ত্রাণ নয়, টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণেই পরিত্রাণ-

স্বীকৃতি বিশ্বাসঃ

দক্ষিণ- পশ্চিম ও দক্ষিণ – পূর্ব এলাকার সীমান্তবর্তী সাতক্ষীরা, বাগেরহাট,খুলনা,পটুয়াখালী, বরিশাল,ভোলা,বরগুনা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার,নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুরসহ সমূদ্র তীরবর্তী এলাকার সকল জনগণের জীবনের অধিকাংশ সময় চলে যায় ঘূর্ণিঝড়,বন্যা, জলোচ্ছ্বাস, স্বায়ী জলাবদ্ধতা ও সমূদ্রের লোনাপানির সাথে সংগ্রাম করে অথই সাগরে ভাসতে ভাসতে।জীবনে সুখ নামক পাখিটি যেন অধরা থেকেই যায়।জীবনের সহায় সম্বল ঘরবাড়ি, পুকুর,মাছের ঘের,গবাদিপশু, হাঁসমুরগী,গাছপালাসহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র হারাতে হয়।শুধু কি তাই অনেক সময় প্রাণের অধিক প্রিয় মা হারায় সন্তানকে,সন্তান হারায় মাকে। হারাতে হারাতে এক সময় নিজের জীবনের মায়াটাই শেষ হয়ে যায়। জীবনে বেঁচে থাকার মানেই খুঁজে পায় না।

আইলা আসে সিডর যায়, আম্ফান যায় ইয়াস আসে কিন্তু তাদের জীবন ঘিরে যে সমূদ্র তীরবর্তী উপকূলীয় বেড়িবাঁধ গুলো আছে তা সংস্কার হয় না।শুধু ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী কিছুদিন সরকারি ত্রাণ দিয়েই শেষ। ত্রাণ নিয়ে মানুষের পরিত্রাণ হয় না।তাদের জীবনটা যে বেড়িবাঁধের সাথে, সমূদ্র তীরবর্তী প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে বাঁধা আছে সেই প্রাণ ভ্রমরার মুক্তি মেলে না।

সবই গল্প কথার মতো থেকে যায় বছরের পর বছর ধরে। দূর্যোগ পরবর্তী সময় অনেক অনেক আসার বাণী শোনায় রাজনৈতিক নেতা,স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ সরকারের পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ প্রকৃতি ও পরিবেশ নিয়ে কাজ করা জিও ও এনজিও।কিন্তু দূর্যোগ পরবর্তী কিছুদিন যেতে না যেতে সবাই কথার কথা হয়ে থেকে যায়।মুক্তি মেলে না কিছুতেই।

আর তাই এবারে সমূদ্র তীরবর্তী এই সকল লোনাপানির লবণাক্ততায় জীর্ণ শীর্ণ রোগাক্লিষ্ট মানুষের একটাই দাবি ” ত্রাণ নই, টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে চায় পরিত্রাণ।”

আরো পড়ুন