ঢালচরের নদী ভাঙ্গুলী পরিবারদের  মাথা গোজাঁর ঠাই নেই

আইচা প্রতিনিধি।। বর্ষা মৌসুমে নদী ভাঙ্গনের ফলে ৯টি ওয়ার্ডের ১৭ হাজার জন বসতি অধ্যুষিত ৬টিই নদী গর্ভে বিলীন হওয়ার কারনে ভিটেমাটি হারিয়ে চরের বাসিন্দারা দিশেহারা হয়ে পড়েছে। বারবার ধর্না দিচ্ছে একটু মাথা গোজাঁ ঠাইয়ের জন্য। সরকারী চাল,গম, আটা, শাড়ী, লুঙ্গি কিছুই দরকার নাই আমাগোরে এক টুকরা জমি  দেন মাথা গোজার মত। ঢালচরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া  মেঘনার  পেটে ৪ বার ঘর বাড়ি সহ আমার সকল সম্পত্তি  গেছে। এখন আর  কোথাও গিয়ে জমি  কেনার মত সামর্থ নাই। ঢালচর ইউনিয়নের সাবেক ২ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা সাহেব আলী মিয়াজী (৭০) এ কথা গুলো বলেন। তিনি আরও বলেন, ৪৫ বছর ধরে ঢালচরে বসবাস করে আসছি।  ঢালচরে ব্রিটিশদের তৈরি করা বড় বড় বিল্ডিং ছিল। মৎস্য বন্দর হিসেবে ঢাকা, চাঁদপুর  থেকে ব্যবসায়ীরা এসে এখানে মাছের ব্যবসা করেছে। আগুনে পুড়লে ভিটে মাটি থাকে আমাদের তা ও নাই। এরপর  কোথায় যাব এ নিয়ে মানুষের দ্ধারে দ্ধারে ঘুরছি এক টুকরা জমি পাওয়ার আশায়।

একই এলাকার সাইফুল ইসলাম (৫০) জানান, নদীতে মাছ ধরে সংসার চালাই, এখান  থেকে চলে  গেলে কি করবো ? নদীতে বারবার ভাঙ্গলে ও ঢালচরেই থাকতে হবে।

মো. ফিরোজ (২৬) জানান, ঢালচরেই তার  জন্ম  শৈশব,কৈশর কাটিয়ে যখন সংসারের দায় ঘাড়ে  চেপেছে তখন  মোকাবিলা করতে হচ্ছে বারবার নদী ভাঙ্গন পরিস্থিতি । পৈর্তৃক  শেষ সম্পত্তি নদীতে যাওয়ার পর  আর  কোন   জায়গা  নেই আশ্রয় নেয়ার মত। আমির  হোসেনের স্ত্রী তাসনুর  বেগম জানান, আমরা এক টুকরা জমি চাই মাথা গোজাঁর জন্য ।

 

ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার দক্ষিণ আইচা থানার আওতাধীন ১৯ নং ঢালচর ইউনিয়নের প্যানেল  চেয়ারম্যান শাহজাহান মিয়া জানান, অনেকে জীবন বাচানোর জন্য মাটির মায়া ত্যাগ করে চলে  গেছেন। আবদুল হক পাটওয়ারী জানান, হাওলাদার বাজারটি ৩ বছর আগে গড়ে ওঠলেও  মেঘনা  থেকে মাত্র ৫০ গজ অদুরে রয়েছে।

ঢালচর ইউনিয়নের  চেয়ারম্যান আবদুস সালাম হাওলাদার  বলেন, ” চরফ্যাশন উন্নয়ন” শীর্ষক ২০১৫-১৬ সাল এর জরিপ অনুয়াযী ঢালচরের আয়তন ছিল ৩১.৩১ বর্গ কিলোমিটার । ভাঙ্গনের ফলে বর্তমানে দাড়িয়েছে  তিন একাংশে  । আমি নির্বাচিত হওয়ার পর  থেকে নদী ভাঙ্গন  রোধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা পর্যায়ে প্রতিটি মাসিক উন্নয়ন সভায় তুলে ধরেছি। সংসদ সদস্য সাবেক বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব এর নিকট ঢালচর বাসীর পক্ষে অনুরোধ করেছি। তারুয়া ও পুর্ব ঢালচরে ২৭২৭ একর পতিত জমি নদী  ভাঙ্গুলী পরিবারদের বন্দোবস্ত দিলে তারা মাথা গোজাঁর মত সুযোগ পেত।

 

জেলা প্রশাসক ভোলা  মাসুদ আলম বলেন, ঢালচরের নদী ভাঙ্গুলী পরিবারদের পুর্নবাসনের জন্য  ব্যবস্থা  প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন   উপকুল নিউজকে   জানান, পরিবেশ ও ভুমি মন্ত্রণালয়ে চিঠি প্রেরণ করা হয়েছে অনুমোদন সাপেক্ষে সব পরিবার গুলোর আবাসন নিশ্চিত করা যাবে। এছাড়া প্রাথমিক পর্যায়ে একটি গুচ্ছগ্রাম তৈরি করা হয়েছে।

আরো পড়ুন