকে সহায়তা করতে পেরেছি।

তিনি বলেন যে পরিমাণ বিত্তশালী বাংলাদেশী সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাস করছেন তাদের আন্তরিক সহযোগিতা থাকলে বর্তমান পরিস্থিতিতে কর্মহীন খাদ্য সংকটে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিরা কোন ভাবে কষ্ট পাওয়ার কথা না।

তাই আমি আশা করব করোনা ভাইরাস এর মতন মহামারীর দুর্যোগ কাটিয়ে উঠতে এবং সংকটে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশীদের কে সংকটমুক্ত করতে এসব প্রবাসীরা আন্তরিকভাবে এগিয়ে আসবেন।

আরো পড়ুন