ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতৃত্বে

আলোচনার শীর্ষে যারা

নিজস্ব প্রতিনিধি: দীর্ঘ ১৪ বছর পর আগামী ১১ ই নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অন্যতম সহযোগী সংগঠন আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সম্মেলন।

দীর্ঘদিন সম্মেলন না হওয়ায় অনেক ত্যাগী নেতা কর্মীরা হতাশ হয়ে পড়েছিল। কিন্তু এবার সম্মেলনের তারিখ ঘোষণার পর থেকে দেখা যাচ্ছে তাদের মধ্য উৎসাহ উদ্দিপনা। এত দিন যারা সংগঠনের জন্য কাজ করেনি, সে রকম অনেকেই পদ প্রত্যাশী হিসেবে এখন মাঠে নেমেছে।

সম্মেলনকে কেন্দ্র করে এখন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক লীগের যে সব নেতাদের নাম আলোচনার শীর্ষে রয়েছে। তারা এখন সংগঠনের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ ও প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এবার যারা পদ প্রত্যাশী তাদের প্রত্যেকের অতীত ও বর্তমান কর্মকান্ডকে নজরে রাখছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। বিশেষ করে যুবলীগের ক্যাসিনো কান্ডের পরে যাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অপকর্মে জড়িত থাকার অভিযোগ আছে, তারা অনেকটাই ছিটকে পরতে পারেন সংগঠনের নেতৃত্ব থেকে।

সূত্র জানায় সৎ, শিক্ষিত,পরিশ্রমি ,দক্ষ সংগঠক ও ক্লিন ইমেজের আওয়ামী পরিবারের সন্তান এবং সাবেক ছাত্রনেতা যারা সংগঠনের জন্য শ্রম ও ত্যাগ করেছেন তাদের মধ্যে থেকে নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে। তবে নবীন-প্রবীণের মেলবন্ধনে স্বেচ্ছাসেবক লীগে একটি স্বচ্ছ নেতৃত্ব আনবেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। তার সিদ্ধান্তই হবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।

আসন্ন সম্মেলনকে ঘিরে এরই মধ্যে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য আলোচনা আছেন বেশ কয়েকজন প্রার্থী।

সভাপতি প্রার্থী হিসেবে দৌড়ে যারা এগিয়ে আছেন তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ হাওলাদার। এ ছাড়া সভাপতি পদে বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান টিটুর প্রার্থী হওয়ার গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।

তবে তার বিষয়ে ইতিমধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত করছেন বলে শোনা যাচ্ছে। এছাড়াও তার ছোট ভাই নাদিম ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের মহানগর দক্ষিণ যুবলীগ কমিটির সাংস্কৃতিক সম্পাদক ছিলেন ।

ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের সাথে আরিফুর রহমান টিটুর সখ্যতা ও ঘনিষ্ঠতা ছিল। ইতিমধ্যে বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, যা সংগঠনের জন্য লজ্জাজনক।

সভাপতি পদে আরো আলোচনায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি কামরুল হাসান রিপন।

যিনি বিআইডব্লিওটিএ এর ঠিকাদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক মনোনিত হয়েছেন ইসমাইল চৌধুরীর সম্রাট ও কাউন্সিলর মমিনুল হক সাঈদের হাত ধরে।তাদের সাথে তার ছিল বেশ সখ্যতা।এ ছাড়াও তার বিরুদ্ধে রয়েছে টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ সহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ, যা দলের জন্য বিব্রতকর।

অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে যাদের নাম আলোচনার শীর্ষে রয়েছে তারা হলেন সাবেক মহানগর ছাত্রলীগ নেতা ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক তারিক সাঈদ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য শেখ আনিসুজ্জামান রানা। আরো আলোচনায় রয়েছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো: আসাদুজ্জামান আসাদ।

পাশাপাশি সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আরো নাম শোনা যাচ্ছে, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবিএম আহম্মদ উল্যাহ পপ্পি, মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক লীগের দপ্তর সম্পাদক খন্দকার তৌহিদুল ইসলাম সোহাগ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রচার সম্পাদক মির্জা মুর্শেদুল আলম মিলন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক লীগের ত্রাণ ও দুযোর্গ বিষয়ক সম্পাদক শাহিনুর রহমান শাহিন।

সংগঠনের সকল তৃণমুল ত্যাগী ও পরিচ্ছন্ন নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, সংগঠনের কার্যক্রম কে আরোও গতিশীল করতে সংগঠনের মধ্যে থেকে সৎ, শিক্ষিত, সাবেক ছাত্রনেতা, ত্যাগী ও পরিশ্রমীদের মধ্যে থেকে আগামী সম্মেলনে সভাপতি সাধারণ সম্পাদক মনোনীত করা হোক। তাহলেই সংগঠন আরো গতিশীল, প্রাণবন্ত ও উজ্জীবিত হবে।

আরো পড়ুন